স্বৈরাচার আওয়ামী শাসনে বেনাপোলের ত্রাস: ওয়াহেদুজ্জামান ওয়াহিদের একক রাজত্বে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকারও ছিল বিলাসিতা
তারিখ: ১ আগস্ট ২০২৫ | বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
যেখানে রাজনীতি হওয়ার কথা ছিল জনগণের কল্যাণে, সেখানে বেনাপোল ও শার্শা অঞ্চলে রাজনীতিকে ‘তাণ্ডবের লাইসেন্সে’ রূপান্তরিত করেছিলেন ওয়াহেদুজ্জামান ওয়াহিদ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে থেকে স্বৈরাচারী মনোভাব এবং ক্ষমতার দম্ভে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এক নিরঙ্কুশ ত্রাসের শাসন।
আওয়ামী লীগের নাম মুখে আনলেই নির্যাতন, জরিমানা, হাত-পা ভাঙা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কেউ যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সামান্যতম সমালোচনাও করত, তাকে ডেকে পাঠানো হতো পার্টি অফিসে—তাকে ‘শিক্ষা’ দিতে। সেখানে একপক্ষীয় কথিত বিচারে কেউকে লাখ লাখ টাকা জরিমানা, আবার কাউকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার মতো বর্বরতার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি অনেক পরিবার আজও এই দমননীতির আর্থিক ও মানসিক ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছে।
সিন্ডিকেট-ভিত্তিক অপরাধ: ওয়াহিদের ছত্রছায়ায় অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য
ওয়াহিদ শুধু নিজে অপরাধে জড়াননি, বরং তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এরা বন্দরের পণ্য খালাস, শ্রমিক নিয়োগ, মাদক পাচার থেকে শুরু করে জমি দখল, সরকারি বরাদ্দে ভাগ বসানো—সব কিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তার অনুমতি ছাড়া বেনাপোল বন্দরে যেন পাতাও নড়তো না।
মূর্খ বলশালী নয়, নির্লজ্জ অপরাধী
যার ন্যূনতম রাজনৈতিক শালীনতা থাকা উচিত, সেই ওয়াহিদ বেনাপোল ইউনিয়ন ও শার্শার রাজনীতিকে নামিয়ে এনেছেন ভয় আর লজ্জার গহ্বরে। মানুষ তাকে ভয় পায়, সম্মান করে না। তার উপস্থিতি মানে একটি ত্রাসের দিন শুরু, তার অনুপস্থিতি মানে একটু স্বস্তির নিশ্বাস।
প্রশ্ন উঠে: এখনো কেন ছাড় পাচ্ছে এই দানব?
স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনের পতনের পর জনগণ আশা করেছিল যে এখন ওয়াহিদদের বিচার হবে। কিন্তু এখনো প্রশাসনের নিরবতা এবং দুর্নীতি দমন সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা দেখে স্থানীয় মানুষ হতাশ। এই অবস্থায় জনমত আরও জোরালো হয়ে উঠছে—ওয়াহেদুজ্জামান ওয়াহিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও শাস্তি চাই।
গণতন্ত্র মানে নিরাপত্তা, না নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়া?
ওয়াহেদুজ্জামান ওয়াহিদের মতো ব্যক্তিরা ক্ষমতার আড়ালে থেকে গণতন্ত্রকে যে কীভাবে অপমান করে, তা বেনাপোল-শার্শার মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। এখন সময়—এই সকল ‘অপরাধের পোস্টারবয়’দের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং জনগণের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।