আহমদ রেজা, চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
সিলেট ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে যুক্তরাজ্যে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। প্রবাসের মাটিতে দুই অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইউকে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বীর চট্টলার কৃতি সন্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এবং সিলেটের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার জনাব মো. জামাল উদ্দিন আহমেদকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
জামাল উদ্দিন আহমেদ সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় স্থায়ী পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। প্রশাসনিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নরউইচে বসছে বিশেষ আয়োজন
আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬, সোমবার, যুক্তরাজ্যের নরউইচে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
আয়োজকদের দেওয়া কর্মসূচি অনুযায়ী, নরউইচের Tamarind Restaurants, Woodbastwick Road, Blofield, Norwich, NR13 4AB-এ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে আয়োজকদের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, অতিথি, শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এবং দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন
সিলেট ও চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দুটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রবাসী কমিউনিটিতে উভয় অঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
দেশের বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আঞ্চলিক পরিচয়ের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভূমিকা পালন করে আসছে।
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইউকের এই আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
তাঁদের মতে, প্রবাসে বসবাসরত দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পরিচিতি, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সম্মাননা পাচ্ছেন জামাল উদ্দিন আহমেদ
এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মো. জামাল উদ্দিন আহমেদকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান।
আয়োজকদের দেওয়া পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এবং সিলেটের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রশাসনিক জীবনে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বর্তমানে সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি যুক্ত রয়েছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও অনুষ্ঠানের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত।
আয়োজকদের ভাষ্য, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার প্রতি সম্মান জানাতেই তাঁকে এই বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির উদ্যোগ
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ কম পায়। এ কারণে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সিলেট ও চট্টগ্রামের মতো ঐতিহ্যবাহী দুটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তুলে ধরার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক বিনিময়, সামাজিক সহযোগিতা, শিক্ষা, মানবিক কার্যক্রম এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতি কামনা
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতি ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকরা।
তাঁরা আশা করছেন, নরউইচ ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রবাসী বাংলাদেশি এবং অন্যান্য শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
আয়োজকদের মতে, অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটির সৌন্দর্য ও গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য কোনো বিভাজন তৈরি করা নয়; বরং আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও পরিচয়কে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা।
সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষের ঐতিহ্য, আতিথেয়তা ও সামাজিক বন্ধনকে প্রবাসের মাটিতে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলেও তাঁরা আশা করছেন।
নেতৃত্বে যারা
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের দাওয়াতক্রমে রয়েছেন—
সোহেল ইসলাম
প্রেসিডেন্ট
গয়াছ মিয়া (গিয়াস)
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
মো. মাসুদুর রহমান
সেক্রেটারি
তাঁদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতি, সহযোগিতা ও আন্তরিক অংশগ্রহণ কামনা করা হয়েছে।
একটি আয়োজন, একটি বন্ধনের বার্তা
প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সামাজিক যোগাযোগকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।
একদিকে থাকছে একজন সাবেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে সম্মাননা প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা, অন্যদিকে থাকছে দুই অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে সামনে নিয়ে আসার প্রয়াস।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তথ্য
অনুষ্ঠান: বিশেষ সংবর্ধনা
সম্মাননা প্রাপক: মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ
আয়োজক: সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ইউকে
তারিখ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, সোমবার
সময়: সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট
স্থান: Tamarind Restaurants, Woodbastwick Road, Blofield, Norwich, NR13 4AB, যুক্তরাজ্য
শেষ কথা
সিলেট ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে প্রবাসে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সফল ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সম্মাননা প্রাপ্ত মো. জামাল উদ্দিন আহমেদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যও সফল হবে।
সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষের বন্ধুত্ব আরও গভীর হোক, প্রবাসে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বন্ধন আরও শক্তিশালী হোক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হোক—এমন প্রত্যাশায় এগিয়ে যাচ্ছে এই আয়োজন।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করছে এবং আয়োজক, অতিথি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাচ্ছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আহমদ রেজা
চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ