সমাজকল্যাণের অগ্রপথিক মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
আজাদ মুসলিম ওয়েলফেয়ার কমপ্লেক্সে স্মরণসভা—বিপুল মানুষের উপস্থিতি, আবেগঘন বক্তব্যে স্মরণ গুণী এই সমাজসেবককে
নিজস্ব প্রতিবেদক | Daily Bangladesh Post24
বাংলাদেশের সমাজকল্যাণ, মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিশিষ্ট সমাজসেবক, লেখক, সাবেক কাউন্সিলর এবং আজাদ মুসলিম ওয়েলফেয়ার কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর লালবাগে এক স্মরণসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
গত ৭ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঢাকার লালবাগের ৮৮/১ জগন্নাথ সাহা রোডে অবস্থিত আজাদ মুসলিম ওয়েলফেয়ার কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফজলুল হক, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় তরুণ সংঘ এবং আন্তর্জাতিক সমাজকর্মী ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আজাদ মুসলিম ওয়েলফেয়ার কমপ্লেক্সের সভাপতি জনাব আখতার হোসেন।
স্মরণসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সমাজকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং মরহুমের দীর্ঘদিনের পরিচিতজনেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনের কর্মময় জীবন, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
পাকিস্তান আমল থেকে সমাজকল্যাণে অবদান
মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেন ছিলেন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিতপ্রাণ একজন ব্যক্তিত্ব। পাকিস্তান আমল থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন।
মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহযোগিতা করা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত আজাদ মুসলিম ওয়েলফেয়ার কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে আসছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে বহুমাত্রিক পরিচয়
মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেন শুধু একজন সমাজসেবকই ছিলেন না, তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন লেখক ও সমাজচিন্তক।
জনসেবার সঙ্গে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে সম্পৃক্ত করে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করে বক্তারা বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার যে মানসিকতা তিনি ধারণ করেছিলেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুসরণীয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফজলুল হক মরহুম নাজির হোসেনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি বলেন, মরহুম নাজির হোসেন তাঁর কাছে শুধু একজন পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন না; বরং দীর্ঘ ৬২ বছরের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁকে পিতৃতুল্য একজন মানুষ হিসেবে দেখেছেন। স্কুলজীবনের বাল্যবন্ধু আখতার হোসেনের পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তিনি স্মরণ করেন।
বক্তব্যে তিনি মরহুমের ব্যক্তিত্ব, মানবিকতা, সমাজের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘদিনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তাঁর স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
জনাব ফজলুল হকের বক্তব্যে মুগ্ধ উপস্থিতিরা
স্মরণসভায় আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফজলুল হকের বক্তব্য উপস্থিত অতিথি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। দীর্ঘদিনের স্মৃতি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং মরহুমের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন।
উপস্থিত অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে হৃদয়স্পর্শী ও স্মৃতিবিজড়িত বলে অভিহিত করেন।
বক্তারা বলেন, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদে নয়; বরং মানুষের জন্য তিনি কী রেখে গেছেন, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মরহুম নাজির হোসেনের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে।
আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে স্মরণসভা
আজাদ মুসলিম ওয়েলফেয়ার কমপ্লেক্সের সভাপতি জনাব আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় মরহুমের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মরহুম নাজির হোসেনের আদর্শ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান।
বিপুল মানুষের উপস্থিতি
৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। লালবাগের জগন্নাথ সাহা রোডের অনুষ্ঠানস্থলে মরহুমের দীর্ঘদিনের পরিচিতজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানবসেবার বার্তা
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, সমাজের জন্য যারা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন, তাঁদের কর্ম ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকে। মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনের জীবনও তেমনই একটি উদাহরণ।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করে মানবসেবার ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
তাঁরা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। মরহুম নাজির হোসেনের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
দীর্ঘ সম্পর্কের স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফজলুল হক তাঁর বক্তব্যে মরহুম নাজির হোসেনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, স্কুলজীবনের বাল্যবন্ধু আখতার হোসেনের পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বয়সও দীর্ঘ। সেই সম্পর্কের সূত্রেই মরহুম নাজির হোসেন তাঁর কাছে পিতৃতুল্য একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন।
৬২ বছরের এই দীর্ঘ সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি মরহুমের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন সময়ের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
সমাজের জন্য রেখে যাওয়া অনন্য উত্তরাধিকার
মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীর এই আয়োজন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা ছিল না; বরং তাঁর দীর্ঘ সমাজসেবামূলক জীবনের প্রতি নতুন করে শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
উপস্থিত বক্তারা বলেন, মানুষের জন্য করা ভালো কাজ কখনো হারিয়ে যায় না। সময়ের ব্যবধানে একজন মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেলেও তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড, প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা তাঁকে স্মরণীয় করে রাখে।
আজাদ মুসলিম ওয়েলফেয়ার কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মরহুম নাজির হোসেন যে সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন, তা ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই।
দোয়া ও মোনাজাত
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়ায় মহান আল্লাহর কাছে মরহুমের সকল নেক আমল কবুল, ভুলত্রুটি ক্ষমা এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, মানবসেবার যে আদর্শ মরহুম নাজির হোসেন রেখে গেছেন, তা ধরে রাখাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
তিনি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সকলের সহায়তা, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করেন।
আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফজলুল হক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় তরুণ সংঘ
আন্তর্জাতিক সমাজকর্মী
অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র
যোগাযোগ: +৮৮০১৭১১৫৪২৯১৬, +৮৮০১৮৪১৫৪২৯১৬
স্থান: আজাদ মুসলিম ওয়েলফেয়ার কমপ্লেক্স, ৮৮/১ জগন্নাথ সাহা রোড, লালবাগ, ঢাকা
অনুষ্ঠান: মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী
তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৬
সময়: বিকেল ৫টা
মহান আল্লাহ মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তাঁর পরিবার ও স্বজনদের ধৈর্য ও সুস্থতা দান করুন—আমিন।