অন্তিম শয়ানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী
মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া
স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেমে এলো গভীর শোকের ছায়া। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার আপোষহীন সংগ্রামের প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ অন্তিম শয়ানে শায়িত। তাঁর প্রয়াণে জাতি হারালো এক সাহসী রাষ্ট্রনায়ককে, গণতন্ত্র হারালো তার এক অকুতোভয় প্রহরীকে।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য উচ্চতার নাম। ক্ষমতার মোহ নয়, বরং জনগণের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো আপোষ করেননি অন্যায় ও স্বৈরশাসনের সঙ্গে। এজন্য তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে সীমাহীন নির্যাতন, কারাবরণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে রাজনীতিতে এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন দৃঢ়চেতা ও জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিটি সংগ্রামে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। জনগণের ভালোবাসা আর আস্থাই ছিল তাঁর শক্তির প্রধান উৎস।
বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের বড় একটি অধ্যায় কেটেছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও তাঁকে রাখা হয়েছিল অমানবিক পরিবেশে। চিকিৎসা বঞ্চনা, নিঃসঙ্গতা এবং মানসিক চাপ—সবকিছু সহ্য করেও তিনি কখনো নীতিগত অবস্থান থেকে সরে যাননি। কারাগারেও তিনি ছিলেন অবিচল, আপোষহীন ও দৃঢ়।
গণতন্ত্রের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও অটল। তিনি বিশ্বাস করতেন—জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, আর ভোটাধিকারই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কথা বলেছেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি যেমন দৃঢ় ছিলেন, তেমনি মানবিক দিক থেকেও ছিলেন সংবেদনশীল। দেশের দরিদ্র, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি তাঁর সহমর্মিতা ছিল গভীর। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিও তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ পোষণ করেননি—যা তাঁকে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
আজ তাঁর নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ—রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সাধারণ জনগণ, নারী সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম। শোকাহত বাংলাদেশ স্মরণ করছে এক সংগ্রামী নেত্রীকে, যিনি নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষ করেননি।
অন্তিম শয়ানে শায়িত হলেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিরজাগরুক থাকবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে। তাঁর আদর্শ, সাহস ও ত্যাগ আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে।
বাংলাদেশ হারালো এক অবিভাজ্য অধ্যায়—
কিন্তু ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।