সিলেট ব্যুরো | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
সিলেট নগরীর সদর খাদিমনগর এলাকার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহপরান থানা-অন্তর্ভুক্ত বি আইডিসি বহর কলোনী ও আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। এতে এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর, তরুণ ও যুবকদের একটি অংশ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগে রহিম হাজারী নামের এক ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। তার বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক-সংক্রান্ত মামলা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এসব মামলার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগপত্র, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় তার বিরুদ্ধে কী প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জামিনে মুক্তির পর একই ধরনের কর্মকাণ্ডে ফের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে ইয়াবা বেচাকেনার সঙ্গে তার পাশাপাশি কয়েকজন সহযোগীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে তাজুল ইসলাম তাজু ওরফে ‘ইয়াবা মেম্বার’, আখতার হোসেন এবং সুজন নামের কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের বক্তব্যে এসেছে। একই সঙ্গে রহিম হাজারীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসায় সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
তবে এসব অভিযোগের কোনোটি আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে কাউকে মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, বহর কলোনী ও আশপাশের কিছু এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতার কারণে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানদের ওপর নজরদারি বাড়ানো, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করানো কিংবা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও মাদক সরবরাহের উৎস বন্ধ না হলে এসব উদ্যোগ কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তারা মনে করেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, একজন তরুণ মাদকে আসক্ত হওয়ার পর তার প্রভাব শুধু ওই ব্যক্তির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো পরিবার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে মাদকাসক্তি থেকে চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতা, শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
এ কারণে মাদক সরবরাহকারীদের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের কয়েকজনের অভিযোগ, মাদক বেচাকেনার জন্য সবসময় প্রকাশ্য কোনো দোকান বা নির্দিষ্ট স্পট ব্যবহার করা হয় না। বরং মোবাইল ফোনে যোগাযোগ, মোটরসাইকেলে সরবরাহ এবং বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে গোপনে লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে রাতের সময় অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা, মোটরসাইকেলে দ্রুত যাতায়াত এবং বিভিন্ন বয়সী তরুণদের সন্দেহজনক চলাচল নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে পুলিশি তদন্ত, নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ, কল ডিটেইলস, জব্দ তালিকা, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যসহ আইনসম্মত প্রমাণ প্রয়োজন।
রহিম হাজারীকে ঘিরে স্থানীয়দের অভিযোগের আরেকটি দিক হলো—মাদক পরিবহন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে নারী সদস্যদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে কেউ কেউ দাবি করছেন।
তবে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারও বিরুদ্ধে এ অভিযোগ সত্য হিসেবে প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, ভূমিকা, মামলার নথি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র স্থানীয় গুঞ্জন বা মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো নারী বা পরিবারের সদস্যকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তদের কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা বলে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এমনকি বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে।
তবে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করা এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাওয়া—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ফলে কারও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর চাপানোও সমীচীন নয়।
যদি কেউ সত্যিই কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
এলাকাবাসীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা হয়ে থাকলে এবং তিনি জামিনে মুক্তির পর পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়ানোর অভিযোগের মুখে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা কী হওয়া উচিত?
এক্ষেত্রে পূর্বের মামলাগুলোর এফআইআর, চার্জশিট, আদালতের আদেশ, জামিনের শর্ত, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং নতুন অভিযোগের সঙ্গে আগের মামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—সবকিছু যাচাই করা জরুরি।
কোনো ব্যক্তি পূর্বে মামলায় আসামি ছিলেন—এ তথ্য একাই তাকে নতুন কোনো অপরাধে দোষী প্রমাণ করে না। নতুন অভিযোগের ক্ষেত্রে নতুন করে তদন্ত ও আইনসম্মত প্রমাণ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজনকে আটক ও কারাগারে পাঠালেও মাদকের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাদের প্রশ্ন, শুধু খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করলেই কি মাদকের মূল উৎস বন্ধ করা সম্ভব?
সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে একই সঙ্গে সরবরাহকারী, মজুতকারী, পরিবহনকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদক বিক্রির অর্থনৈতিক লেনদেন, মোবাইল যোগাযোগ ও সম্পদের উৎসও তদন্তের আওতায় আনা দরকার।
বাংলাদেশে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রধান আইন হলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮। এই আইনে মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন, সরবরাহ, বিক্রি, মজুতসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।
আইনের ৩৬ ধারায় বিভিন্ন ধরনের মাদক এবং মাদকের পরিমাণভেদে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। অর্থাৎ শুধু ‘মাদক মামলা’ বললেই নির্দিষ্ট একটি শাস্তি হয় না; উদ্ধার হওয়া মাদকের ধরন, পরিমাণ, অপরাধের প্রকৃতি এবং মামলার প্রমাণের ওপর শাস্তির মাত্রা নির্ভর করে। ইয়াবা/অ্যামফিটামিনজাত মাদকের ক্ষেত্রেও পরিমাণভেদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
হেরোইনের ক্ষেত্রেও পরিমাণভেদে শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। সরকারি আইনসূত্রে হেরোইনসহ নির্দিষ্ট মাদকের পরিমাণ অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং বেশি পরিমাণের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত বিধান রয়েছে। তবে কোন অভিযোগে কোন দণ্ড প্রযোজ্য হবে, তা উদ্ধার হওয়া মাদকের প্রকৃতি ও পরিমাণ এবং আদালতে প্রমাণিত অভিযোগের ওপর নির্ভরশীল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪১ ধারায় মাদক অপরাধে কাউকে প্ররোচনা, সাহায্য, ষড়যন্ত্র বা অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগের বিষয়েও শাস্তির বিধান রয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি সরাসরি মাদক নিজের কাছে না রেখেও অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে সহযোগী বা ষড়যন্ত্রকারী বলা যাবে না। তদন্তে প্রমাণ এবং আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিষয়।
মাদক মামলায় উদ্ধার হওয়া বস্তু আসলেই নিষিদ্ধ মাদক কি না, তা নির্ধারণে রাসায়নিক পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের বিভিন্ন রায়ে ইয়াবার নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে মিথাইল অ্যামফিটামিন শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এ কারণে কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তারের পর শুধু জব্দের দাবি নয়—জব্দ তালিকা, নমুনা সংগ্রহ, সিলমোহর, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এ ২০২৬ সালে সংশোধন আনা হয়েছে। সরকারি আইনসূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সংশোধনীতে পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মাদক অপরাধের বিচার গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য সরকার জেলা বা মহানগর পর্যায়ে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারবে।
অর্থাৎ গুরুতর মাদক অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্ত, অভিযোগপত্র, বিচার এবং আদালতের সিদ্ধান্তের পুরো প্রক্রিয়াই আইন অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা।
মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে শুধু স্থানীয় থানার অভিযান যথেষ্ট নয়—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
বিশেষ করে কোনো এলাকায় একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিকবার মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা, অপরাধের পুনরাবৃত্তির কারণ অনুসন্ধান, মাদক সরবরাহের উৎস শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সদর খাদিমনগর ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিকদের দাবি, বহর কলোনীসহ মাদকপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদক বিক্রির নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
রহিম হাজারীসহ প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ স্থানীয়দের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, সেগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাইলে তাদের বক্তব্য, প্রতিবাদ, ব্যাখ্যা বা সংশ্লিষ্ট মামলার নথি উপস্থাপন করতে পারবেন। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
একইভাবে শাহপরান থানা, সিলেট মহানগর পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট মামলার নম্বর, তারিখ, ধারাসমূহ, আদালতের বর্তমান অবস্থা এবং জামিনের আদেশ যাচাই করে প্রকাশ করা হলে অভিযোগের বিষয়টি আরও তথ্যনির্ভর হবে।
মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি একটি প্রজন্মকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই মাদকবিরোধী অভিযানকে শুধু গ্রেপ্তার বা জব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা, অর্থের প্রবাহ এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সিলেটের সদর খাদিমনগর ও শাহপরান এলাকার বাসিন্দারা চান, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হোক।
আইন সবার জন্য সমান—এই নীতিতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে এবং মাদকাসক্তির ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার পথ আরও শক্তিশালী হবে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান—অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।