
মো: সাহেদ উদ্দিন হাতিয়া নোয়াখালী প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নোয়াখালীর হাতিয়ায় গণ জমায়েত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ও পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ উদ্যোগে বুধবার দুপুরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
উপজেলা শহরের উত্তর পাশে হোটেল রেড’সির সামনে থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি দ্বীপ সরকারি কলেজ গেইটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম আদনান, সদস্য সচিব সুমন তালুকদার, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব খন্দকার সোহেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ওসমান, আমির আল কাউছার ও পৌরসভা যুগ্ম আহ্বায়ক রেদওয়ানুর রহমান রাসেল প্রমুখ।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণ জমায়েত ও আলোচনা সভা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আগামী দিনের রাজনীতির জন্য একটি কৌশলগত ইঙ্গিত বহন করছে। বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সক্রিয়তা ও ঐক্যের বার্তা দিয়েছে।

হাতিয়া একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ উপজেলা। এখানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য দলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সবসময় তীব্র। স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো একটি অঙ্গসংগঠন যখন শত শত নেতাকর্মী নিয়ে র্যালি ও সভা করে, তখন তা প্রমাণ করে যে—হাতিয়ায় বিএনপি সংগঠন এখনও শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে।নতুন প্রজন্মের নেতারা ধীরে ধীরে মাঠে সক্রিয় হচ্ছে।আওয়ামী লীগের দমননীতি ও দীর্ঘমেয়াদি শাসন সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধী আন্দোলনের সম্ভাবনা টিকে আছে।
সমাবেশে উপজেলা আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম আদনান, সদস্য সচিব সুমন তালুকদারসহ একাধিক নেতার বক্তব্যে মূলত তিনটি বার্তা উঠে এসেছে:
১) তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য।
২) গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অপরিহার্য।
৩) স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা ও কর্মী সংগঠনের প্রতি গুরুত্বারোপ।
এতে স্পষ্ট যে, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এখন উপজেলা পর্যায়েও প্রতিফলিত হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের মাধ্যমে হাতিয়ার বিএনপি নেতারা মূলত আসন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাদের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে—
আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাব এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ।দীর্ঘদিনের আন্দোলনে কর্মীদের হতাশা কাটিয়ে মনোবল দৃঢ় রাখা।দলীয় কোন্দল এড়িয়ে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখা।
হাতিয়ার এই কর্মসূচি দেখিয়ে দিল যে, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো এখনো জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে মাঠে টিকে আছে। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্থানীয় আন্দোলনের সাথে কার্যকর সমন্বয় করতে পারে, তবে আগামী দিনে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই গণ জমায়েত মূলত একটি বার্তা বহন করছে— হাতিয়ায় বিরোধী শক্তি এখনও সুসংগঠিত ও সক্রিয়। রাজনৈতিকভাবে এটি আগামী দিনের আন্দোলনের পূর্বাভাস, যা আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।