হাসিনার ‘সাইবার বাহিনী’র ছায়ায় নতুন ষড়যন্ত্র: হ্যাকার পোস্টে বোমা হামলার হুমকি, টার্গেটে হাসপাতাল-হোটেল
বিশেষ প্রতিবেদন | বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
ঢাকা | ২২ জুলাই ২০২৫
একটি ভুয়া ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সম্প্রতি একটি ভয়াবহ বার্তা পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি বোমা হামলা হবে এবং এর মূল টার্গেট হবে হোটেল ও হাসপাতালগুলো। পেজটির নাম—“Anonymous Main Page”, যা তথাকথিত হ্যাকার গ্রুপ “অ্যাননিমাস”-এর লোগো ও ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে।
এই পোস্টে বলা হয়:
> “A bomb will detonate in Bangladesh 🇧🇩 in a few weeks from today… Hotels and Hospitals are the major target!”
এমন একটি বক্তব্য সরাসরি সন্ত্রাসী হুমকি এবং গণআতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পিত চেষ্টা—যা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
কেন সন্দেহভাজন: শেখ হাসিনার 'সাইবার বাহিনী'?
বিশ্লেষক মহল ও সাইবার অ্যাক্টিভিস্টদের মতে, এই পেজটির পেছনে সরকারপন্থী একটি হ্যাকার গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে—যা শেখ হাসিনার সরকার দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে তথাকথিত “সাইবার ৭১”, “Awami Bot Cell”, “DGFI-backed influence networks” ইত্যাদির মাধ্যমে।
বিগত সময়ে:
ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে এই হ্যাকার বাহিনী গুজব ছড়িয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে বিরোধীদের লক্ষ্য করে সাইবার বিভ্রান্তি চালিয়েছে।
ভারতপন্থী ও সেনাপ্রধান-ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক দিয়ে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিকল্প ‘তথ্যসন্ত্রাস’ চালানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন দেখি, এই পোস্টে:
কমেন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে কেউ পাল্টা প্রশ্ন তুলতে না পারে।
পুরনো পেজ হ্যাক করে বা কিনে ভেরিফায়েড করা হয়েছে, যা সাইবার অপারেশনগুলোর পরিচিত পদ্ধতি।
টাইমিংটা এসেছে ঠিক তখনই, যখন সরকার পতনের দাবিতে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি প্রবল।
এই পোস্ট আসলে কীসের ইঙ্গিত দেয়?
১. ভয়ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে আন্দোলন দমন
বিরোধী আন্দোলনের সময় জাতিকে বিভ্রান্ত করতে এটি "ফলস ফ্ল্যাগ" অপারেশন হতে পারে।
২. বিদেশি শক্তিকে 'অবস্থান নেয়ার' সুযোগ দেওয়া
এমন বার্তার মাধ্যমে বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর ঘোরানো যায় এবং অভ্যন্তরীণ দমনপীড়নকে 'জাস্টিফাই' করা যায়।
৩. রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ভিত্তি তৈরি
আতঙ্কের মাধ্যমে বিরোধী দল ও মিডিয়ার ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপের অজুহাত খোঁজা হচ্ছে।

জনগণের করণীয় ও প্রতিক্রিয়া:
এই পোস্টটিকে কেউ বিশ্বাস করবেন না। এটি প্রমাণ ছাড়াই একটি মনগড়া ও ভীতিপ্রদ বার্তা।
সবাইকে অনুরোধ, পোস্টটির স্ক্রিনশট সহ বাংলাদেশের সাইবার অপরাধ দমন ইউনিটে রিপোর্ট করুন।
☎️ ৯৯৯ বা সাইবার ইউনিট ইমেইল: ctu@dmp.gov.bd
🔗 Facebook রিপোর্ট অপশন থেকে “Terrorism or Threat of Violence” নির্বাচন করে রিপোর্ট করুন।
যখন একটি স্বৈরাচারী সরকার গণআন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা গোপন হ্যাকার বাহিনী দিয়ে “সাইবার ট্রমা” ছড়ায়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার অতীতে যেমন বিরোধী কণ্ঠরোধে সেনা-ডিজিএফআই ও অনলাইন সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করেছে, এবারও সে রকম একটি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশের জনগণ এখন যথেষ্ট সচেতন—ভুয়া ‘হুমকি’র খোলসে গুজব আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর গোপন থাকবে না।
আমরা সতর্ক, সংবেদনশীল ও সোচ্চার।