১৩ নং দিঘলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী জাবেদের মুক্তির দাবিতে জনমত উত্তাল
লক্ষ্মীপুরে ৫ আগস্টের ঘটনার জেরে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান কারাগারে, মিথ্যা মামলার অভিযোগে প্রতিবাদ জোরালো
লক্ষ্মীপুর সদর | জুলাই ২৮, ২০২৫
প্রতিবেদন: জয়নাল আবেদীন সজীব, স্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৩ নম্বর দিঘলী ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী জাবেদের মুক্তির দাবিতে এলাকায় ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাবেদ চেয়ারম্যানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের শিকার করে একটি মিথ্যা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা ৫ আগস্ট ছাত্র হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে দায়ের করা হয়।

আগামীকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার পরিবারের সদস্য, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জসীমউদ্দিন বলেন, “আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি, যেন আমার ভাই নির্দোষ প্রমাণিত হন ও জামিন পান।”
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের চিত্র
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, জাবেদ চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তা ও ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু প্রভাবশালী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই, বরং ওই সময় তিনি ব্যক্তিগত কারণে ইউনিয়নের বাইরে ছিলেন।
একজন গ্রামবাসী জানান, “আমাদের এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল জাবেদ ভাইয়ের সময়ে। এখন যেভাবে মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।”
মাদকের বিস্তার ও প্রশাসনের ভূমিকা
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে লক্ষ্মীপুর পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ মাদক ও সন্ত্রাস পরিস্থিতির কথা। ইয়াবা, গাঁজা, বিয়ারসহ নানা মাদকে এলাকাগুলো সয়লাব। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন এসব অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় তাদের কার্যক্রম চলতে দিচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা কিছু বললে গুম খুনের হুমকি আসে। যারা কথা বলছে, তারা নির্যাতিত হচ্ছে। একমাত্র সৎ লোকদের—যেমন জাবেদ ভাই—তাদেরকেই জেলে ঢুকানো হচ্ছে।”
রাজনৈতিক ঐক্য ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ
চেয়ারম্যান জাবেদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সমন্বয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হত। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতার লোভে একক আধিপত্য কায়েম করতে গিয়ে প্রতিহিংসা ছড়ানো হচ্ছে।
জসীমউদ্দিন আরও বলেন, “আমরা কারও শত্রু না, এই দেশ স্বাধীন করেছে আওয়ামী লীগ—কিন্তু সেই দলের জনপ্রিয় নেতাদের যদি মিথ্যা মামলায় জেলে পুরা হয়, তবে এটা কাদের শাসন?”
জনগণের প্রত্যাশা ও দোয়া
চেয়ারম্যান জাবেদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলেও জানা গেছে। তার পরিবার ও সমর্থকরা আশাবাদী যে আদালত তাকে ন্যায়বিচার দেবে। স্থানীয়দের দাবির মুখে পরিষ্কার—তারা আর ষড়যন্ত্র, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতির রাজনীতি চায় না।
“আমার ভাই জনগণের সেবা করেছে, উন্নয়ন করেছে। এই তার অপরাধ? আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, যেন দ্রুত মুক্তি পান”— বলেন তার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষেও একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রত্যাশা করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আমাদের প্রতিবেদক দল।