বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর:
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুনামধন্য প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যে বানোয়াট, কাল্পনিক ও মানহানিকর নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং গভীর ষড়যন্ত্রমূলক বলে স্থানীয়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিন এলাকায় গিয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করেছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, একজন সম্মানিত প্রধান শিক্ষককে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
১. ঘটনার নেপথ্য চিত্র ও মূল ষড়যন্ত্র
সহকারী শিক্ষকের অনৈতিকতা ঢাকতে বলির পাঁঠা বানানোর চক্রান্ত
স্থানীয়দের ভাষ্য ও নিবিড় অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর সত্য। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ খালিদুজ্জামান নিজের ব্যক্তিগত অনৈতিক সম্পর্ক এবং নানা বিতর্কিত অপকর্মের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়েছেন। নিজের অপরাধ আড়াল করতে সহকারী শিক্ষক অত্যন্ত সুকৌশলে প্রধান শিক্ষকের ঘাড়ে দোষ চাপানোর এই হীন চক্রান্তের জাল বুনেছেন।
ভূমি বিরোধ ও উচ্ছেদ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচারের নেপথ্যে আরও একটি বড় কারণ রয়েছে বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধ।
বিদ্যালয়ের আওতাধীন জমিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুলের একটি অবৈধ স্থাপনা ছিল।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এই উচ্ছেদ অভিযানের পর থেকেই ইউপি সদস্য আসাদুল ও তার সহযোগীরা প্রধান শিক্ষকের ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়। সহকারী শিক্ষকের ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং ইউপি সদস্যের জমি হারানোর ক্ষোভ একসঙ্গে মিলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই কাল্পনিক অভিযোগের পাহাড় তৈরি করেছে।
বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার পবিত্রতা নষ্টের পাঁয়তারা
একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে এবং তাঁদের ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের ফুলঝুরি ছুড়েছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা শিক্ষার সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
২. বিদ্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ ও ন্যাক্কারজনক হামলা
শুধু মিথ্যা অভিযোগ তুলেই ক্ষান্ত হয়নি ওই কুচক্রী মহল; বরং বিদ্যালয়ের নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে একদল বহিরাগত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনধিকার প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করার অপচেষ্টা চালায়। কোমলমতি শিশুদের সামনে একজন শিক্ষকের সঙ্গে এ ধরনের মারমুখী আচরণ ও অবমাননাকর পরিস্থিতি শিক্ষার পবিত্র পরিবেশকে চরমভাবে বিঘ্নিত করেছে, যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল।
৩. এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের জোরালো প্রতিবাদ এবং তীব্র নিন্দা
প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইনের মতো একজন আদর্শবান, সৎ ও দেশপ্রেমিক শিক্ষকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন:
প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইন সম্পূর্ণ নিরপরাধ।
সহকারী শিক্ষক খালেদুজ্জামানের ব্যক্তিগত অপরাধের দায় প্রধান শিক্ষকের ওপর চাপিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর এই ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনধিকার প্রবেশ করে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।
৪. প্রশাসনের প্রতি কঠোর দাবি ও আইনগত পদক্ষেপের আহ্বান
নিরপরাধ প্রধান শিক্ষকের সম্মানহানি এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন অবিলম্বে এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করা হয় এবং সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পাঠদান ও নিরাপদ পরিবেশ দ্রুত নিশ্চিত করা হয়।