তুরাগে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ: সোহেল রানাকে ঘিরে লিখিত অভিযোগ, পুরোনো প্রতিবেদন ও দলীয় পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন
৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়িঘর ও জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ; বিএনপির মহানগর উত্তর কমিটিতে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার দাবি
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
ঢাকা প্রতিনিধি:
রাজধানীর তুরাগ থানাধীন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির নাম ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মো. সোহেল রানা—যাকে বিভিন্ন নথি ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা, দায় বা আইনগত অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তদন্ত, আদালতের কার্যক্রম ও দলীয় অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল।
সম্প্রতি অপু আক্তার নামে তুরাগের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দার নামে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়কের কাছে একটি লিখিত অভিযোগের কপি সামনে এসেছে। অভিযোগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টি, বাড়িঘর ও জায়গা-জমি দখলের চেষ্টা, চাঁদাবাজি, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, প্রতিবাদ বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে দলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে কী বলা হয়েছে
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়কের উদ্দেশে দেওয়া অভিযোগপত্রে অপু আক্তার নিজেকে তুরাগ থানার ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা, গৃহিণী ও সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সোহেল রানা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। কেউ এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের আশঙ্কা তৈরি হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণ, জায়গা-জমি ও সরকারি জমি দখল এবং দোকান নির্মাণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সোহেল রানার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের প্রত্যেকটির স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদনে কী এসেছে
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক বর্তমান কথা-এর ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ সংখ্যার একটি প্রতিবেদনে সোহেল রানাকে কেন্দ্র করে তুরাগের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, হামলা, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল।
সেই প্রতিবেদনে স্থানীয় কয়েকটি এলাকার নাম উল্লেখ করে বলা হয়, কামারপাড়া, রানাভোলা, বামনারটেক, খালপাড় ও মৌসুমীর বাড়ি এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছিল, সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা চলমান রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের ওই প্রতিবেদনের অভিযোগগুলোর বর্তমান আইনগত অবস্থা কী—তা আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট থানার মামলা রেকর্ড, আদালতের নথি ও তদন্ত সংস্থার তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
দলীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগপত্রে সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ৪৭ নম্বর সদস্য ও সহ-দপ্তর পদে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রকাশ্য অনলাইন সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে সোহেল রানার উপস্থিতির কথা প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২২ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৩৫টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণার সময় প্রকাশিত তালিকায় তুরাগ থানার ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. চান মিয়াকে আহ্বায়ক এবং সোহেল রানাকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ফলে সোহেল রানার বর্তমান সাংগঠনিক পদ, দায়িত্ব ও দলীয় অবস্থান সম্পর্কে বিএনপির সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা’র অভিযোগ
অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সুবিধা নেওয়া এবং পরবর্তীতে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এটি অভিযোগকারীর বক্তব্যের অংশ। অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ বা দলীয় তদন্তের ফল এই প্রতিবেদনের কাছে নেই। তাই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা অতীত পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
একই অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে অনুপ্রবেশের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মামলার প্রসঙ্গও উঠেছে অভিযোগপত্রে
অভিযোগপত্রে সি.আর. মামলা নম্বর ৩৭৭/২৪-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেখানে সোহেল রানাকে একজন আসামি হিসেবে দেখানোর দাবি করা হয়েছে।
তবে কোনো ব্যক্তি মামলার আসামি হলেই তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়া আইনগতভাবে সঠিক নয়। মামলার বর্তমান অবস্থা, ধারাসমূহ, অভিযোগপত্র, জামিন, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতের পরবর্তী আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য নেওয়ার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
বাড়িতে প্রবেশ ও হামলার অভিযোগ
আপনার দেওয়া ২০২৪ সালের সংবাদ প্রতিবেদনে আরও একটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে বাড়ির মালিক ও তাঁর লোকজনকে মারধর এবং লুটপাট করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনটিতে ঘটনাটির সঙ্গে সোহেল রানা ও তাঁর অনুসারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়।
তবে ঘটনাটি সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক, প্রত্যক্ষদর্শী, থানায় দায়ের করা অভিযোগ বা মামলা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
‘কিলার সোহেল’ নাম ব্যবহারের বিষয়
প্রকাশিত প্রতিবেদনে সোহেল রানাকে ‘কিলার সোহেল’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এটি সংবাদ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত একটি পরিচিতি বা বিশেষণ; আদালতের রায়ে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার বিকল্প নয়।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহার, চার্জশিট, আদালতের রায় এবং মামলার বর্তমান অবস্থা যাচাই করেই তা প্রকাশ করা সাংবাদিকতার দিক থেকে অধিকতর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল।
স্থানীয়দের অভিযোগ কতটা সত্য—প্রশ্ন তদন্তের
অভিযোগপত্রে একাধিক গুরুতর বিষয় উত্থাপিত হলেও অভিযোগগুলোর প্রত্যেকটির স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন। বিশেষ করে জমি দখলের অভিযোগের ক্ষেত্রে জমির খতিয়ান, দলিল, নামজারি, দখল সংক্রান্ত নথি ও দেওয়ানি/ফৌজদারি মামলার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
চাঁদাবাজির অভিযোগের ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ, মামলা, কল রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
একইভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকলে দলীয় পদ, সাংগঠনিক নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত রাজনৈতিক ভূমিকা যাচাই করা জরুরি।
বিএনপির ভাবমূর্তি প্রসঙ্গ
অভিযোগকারী তাঁর লিখিত আবেদনে দাবি করেছেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার প্রভাব দলের স্থানীয় ভাবমূর্তির ওপর পড়তে পারে।
এটি অভিযোগকারীর মূল্যায়ন। রাজনৈতিক দলের কোনো ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী হলে দলীয় সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে কি না—সেটি সংশ্লিষ্ট দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
সোহেল রানার বক্তব্য
আপনার সরবরাহ করা নথি ও প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগের সংবাদ প্রতিবেদনে সোহেল রানার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং সেখানে বলা হয়েছিল যে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তবে বর্তমান প্রতিবেদনের জন্য তাঁর সরাসরি বক্তব্য বা লিখিত জবাব পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকতার ন্যায্যতার স্বার্থে তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করলে, ব্যাখ্যা দিলে, সংশ্লিষ্ট নথি সরবরাহ করলে বা কোনো অভিযোগের বিষয়ে আইনি অবস্থান জানালে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো প্রয়োজন
এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের জন্য কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন—

১. সোহেল রানার বর্তমান বিএনপির সাংগঠনিক পদ কী?
২. ৪৭ নম্বর সদস্য ও সহ-দপ্তর পদটির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান কী?
৩. তাঁর বিরুদ্ধে উল্লেখিত সি.আর. মামলা ৩৭৭/২৪-এর বর্তমান অবস্থা কী?
৪. তাঁর বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় কতগুলো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি রয়েছে?
৫. দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না?
৬. অভিযোগকারী অপু আক্তারের বক্তব্যের সমর্থনে কী কী নথি রয়েছে?
৭. বিএনপির মহানগর উত্তর কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি পেয়েছে কি না এবং কোনো সাংগঠনিক তদন্ত হয়েছে কি না?
৮. সোহেল রানা অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন?
প্রকাশ্য তথ্যেও তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার উল্লেখ
অনলাইনে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কয়েকটি স্থানীয় প্রতিবেদনে সোহেল রানাকে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত কোনো দাবি নয়; তবে এই রাজনৈতিক পরিচয় তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অপরাধের অভিযোগকে সত্য প্রমাণ করে না। দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগপত্রে তুরাগ থানা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অভিযোগগুলো পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে।
যদি কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা থেকে থাকে, তাহলে তার তদন্তের অগ্রগতি, আইনগত ব্যবস্থা এবং আদালতের নির্দেশনা জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য ও অবস্থানও সমান গুরুত্বে প্রকাশ করা উচিত।
শেষ কথা
তুরাগের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে সোহেল রানার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো গুরুতর এবং সেগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন। একটি লিখিত অভিযোগ, পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদন কিংবা কোনো মামলায় নাম থাকা—কোনোটিকেই এককভাবে অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য ধরা যায় না।
অন্যদিকে অভিযোগগুলো যদি নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, মামলা-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে সত্যতা পায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, রাজনৈতিক পরিচয় যেই দলেরই হোক, ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটি দলীয় পরিচয়ের আড়ালে চাপা না পড়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। একই সঙ্গে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও নিশ্চিত করা জরুরি।