• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা শার্শার যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অপরাধের পাহাড়: কেশবপুরে উন্নয়নের নামে ১৫ কোটি টাকার হরিলুট ও সাবেক এমপির ‘রাজত্বে’ দুর্নীতির মহোৎসব

নাজমুল হাসান চিফ ইন এডিটর / ১৫৯ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

 

অপরাধের পাহাড়: কেশবপুরে উন্নয়নের নামে ১৫ কোটি টাকার হরিলুট ও সাবেক এমপির ‘রাজত্বে’ দুর্নীতির মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, কেশবপুর

একজন সংসদ সদস্যের যতটুকু অপরাধ করা সম্ভব, তার প্রায় সবকটি অভিযোগই এখন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাবেক এমপি খন্দকার আজিজের বিরুদ্ধে। সড়ক উন্নয়নের ১৫ কোটি টাকার ঘাপলা তো কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র; অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে নিয়োগ বাণিজ্য, জমি দখল, টেন্ডারবাজি এবং ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার রুদ্ধশ্বাস সব কাহিনী। কেশবপুরের আকাশ-বাতাস এখন এই সাবেক এমপির গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে উত্তাল।

১. উন্নয়নের আড়ালে মেগা-দুর্নীতি
সড়ক উন্নয়নের ১৫ কোটি টাকার সিংহভাগই লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে যে সড়কগুলোকে ‘চমৎকার’ দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেগুলো এখন খানাখন্দ আর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিম্নমানের ইট ও বিটুমিন ব্যবহার করে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা সরাসরি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের পকেটে ঢোকানোর অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট।

২. নিয়োগ বাণিজ্যের ‘মাস্টারমাইন্ড’
কেশবপুরের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি দপ্তরে পিয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ—সবখানেই ছিল এমপির নির্দিষ্ট রেট। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নিয়োগ থেকে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করা হতো। যারা টাকা দিতে পারেনি, মেধা থাকা সত্ত্বেও তাদের কপালে জোটেনি চাকরি।

৩. টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছোট-বড় সকল কাজ নিয়ন্ত্রণ করতো এমপির নিজস্ব একটি ‘হেলমেট বাহিনী’। অন্য কোনো ঠিকাদারকে টেন্ডার ড্রপ করতে দেওয়া হতো না। প্রতিটি কাজ থেকে শুরুতেই ১৫-২০ শতাংশ কমিশন এমপির দফতরে পৌঁছে দিতে হতো।

৪. সাধারণের জমি ও সরকারি খাস জমি দখল
ক্ষমতার দাপটে অসহায় মানুষের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি দখলের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া এলাকার নদী, খাল এবং সরকারি খাস জমি লিজ দেওয়ার নামে নিজের অনুসারীদের হাতে তুলে দিয়ে সেখান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

৫. রাজনৈতিক নিপীড়ন ও ক্যাডার রাজত্ব
বিরোধী মতকে দমন করতে তিনি ব্যবহার করতেন নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, নিজ দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদেরও তিনি লাঞ্ছিত করেছেন বলে ক্ষোভ রয়েছে। থানায় মামলা নিয়ন্ত্রণ করা, ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করা এবং সালিশ-বিচারের নামে সাধারণ মানুষকে আর্থিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ তার আমলের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ছিল।

৬. মাদক ও চোরাচালানে পরোক্ষ মদত
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার সুবাদে কেশবপুর ও আশপাশ এলাকায় মাদকের যে বিস্তার, তার পেছনে এমপির ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের হাত রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। মাদক সিন্ডিকেটগুলো থেকে নিয়মিত বখরা সরাসরি এমপির ক্যাশিয়ারের কাছে জমা হতো।

জনসাধারণের দাবি: অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেশবপুরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সর্বত্রই এখন খন্দকার আজিজের অপরাধের গল্প। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা উন্নয়ন চেয়েছিলাম, লুটপাট নয়। ১৫ কোটি টাকা চুরির বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, “একজন জনপ্রতিনিধি যখন রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেন, তখন সমাজের কাঠামো ভেঙে পড়ে। খন্দকার আজিজের অপরাধের তালিকা এত দীর্ঘ যে, এর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি রেহাই পাবেন না।”

প্রশাসনের বক্তব্য: এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। সড়ক বিভাগের অনিয়ম ও অন্যান্য দুর্নীতির বিষয়ে নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”


More News Of This Category
bdit.com.bd