সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের বিশ্লেষণ: ‘ত্রাণকর্তা নয়, হাসিনার রক্ষাকর্তা ছিল সেনাপ্রধান ওয়াকার’
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | বিশেষ প্রতিবেদন | জুলাই ২০২৫
জুলাই অভ্যুত্থান-পূর্ব এবং পরবর্তী রাজনৈতিক নাটকে সেনাপ্রধান ওয়াকারের অবস্থান নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন। তার ভাষায়, “ওয়াকার ছিলেন না কোনো বিপ্লবী নায়ক—তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার আত্মরক্ষার পর্দার আড়ালের কারিগর।”
এই মূল্যায়ন আজ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে: অভ্যুত্থানের সময়কার ‘নীরব সেনাপ্রধান’ আসলে কাকে রক্ষা করছিলেন?
ওয়াকারের ভূমিকায় নতুন আলোকপাত
১. অভ্যুত্থানের বিপক্ষে, কিন্তু হাসিনার রক্ষায়:
ইলিয়াস হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াকার অভ্যুত্থানের সমর্থক ছিলেন না। বরং ১ দফা ঘোষণার পর তিনি শেখ হাসিনাকে নিরাপদে সরিয়ে দিতে সক্রিয় হন।
দেশের ভেতরে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা, রেমিট্যান্স বন্ধ এবং বৈশ্বিক ‘স্টেপ ডাউন হাসিনা’ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ওয়াকারের কাছে হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা ছিল অসম্ভব। তাই, তিনি হাসিনার ‘সেইফ এক্সিট’ নিশ্চিত করাই নিজের মিশন হিসেবে নেন।
২. সেনা বিদ্রোহের চাপ:
৫ জুলাইয়ের আগেই সেনাবাহিনীর নিম্নস্তরের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সেনারা কমান্ড মানতে অস্বীকৃতি জানাতে শুরু করে। সেনা অভ্যন্তরে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা অফিসারদের ভিতর শঙ্কা তৈরি করে। এই বিদ্রোহ ঠেকাতে এবং সেনাবাহিনীর ঐক্য বজায় রাখতে ওয়াকার শেখ হাসিনাকে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়াই শ্রেয় মনে করেন।
৩. আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পালানোর ব্যবস্থা:
ওয়াকার শেখ হাসিনাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তার দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। ইলিয়াস হোসেনের তথ্যমতে, তিনি সেই কথা রেখেছেন। প্রায় ৭০০–৮০০ আওয়ামী লীগ নেতা—এমপি, মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতারা গোপনে দেশ ছাড়তে পেরেছেন। এর নেপথ্য সমন্বয়কারী, রক্ষাকর্তা হিসেবে ওয়াকারই সক্রিয় ছিলেন।
৪. ড. ইউনুসের প্রতি অবজ্ঞা:
ওয়াকার ব্যক্তিগতভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে কখনোই মানেননি। তার নাম উচ্চারণেও অনীহা প্রকাশ করেছেন বারবার। তথাপি, কৌশলগত পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তাকে “প্রধান উপদেষ্টা” হিসেবে মেনে নেন—ইলিয়াস হোসেনের ভাষায়, “বুকে পাথর চাপা দিয়েই।”
৫. ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ প্রজেক্টের রূপকার:
ওয়াকারের বর্তমান মিশন হাসিনার স্থলে একটি ‘রিফাইন্ড’, পুনর্গঠিত আওয়ামী লীগ গঠন করা। এই থিয়েটারে ড. ইউনুসকে ব্যবহার করা হচ্ছে মুখপাত্র হিসেবে। হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ, এবং তাজউদ্দীন আহমদের পরিবারকে ইউনুসের কোর্টে ঠেলে দেওয়ার কারিগর হিসেবেও ওয়াকারের নাম উঠে আসছে।
শেষ বার্তা: ওয়াকারের চেহারা বুঝে এগোবেন
ইলিয়াস হোসেন এক কঠিন সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন:
“ওয়াকার যাকে বাঁচিয়েছে, তাকেই ফেরাতে চায়। যাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, তাদের হাতেই ভবিষ্যতের ক্ষমতা তুলে দিতে চায়। তাকে ত্রাণকর্তা ভাবা এক ভয়ানক ভ্রম।”
ওয়াকারের কাছ থেকে পাওয়া যায় অনেক কিছু। কিন্তু বিনিময়ে দিতে হয় অনেক বেশি। যারা এখনো ওয়াকারের কৃপা কামনা করছেন, তাদের বোঝা উচিত—এই ‘রক্ষাকর্তা’র রাজনৈতিক খেলা কেবলমাত্র হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দিকেই মোড় নিচ্ছে।
প্রতিবেদন: ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বিশ্লেষণ | জুলাই ২০২৫