৭ জুলাই ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট :
কখনো লাক্স তারকা, কখনো নাটকের জনপ্রিয় মুখ, আবার কখনো হঠাৎ অন্তর্ধানে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু—পিয়া বিপাশা নামটিই যেন এক রহস্যময় অধ্যায়ের নাম। অবশেষে সেই অধ্যায়ের একটি নতুন পৃষ্ঠা উন্মোচিত হলো: প্রকাশ্যে এলেন তার মার্কিন স্বামী।
পাঁচ বছর আগে হঠাৎ করেই দেশ ছাড়েন পিয়া। বাংলাদেশের ব্যস্ত মিডিয়া জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে পাড়ি জমান নিউইয়র্কে। সঙ্গে ছিলেন একমাত্র কন্যাসন্তান। সেখানেই জীবনের নতুন গল্প শুরু—পরিচয়, প্রেম, তারপর বিয়ে। তবে এতদিন সবই ছিল আড়ালে। কারো সঙ্গে শেয়ার করেননি স্বামীর পরিচয়, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে তার ছায়াও পড়েনি।
অবশেষে ২৬ জুন, সেই রহস্যের খোলাসা করলেন পিয়া। ইনস্টাগ্রামে একাধিক ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আনলেন নিজের স্বামীকে। যদিও তার নাম বা পরিচয় এখনও গোপন রেখেছেন। বলেছেন—"ব্যক্তিগত কারণেই পরিচয় প্রকাশ করছি না।"
তা সত্ত্বেও পিয়ার ভক্তদের আগ্রহ থেমে নেই। পোস্টগুলোতে রিঅ্যাকশন ইতোমধ্যেই ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে, শুভেচ্ছা বার্তাও এসেছে অগণিত।
পিয়া বিপাশার মিডিয়ায় পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে। সেরা দশে পৌঁছেই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর বিজ্ঞাপন জগতে নিজেকে মেলে ধরেন। ২০১৩ সালে তাহসান খানের বিপরীতে নাটক ‘দ্বিতীয় মাত্রা’ দিয়ে নাট্যাঙ্গনে অভিষেক। পরে একাধিক নাটকে অভিনয় এবং চলচ্চিত্রেও পা রাখেন।
‘রুদ্র: দ্য গ্যাংস্টার’ ছিল তার একমাত্র বড়পর্দার কাজ। ‘রাজনীতি’ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয়ের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই চরিত্র চলে যায় অপু বিশ্বাসের হাতে।
বাংলাদেশের শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা নিয়ে খোলাখুলি মন্তব্য করেছেন পিয়া। বলেন, “ভালো সিনেমার প্রস্তাব পেয়েও কাজ করা সম্ভব হয়নি। লবিং ছাড়া কাজ হতো না। আশপাশের মানুষও অদ্ভুত ছিল। তাই ধীরে ধীরে ইচ্ছেটা মরে যায়।”
তিনি আরও জানান, একমাত্র মেয়েকে নিয়ে টিকে থাকার সংগ্রামই তাকে আমেরিকার পথে ঠেলে দেয়। সব ধরনের মিডিয়া সংযোগ ছিন্ন করে তিন বছর ইনস্টাগ্রামও বন্ধ রাখেন। এখন আবার চালু করেছেন শুধুমাত্র প্রফেশনাল প্রয়োজনে—বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ক্যাম্পেইনে কাজ করছেন।
পিয়া এখন আগের মতো মিডিয়ার আলোয় নেই—নিজেই চান না তা। শোবিজ নিয়ে তার আগ্রহ নেই, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি মার্কিন জীবন ও পরিবারকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
তবে একদা আলোচিত মুখের এমন নীরব বদল, অনেককেই ভাবতে বাধ্য করছে—বাংলাদেশের শোবিজ আসলেই কতটা ‘স্থায়ী’, আর শিল্পীদের মানসিক সুরক্ষার দিকটা কতটা উপেক্ষিত?
পিয়া হয়তো আজ ক্যামেরার বাইরে, কিন্তু তার গল্প এখনো নিঃশব্দে অনেককেই কিছু না কিছু বলেই যায়।