প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: Nazmul Hassan Nayan
তথ্য ও ছবি সূত্র: ফেসবুক ব্যবহারকারী আশিস হাসান
রাত ১টা ২৭ মিনিট। চারপাশে নীরবতা। বিছানার চাদর গুছাতে গুছাতে ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঠিক তখনই বেজে উঠল ফোন। স্ক্রিনে ভেসে উঠল পরিচিত এক নাম—এসআই হামিদ। বহুদিন আগের সহকর্মী, নীলফামারী জেলা থেকে ফোন করেছেন। গলায় এমন এক আনন্দ, যেন একটা যুদ্ধ জিতে ফিরেছেন।
তিনি জানালেন—তার ছেলে, সাজ্জাদ হোসেন সজীব, ৪৪তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
হ্যাঁ, যে বাবা ৮ম শ্রেণি পাশ করে কনস্টেবল পদে চাকরিতে ঢুকেছিলেন, আজ তার ছেলে এএসপি হচ্ছে। এটিই তো আসল গর্বের গল্প। এটিই তো বাংলাদেশ।
একদিন হামিদ বলেছিলেন, “স্যার, আমার ছেলে-মেয়েরা ভালো ছাত্র। কিন্তু টাকার অভাবে অনেক কিছু দিতে পারি না। মানুষ ভাবে, পুলিশ মানেই দুর্দান্ত ইনকাম। আমি এসব পারি না। আমি চাই, ওরা কম খাক, কম পড়ুক—তবু মানুষ হোক।”
এই কথাগুলো আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে। সেদিনই বুঝেছিলাম—এই মানুষটা ভিন্ন ধাতুতে গড়া।
বুকে জেদ, মনে সততা। ৮ম শ্রেণির সার্টিফিকেট নিয়ে কনস্টেবল হলেও পরবর্তীতে ডিগ্রী পাশ করেছেন, নিজের স্ত্রীকেও পড়াশোনা করিয়েছেন। আঠার মতো লেগে থাকা মানুষ তিনি। তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই, আর কেবল তিন বছর চাকরি বাকি।
এখন তার একটাই স্বপ্ন—বাপ-ছেলে এক ইউনিফর্ম পরে ডিউটিতে যাবেন। অফিসার-সালুট নয়, চাই একটি সন্তুষ্ট আত্মপ্রকাশ—হামিদদের মতো নির্লোভ মানুষদের জীবনের সবচেয়ে বড় পদক।
দেশে বসে যারা দেশপ্রেমের গান গায়, তারা নিজেদের সন্তানদের প্যাকিং করে দেয় আমেরিকান স্কুলে। তাদের সততা, দেশপ্রেম আর নিখুঁত হিপোক্রেসি মাঝে মাঝে সত্যিই মুগ্ধ করে।
আর একদিকে হামিদ, যিনি রাতভর পিকেট ডিউটি করে সকালে ছেলেকে কোচিংয়ে পাঠাতে চান। তিনিই সত্যিকারের 'হিরো', যদিও কখনও জাতীয় পুরস্কার পাবেন না। রাষ্ট্র তাকে মনে রাখবে না, কিন্তু ইতিহাস রাখবে।
৪৪তম বিসিএসে অংশগ্রহণকারী ৩,০২,৪৯০ প্রার্থীর মধ্যে ১৬১০তম পজিশনে পুলিশ ক্যাডারে জায়গা পেয়েছেন সজীব। এটা কেবল পিতার স্বপ্নপূরণ নয়, এটা পুরো নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ঘুরে দাঁড়ানোর জয়।
এই জয়টা ঠিক এমনই—যেখানে ঘাম, কষ্ট, অপমান আর অস্বীকারের চোরাবালিতে হেঁটে কেউ একজন বিজয়ের পতাকা গেঁথে রাখে।

সন্তান হিসেবে তুমি যদি একদিন বলতে পারো—"আমার বাবা হামিদ, আমার জীবনের নায়ক"—তবে বুঝতে হবে, তোমার জয় পূর্ণতা পেয়েছে।
হামিদ শুধু একজন বাবা নন, তিনি একজন দর্শন। প্রমাণ করে দিয়েছেন—চাকরি ছোট হতে পারে, মন বড় হলে সব সম্ভব।
এই বাংলাদেশটাই আমরা চাই। এখানে মেধা ও মূল্যবোধের জন্য জায়গা থাকুক। এখানে বাবারা সন্তানদের “নিখুঁত মানুষ” হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখুক।
আর রাষ্ট্র? রাষ্ট্র অন্তত এই মানুষগুলোর গল্প শুনুক। তাদের কাঁধে ভর করেই তো জাতির কাহিনি লেখা হলো।
ডেইলি প্রথম বাংলাদেশ
(সত্য, শ্রদ্ধা আর সাহসের কণ্ঠস্বর)
✅ আপডে
[x] সূত্র: ফেসবুক ব্যবহারকারী আশিস হাসান