সাজানো জন্মদিন, ধ্বংসের কারিগর: সজীব ওয়াজেদ জয়—বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় 'চরিত্রহীন' প্রতীকের নির্মম পর্দাফাঁস
ঢাকা | ২৭ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদন: ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
আজ যখন আওয়ামী লীগের মুখপাত্ররা ডিজিটাল শব্দের ফাঁপা ফানুস উড়িয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে ফুলঝুরি ফোটাচ্ছেন, তখন দেশের মানুষ রক্তাক্ত বাস্তবতায় প্রশ্ন তুলছে—এই জয় কি সত্যিই একজন প্রযুক্তিবিদ, নাকি একজন ‘চরিত্রহীন সিস্টেম অপারেটর’, যিনি ক্ষমতার আড়াল থেকে জাতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছেন?
জন্ম নয়, জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্নতা
জয়ের জন্ম হয়েছিল ভারতের গন্তকে। একদিকে তখন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, অন্যদিকে বিজয়ী বাংলাদেশে নয়—তিনি ছিলেন ভারতের মাটিতে। জন্ম, শিক্ষা, নাগরিকত্ব—সব কিছুতেই তিনি ছিলেন বিদেশপ্রীতির প্রতীক। পরবর্তীতে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী এই তথাকথিত ‘প্রযুক্তিবিদ’ কখনোই ভোটার হননি, কখনো কোনো পদে নির্বাচন করেননি—তবু তিনি হয়ে উঠেছিলেন অঘোষিত 'আইটি সম্রাট'।
হার্ভার্ড থেকে গুলিস্তান: জ্ঞান নাকি জালিয়াতি?
জয়ের হার্ভার্ড ডিগ্রি নিয়ে ঘটা করে যা বলা হয়, বাস্তবে তা এক বছরের একটি কোর্স। প্রযুক্তিতে তাঁর অর্জনের চেয়ে বেশি পরিচিতি তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য, মিথ্যা প্রচার, আর সরকারি টাকায় পেইড প্রোপাগান্ডা চালানোর জন্য। "স্টার্টআপ বাংলাদেশ" নামের কথিত প্রকল্প আজ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বঞ্চনার আরেক নাম।
ডিজিটাল বাংলাদেশ নাকি ডিজিটাল জেলখানা?
জয়ের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্প আদতে এক ভয়াবহ নজরদারি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে গুম, সমালোচনায় মামলা, অনলাইন অ্যাক্টিভিজমে পেটোয়া বাহিনীর অভিযান—এসবই ছিল “ডিজিটাল উন্নয়ন”-এর কালো ছায়া।
৭৫ পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের অপপ্রচার ছড়ানো
মিথ্যা দিয়ে গঠিত ই-গভর্নেন্স পরিসেবা
মেগা-ঘাটতি প্রকল্পে শত কোটি টাকা লোপাট
সরকারি অর্থে পরিচালিত শতাধিক ব্যর্থ স্টার্টআপ
‘লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নাকি লিডার অব লজ্জা?
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের 'গ্লোবাল ইয়ং লিডার' তালিকায় একবার নাম উঠলেও, পরবর্তী সময়ে তাঁর কোনো মৌলিক গবেষণা, উদ্ভাবনী চিন্তা, কিংবা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রবন্ধ দেখা যায়নি। বরং তাঁকে নিয়ে দেশের প্রকৃত প্রযুক্তিবিদদের হাস্যরসের অন্ত নেই।
> তথ্যপ্রযুক্তির বরপুত্র হয়ে দেশের তরুণদের জন্য কী করলেন জয়?
কর্মসংস্থানের কথা বলে চাকরি বাণিজ্য
অনলাইন প্রশিক্ষণের নামে কোটি টাকা লোপাট
লাখো শিক্ষার্থীকে ওয়েবসাইট-নির্ভর জালিয়াতির ফাঁদে ফেলে দেওয়া
চরিত্রহীনতার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি
সজীব ওয়াজেদ জয়-কে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চরিত্রহীন বলা অযৌক্তিক নয়, কারণ—
তিনি নাগরিক নন, তবু রাষ্ট্রের উপদেষ্টা
তিনি জনসমর্থনহীন, তবু নীতিনির্ধারক
তিনি কর্মসংস্থানহীন, তবু তরুণদের প্রতিনিধি
তিনি তথ্যচালিত নন, বরং প্রোপাগান্ডা-চালিত
একটা নাটকের অবসান প্রয়োজন
জাতি এখন প্রত্যক্ষ করছে, কীভাবে “স্মার্ট বাংলাদেশ” শব্দবন্ধকে ব্যবহার করে এক ব্যক্তি, এক পরিবার, এক দলে দেশটাকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। উন্নয়ন নয়, বরং মিথ্যা, লুটপাট আর কৃত্রিম শ্রদ্ধার আবরণে সজীব ওয়াজেদ জয় হয়ে উঠেছেন এক ‘ডিজিটাল দুর্যোগ’-এর নাম।
তাঁর জন্মদিনে দেশের প্রকৃত বাস্তবতা—
শিক্ষিত বেকার যুবকদের মিছিল
ডলার সংকটে হাহাকার
গুম-খুনের বিচারহীনতা
গুজব, প্রোপাগান্ডা আর চাটুকারতায় ভরপুর প্রশাসন
আজকের দিনে সত্য উচ্চারণ জরুরি—
সজীব ওয়াজেদ জয় হচ্ছেন রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অথচ জবাবদিহিবিহীন, বিদেশি নাগরিকত্বধারী, চরিত্রহীন কৃত্রিম ‘নেতা’, যাঁর হাত ধরে বাংলাদেশ আজ সর্বনাশের পথে।
শুধু প্রযুক্তির মুখোশ নয়, এই প্রতারণার কেন্দ্রবিন্দু তিনি নিজেই।
এই নাটক থামাতে হলে, তাঁকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদে থাকুন। কারণ আমরা ফাঁকা প্রশংসা নয়, বলি নির্মম সত্য।