“সার্টিফিকেট নয়, সৎকর্মেই শিক্ষার আসল মর্যাদা”
মোঃ শাহজাহান বাশার
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
শিক্ষা মানুষের মেধা, মনন ও বিবেকের আলো জ্বালায়। তবে শিক্ষার আসল মর্যাদা রক্ষা করতে হলে কেবল সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবে না, সেই সার্টিফিকেটের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কাজ ও আচরণও জরুরি। নৈতিকতা, সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করাই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই শিক্ষিত হয়েও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে শুধু তাদের ব্যক্তিত্ব ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, বরং সমাজে শিক্ষার সঠিক মূল্যায়নও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি একজন শিক্ষিত মানুষ স্বার্থপরতার কারণে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন, তবে ধীরে ধীরে সেই শিক্ষার সার্টিফিকেট সমাজের চোখে অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ে।
শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে অন্যায় বা অনিয়মের সাথে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনে একা দাঁড়াতে হলেও সত্য, সততা ও আদর্শকে ধারণ করতে হবে। কারণ সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আসে তখনই, যখন মানুষ নিজের অবস্থান থেকে সঠিক কাজ করে। ভুল পথে হাঁটা মানুষদের সাথে মিশলে নিজের ব্যক্তিত্বও ধ্বংস হয়ে যায়।
শিক্ষিত শ্রেণির দায়িত্ব কেবল নিজের ক্যারিয়ার গড়া নয়, বরং সমাজকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া। এজন্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে হবে নৈতিকতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মানুষদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে বিশেষভাবে সচেতন করতে হবে যাতে তারা অনৈতিকতা, দুর্নীতি বা স্বার্থপরতার পথে না যায়।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষার সার্টিফিকেট কেবল একাডেমিক সাফল্যের প্রমাণপত্র। কিন্তু একজন মানুষ যদি তার বাস্তব জীবনে ন্যায়, আদর্শ ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দেন, তবে সেই সনদ কোনো মূল্য বহন করে না। বরং সময়ের সাথে সাথে সেটি সমাজের কাছে অবমূল্যায়িত হয়ে পড়ে।
শিক্ষা হলো সমাজের উন্নতির মূল শক্তি। কিন্তু যদি সেই শিক্ষা মানুষকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল না করে তোলে, তবে তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। সমাজে প্রকৃত নেতৃত্ব ও আলোকিত পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি শিক্ষিত নাগরিককে নিজের অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।