“সার্বভৌম আর্মি নয়, সার্বভৌম জনগণ”—আর্মি চিফকে পিনাকী ভট্টাচার্যের স্পষ্ট বার্তা
বিশেষ প্রতিবেদন:
সম্প্রতি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক মন্তব্যে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার পিনাকী ভট্টাচার্য সেনাবাহিনীর কিছু অংশের রাজনৈতিক ভূমিকাকে ঘিরে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিশেষ করে সেনাপ্রধান (আর্মি চিফ) যদি নিজেকে একটি ‘সার্বভৌম এজেন্সি’তে রূপান্তরিত করতে চান—এই ধারণার বিরুদ্ধেই পিনাকী স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি লেখেন—
> “আর্মি যদি নিজেই একটা সার্বভৌম এজেন্সি হয়ে উঠতে চায় তাহলে রাষ্ট্রের নাগরিক তার বিরোধিতা করবে। সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের। সে সেই সার্বভৌম ক্ষমতার শেয়ার কাউকে দেবেনা গণসম্মতি ছাড়া।”
এই বক্তব্যে পিনাকী মূলত বোঝাতে চেয়েছেন—বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রের একটি অধীনস্থ বাহিনী, তারা জনগণের মালিকানাধীন, জনগণের অধীন। কোনো পরিস্থিতিতেই তারা সার্বভৌম নন, হতে পারেন না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত এবং নীতিনির্ধারণ—সবকিছুর একমাত্র উৎস জনগণ।
এনসিপি, ছাত্র ও নাগরিক সমাজের পক্ষের অবস্থান
পিনাকী স্পষ্ট করেন যে—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ছাত্ররা এবং সচেতন জনগণ কেউই সেনাবাহিনী বা আর্মি চিফের সার্বভৌম ভূমিকা নেয়ার উদ্যোগ সমর্থন করেন না। বরং ভবিষ্যতেও যদি এ ধরনের কোনো চেষ্টা হয়, তারও বিরোধিতা চলবে।
তিনি বলেন—
> “আমি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে রাষ্ট্রের বাহিনীর সব সার্ভিস পাওয়ার অধিকার রাখি। আমি নাগরিক হিসেবে তাদের নিয়োগকারীও বটে।”
এই বক্তব্যে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন—রাষ্ট্রের প্রতিটি বাহিনী জনগণের করের টাকায় চলে, এবং এ কারণে নাগরিকের অধিকার তাদের সেবা পাওয়ার, জবাবদিহিতা দাবি করার।
পিনাকীর উদ্দেশ্য: কার প্রতি এই বার্তা?
এই বক্তব্যের সারাংশ দেখে এটি পরিষ্কার—পিনাকী ভট্টাচার্য এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরাসরি সেনাপ্রধান জেনারেল আকহজ্জুর রহমানের ভূমিকার সমালোচনা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার কথিত দেশত্যাগে সহায়তা, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একপাক্ষিক হস্তক্ষেপ এবং এনসিপি ও ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সেনাবাহিনীর চাপ ও হয়রানিমূলক তৎপরতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব চেয়েছেন পিনাকী।
তার মতে—
> “আর্মি এনসিপি নেতাদের কোনো অনুগ্রহ করেনি। এনসিপি নেতারা ওয়াকারের বিরোধিতা করেও ভুল করেননি।”
এখানে ‘ওয়াকার’ বলতে ইঙ্গিত করা হচ্ছে সেনা হেডকোয়ার্টারের ক্ষমতাকেন্দ্রিক মহলের প্রতি—যারা ১/১১ এর মতো সময়েও রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সার্বিকভাবে এই বার্তার তাৎপর্য
এই বক্তব্যের মাধ্যমে পিনাকী ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে—রাষ্ট্রের বাহিনীর দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনীতি নয়। আর নাগরিকদের দায়িত্ব সেই বাহিনীর কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
যেখানে সেনাবাহিনী সার্বভৌম ক্ষমতার দাবিদার হয়ে ওঠে, সেখানে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়।
তাঁর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা আছে, তেমনি রয়েছে একটি স্পষ্ট ভবিষ্যৎ সতর্কবার্তাও:
> “আবার যদি চেষ্টা করে আর্মি চিফ, আমরা বিরোধিতা করবো।”
---
বিশ্লেষণ:
পিনাকীর এই বক্তব্য কোনো আবেগী প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি একটি সুসংহত গণতান্ত্রিক অবস্থানের প্রতিফলন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন এমন বক্তব্য শুধু সময়োপযোগী নয়—বরং নাগরিক অধিকার ও সংবিধানকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সাহসী উচ্চারণ।