• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ: ২৪ ঘণ্টার আইনি আলটিমেটাম, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে সতর্ক করল সীমান্তরক্ষী বাহিনী হাসিনাপুত্রের সঙ্গে এক হওয়ার মিথ্যা ন্যারেটিভ ছড়িয়েছে আমার দেশ’: ফেসবুক পোস্টে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাশেদ খানের ক্ষোভ গৌরনদী উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়ার গণসংযোগ: জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা রাজপথের রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকে জনসেবায় আসার প্রত্যয়; মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ, অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার একটি স্বপ্নবাজ পাখি উড়ে গেল আকাশে তাহসিফ সাউরীর মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবিতে সরব বন্ধু ইন্তিসার ইনজিমাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ: ইউজিসির তদন্তে একাধিক অভিযোগের সত্যতা না মেলায় অধ্যাপক মোজাম্মেল হকের পেশাগত মর্যাদা ও অবস্থান পুনর্মূল্যায়নে সরকারি বাসা ভাড়া বা সাবলেট দিলেই বরাদ্দ বাতিল, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া সরানোর চূড়ান্ত নির্দেশ বেনাপোলে ছাত্রদল নেতাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি, প্রবাসে স্বামী, অন্যত্র সম্পর্কের অভিযোগ: কালীগঞ্জে নারী ও মাদ্রাসাশিক্ষক আটক, কারাগারে পাঠানোর দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য

চাঁদামুক্ত সংগঠন গড়ার ঘোষণা ‘আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের’: অর্থ নয়, মর্যাদা ও জনসেবাই হবে সদস্যপদের ভিত্তি

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ৩১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

 

বাধ্যতামূলক সদস্য ফি ও মাসিক চাঁদার পরিবর্তে স্বেচ্ছা সহযোগিতার নীতি; প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষার পাশাপাশি একটি চাঁদামুক্ত, অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ‘আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ’ (International Remittance Juddah Shonshod)। সংগঠনটির ঘোষিত নীতিতে বলা হয়েছে, সদস্যপদ লাভ বা সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক সদস্য ফি, মাসিক চাঁদা, বার্ষিক চাঁদা কিংবা নির্ধারিত হারে অন্য কোনো অর্থ প্রদান করতে হবে না। অর্থের বিনিময়ে নয়, বরং আদর্শ, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ, স্বেচ্ছাসেবা ও জনকল্যাণে অবদানের ভিত্তিতে সদস্যদের মূল্যায়ন করা হবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, দেশের স্বার্থ, জনগণের ন্যায্য অধিকার এবং বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত এবং মানবিক উপায়ে কাজ করাই তাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমে আর্থিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সদস্যদের মধ্যে সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ঘোষণায় সংগঠনটির মূল দর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—কোনো ব্যক্তি অর্থ দিতে না পারলেও তিনি সংগঠনের সম্মানিত সদস্য হিসেবে কাজ করতে পারবেন। আর্থিক সামর্থ্যের কারণে যেন কেউ সংগঠনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, কিংবা তাঁর মতামত ও অবদানকে কম গুরুত্ব দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

বাধ্যতামূলক চাঁদা নয়, স্বেচ্ছা সহযোগিতার নীতি

আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের নীতি হবে—‘No Compulsory Subscription — Voluntary Support Only’। অর্থাৎ, সংগঠনের বৈধ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনে কেউ চাইলে নিজের ইচ্ছায় স্বেচ্ছা অনুদান দিতে পারবেন। তবে এ অনুদান কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক হবে না এবং কাউকে অর্থ দিতে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সদস্যদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি করা, অনুদান না দিলে সদস্যপদের মর্যাদা কমিয়ে দেওয়া কিংবা অর্থ প্রদান না করার কারণে কাউকে সংগঠনের সেবা ও কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করার নীতি তারা অনুসরণ করবে না।

এ ক্ষেত্রে সংগঠনটি চাঁদা ও স্বেচ্ছা অনুদানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। তাদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত হারে বা চাপ সৃষ্টি করে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ আদায় করা চাঁদার পর্যায়ে পড়ে। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার শর্ত ছাড়া এবং সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় সংগঠনের বৈধ জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ সহায়তা করলে সেটিকে স্বেচ্ছা অনুদান হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সংগঠনটির ঘোষিত অবস্থান হলো, অর্থের পরিমাণ দিয়ে কোনো সদস্যের গুরুত্ব নির্ধারণ করা হবে না। বরং মানুষের কল্যাণে তাঁর সময়, শ্রম, অভিজ্ঞতা, পরামর্শ, সততা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ধনী-গরিব নির্বিশেষে সদস্যদের সমান মর্যাদার অঙ্গীকার

সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনের কার্যক্রমে অর্থের প্রভাব যেন নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা সদস্যদের মর্যাদার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি না করে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ।

ঘোষণায় সংগঠনটির দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট এএনএম ইসা সাহেবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দর্শন হিসেবে তুলে ধরা বক্তব্যে বলা হয়েছে, যে সংগঠন মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলে, সেই সংগঠনে অর্থের কারণে যেন কোনো মানুষের অধিকার কমে না যায়।

এই নীতির আলোকে সংগঠনটি জানিয়েছে, একজন বিত্তশালী সদস্য এবং একজন স্বল্প আয়ের সদস্যের মর্যাদা সমান হওয়া উচিত। কেউ বেশি অর্থ সহায়তা করেছেন বলে তিনি অতিরিক্ত ক্ষমতা বা বিশেষ সুবিধার অধিকারী হবেন না। একইভাবে, কেউ অর্থ দিতে পারেননি বলে তাঁর মতামত, অধিকার কিংবা সাংগঠনিক অবদানকে ছোট করে দেখার সুযোগ থাকবে না।

বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের অভিজ্ঞতা, বাস্তব সমস্যা এবং জীবনসংগ্রামকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের নীতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংগঠনটির ঘোষণায় প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

## অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি

যেকোনো জনকল্যাণমূলক সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ স্বেচ্ছা অনুদানের অর্থ গ্রহণ, সংরক্ষণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ এবং জবাবদিহির নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার করেছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অর্থ সহায়তা করলে সেই অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। কী উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা অর্থ গ্রহণের আগেই পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি কত টাকা এসেছে, কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এবং কোনো প্রকল্পে কত অর্থ অবশিষ্ট রয়েছে, তারও রেকর্ড রাখতে হবে।

সম্ভব হলে সংগঠনের অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, সংগঠনের নামে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ গ্রহণ নিরুৎসাহিত করার নীতিও ঘোষণায় উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি প্রকল্প শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের নীতি অনুসরণের কথাও বলা হয়েছে।

সুশাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংগঠনের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বেচ্ছা অনুদানদাতাদের মধ্যে আস্থা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ঘোষণায় বর্ণিত নীতিগুলোর বাস্তব প্রয়োগ, হিসাব প্রকাশের নিয়মিততা এবং তদারকির কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে, তা সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মূল্যায়িত হবে।

## সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বাধ্যতামূলক অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সতর্কতা

আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সংগঠনের নাম, পদবি, লোগো কিংবা পরিচয় ব্যবহার করে বাধ্যতামূলক চাঁদা দাবি করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে জোরপূর্বক অর্থ দাবি করলে সেটিকে সংগঠনের অনুমোদিত কার্যক্রম হিসেবে গণ্য করা হবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের প্রমাণসহ কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রতারণা, জবরদস্তি, চাঁদাবাজি কিংবা বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাউকে নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির এই ঘোষণার মাধ্যমে সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনুমোদন, উদ্দেশ্য ও হিসাবের স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় গুরুত্ব

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন এবং দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রবাসী আয়ের অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশিকে কর্মপরিবেশ, বেতনসংক্রান্ত জটিলতা, চুক্তির শর্ত, আবাসন, নিরাপত্তা এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।

আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ তাদের ঘোষণায় এসব প্রবাসীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যা তুলে ধরা, জনসচেতনতা তৈরি, মানবিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ এবং আইনসম্মত উপায়ে অধিকার রক্ষার প্রচেষ্টা তাদের কার্যক্রমের অংশ হতে পারে।

তবে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ যাচাই, সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শের ব্যবস্থা এবং সহায়তাপ্রার্থীদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার মতো বিষয়েও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রম কোন দেশে কীভাবে পরিচালিত হবে এবং প্রবাসীদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কী হবে, তা স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ।

অরাজনৈতিক অবস্থান ও আইনসম্মত কার্যক্রমের ঘোষণা

সংগঠনটি নিজেদের সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, চাঁদামুক্ত ও জনকল্যাণমুখী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, দেশের স্বার্থ, জনগণের ন্যায্য অধিকার এবং প্রবাসীদের কল্যাণে শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও মানবিক পদ্ধতিতে কাজ করা হবে।

এ ধরনের অবস্থান বাস্তবে কার্যকর করতে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ম, নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি, সদস্যদের দায়িত্ব এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সংগঠনটি তাদের ঘোষিত নীতির মাধ্যমে অর্থনির্ভর নেতৃত্বের পরিবর্তে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত প্রভাবের পরিবর্তে সমমর্যাদা এবং বাধ্যতামূলক অর্থ সংগ্রহের পরিবর্তে স্বেচ্ছাসেবাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

অর্থের চেয়ে মানুষের সময়, শ্রম ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব

সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া আহ্বানে দেশের কল্যাণ, জনগণের কল্যাণ এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ন্যায্য স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, সংগঠনটি কারও কাছ থেকে বাধ্যতামূলক অর্থ চায় না। বরং মানুষের সময়, অভিজ্ঞতা, পরামর্শ, শ্রম ও আন্তরিক অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে চায়। কেউ নিজের ইচ্ছায় সহযোগিতা করতে চাইলে তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রেখে স্বেচ্ছা অনুদান হিসেবে গ্রহণ করার নীতি অনুসরণ করা হবে।

এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি এমন একটি সাংগঠনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়েছে, যেখানে অর্থের সামর্থ্য নয়, বরং কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও মানুষের কল্যাণে অবদানই হবে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।

‘চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়

আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ঘোষণায় চাঁদামুক্ত সংগঠন, চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব, স্বচ্ছ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং প্রবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার বিষয়গুলোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সংগঠনটির ঘোষিত অঙ্গীকারের সারকথা হলো—সদস্যপদ থাকবে চাঁদামুক্ত, সেবা হবে স্বেচ্ছামূলক এবং আর্থিক হিসাব হবে স্বচ্ছ। এ নীতির ইংরেজি প্রতিপাদ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘No Subscription, No Compulsory Collection. Voluntary Donation Only’।

ঘোষণার শেষাংশে একটি চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সংগঠনটির নীতিমালা বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্বের জবাবদিহি এবং প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

## প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তার পরিচিতি

সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত ঘোষণায় প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ও সংগঠক এবং সদস্য সচিব হিসেবে এম. এ. রউফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কাতার থেকে সংগঠনটির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দিয়েছেন।

এম. এ. রউফ (কাতার)
প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ও সংগঠক
সদস্য সচিব, International Remittance Juddah Shonshod

যোগাযোগ: 00974 66958035
ই-মেইল: roufnasrin@gmail.com

প্রকাশিত ঘোষণাটি সংগঠনটির নিজস্ব বক্তব্য ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংগঠনের নিবন্ধন, সাংগঠনিক কাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ঘোষিত কার্যক্রমের বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd