সুদি আলমের জ্বালায় অতিষ্ঠ বেতাগীবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে চড়া সুদের জালে বন্দি হয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজী নুরুল আলম প্রকাশ 'সুদি আলম'-এর দাপট, নির্যাতন ও সুদের চক্রবৃদ্ধি হারের চাপে পড়ে বহু পরিবার এখন ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার অসহায় দিনমজুর ও গরিব মানুষকে ফাঁদে ফেলে কয়েক গুণ বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়াই তার নিয়মিত পেশা।
পেশা যখন সুদের ব্যবসা ও অত্যাচার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবনের শুরুতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ট্রেনিংরত অবস্থায় পালিয়ে এসে অপরাধ জগতে পা রাখেন এই নুরুল আলম। পরবর্তীতে এলাকায় শুরু করেন দাদন ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, সামান্য ১০ হাজার টাকার সুদের বিপরীতে এক লাখ টাকা বা তারও বেশি টাকা আদায় করতেন তিনি। সুদের কিস্তি মেটাতে না পেরে ইতোপূর্বে স্ট্রোক করে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের ওপর জোর-জুলুম, অন্যায়ভাবে সম্পত্তি দখল, এমনকি মানুষের গৃহপালিত পশু হত্যার মতো নির্মম কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী নিজস্ব জায়গা-জমি বিক্রি করে তার সুদের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
দিনমজুরকে ঘরে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একই এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় দিনমজুর আব্দুস সালামকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন সুদি আলম। ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম জানান, তাকে ঘরে বন্দি করে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিছন থেকে আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় সোফায় লুটিয়ে পড়েন এবং টানা দুই ঘণ্টা অজ্ঞান হয়ে থাকেন। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকায় তার স্ত্রী ও ভাই খুঁজতে গিয়ে আলমের ঘরের ভিতর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে মুমূর্ষু অবস্থায় আব্দুস সালামকে উদ্ধার করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাটির বিচার চাইতে গেলে সুদি আলম উল্টো গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকি প্রদান করেন।
অভিযুক্ত ও স্বজনদের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আলম দাবি করেন, তিনি নাকি "গরিব মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ান" এবং মাসিক কিস্তির চুক্তিতে টাকা দেন, যা তার ব্যক্তিগত খাতায় হিসাব রাখা থাকে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী জানান, পরিবারের সবাই এই সুদের ব্যবসা বন্ধ করতে বললেও তিনি লোভের বশে এটি চালিয়ে যাচ্ছেন। সুদি আলমের স্ত্রীর ভাষায়, "আমি হজ ও ওমরাহ করেছি। পরিবার থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও লোভে পড়ে সে এই ব্যবসা ছাড়েনি। তার সাথে আমাদের সম্পর্ক এখন শুধুই নামে মাত্র।"
আইনি পদক্ষেপ ও বেতাগীবাসীর দাবি নির্যাতনের শিকার দিনমজুর আব্দুস সালাম জানান, "এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমাকে সামাজিক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। যদি এখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার না পাই, তবে আমি সরাসরি আইনের শরণাপন্ন হবো।"
বর্তমানে সুদি আলমের জিম্মাদশা ও অত্যাচারে চরম অতিষ্ঠ বেতাগীবাসী। এই অন্যায়, জোর-জুলুম এবং অবৈধ সুদের ব্যবসার হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উপজেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।