বিশেষ প্রতিবেদন | সারজিসের পোস্টকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ছলচাতুরি
ফরাসি অর্থনীতিবিদ সারজিসের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাকে চাপে ফেলেছে। সেখানে বিশ্ব পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক শঙ্কা ও স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পতনের প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। তবে সারজিস কোথাও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেননি, বরং একটি সাধারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন।
কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এই পোস্টকে নিজেদের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরেছে। একদিকে সরকারপন্থী মিডিয়া এটিকে "বিদেশি ষড়যন্ত্র" আখ্যা দিচ্ছে, অন্যদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে অপরাধী প্রমাণের আরেকটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এই প্রচারণা আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মাধ্যমে সরকার জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে চাচ্ছে—নিত্যপণ্য সংকট, ব্যাংক লুট, শিক্ষার অবনতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধ্বংস, এবং মাইলস্টোন ট্রাজেডির মতো নারকীয় বাস্তবতা থেকে।
ড. ইউনুস বহুদিন ধরেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক শত্রু তালিকায়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর ধরন, সময় ও ভাষা দেখে যেকোনো সাধারণ নাগরিকও বুঝতে পারবে—এটি প্রতিশোধের রাজনীতি।
যখন একটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণকে বিকৃত করে দেশের জনগণকে ভুল বোঝানো হয়, তখন স্পষ্ট বোঝা যায়—ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য সরকার আর সত্যের ধার ধারে না। তারা একদিকে জনগণকে ভয় দেখায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতে চায়।
এখানেই প্রশ্ন—সরকার কি আসলেই সারজিসের পোস্ট নিয়ে আতঙ্কিত? নাকি এটি তারা নিজেরাই কাজে লাগাচ্ছে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে?
যে সরকার একটি একাডেমিক মতামতকে ষড়যন্ত্র বলে চালায়, সে সরকারের গণতান্ত্রিক ভিত্তি কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এই পরিস্থিতিতে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। ‘সারজিস পোস্ট’ নয়, বিচার হওয়া উচিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় অপব্যবহার এবং বাক-স্বাধীনতা দমনযন্ত্রের।