শার্শায় সোনালি মুকুলের সমারোহ: বেনাপোল পৌরসভায় আমের বাম্পার ফলনের হাতছানি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাহাত হোসেন বেনাপোল, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌর এলাকায় এ বছর আমগাছগুলোতে মুকুলের অভাবনীয় সমারোহ দেখা দিয়েছে। বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যেন তার ডালি সাজিয়ে বসেছে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের বড় বাগান থেকে শুরু করে বসতবাড়ির আঙিনায় থাকা গাছগুলো এখন হলদেটে-সোনালি মুকুলে ছেয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে মুকুলের ম ম ঘ্রাণে চারপাশ মৌ মৌ করছে, যা বাগান মালিক ও স্থানীয় চাষিদের মনে সোনালি স্বপ্নের বীজ বুনছে।
মুকুলে ঢাকা বাগান ও আশার সঞ্চার
বেনাপোল পৌরসভার ভবেরবেড়, দিঘিরপাড়, কাগমারী ও ছোটআঁচড়া সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় প্রায় সব জাতের আমগাছে প্রচুর পরিমাণে মুকুল এসেছে। বিশেষ করে ল্যাংড়া, হিমসাগর (খিরসাপাত), আম্রপালি, ফজলি ও স্থানীয় জাতের আমগাছগুলো মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
পৌরসভার ছোটআঁচড়া এলাকার প্রবীণ চাষি রহিম মিয়া তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন:
"এবার আবহাওয়া খুব চমৎকার। কুয়াশা কম ছিল এবং শীতের তীব্রতা শেষ হতেই আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। সময়মতো বাগান পরিষ্কার ও পরিচর্যা করায় এবং কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসায় এখন পর্যন্ত মুকুলের অবস্থা খুবই ভালো। আমরা আশা করছি এবার আমের বাম্পার ফলন পাব।"
কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বর্তমান পরিস্থিতি
কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আমের ফলন মূলত নির্ভর করে মুকুল আসার পর গাছের সঠিক পরিচর্যার ওপর। বর্তমানে বেনাপোল এলাকায় মুকুল আসার শতভাগ অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। তবে কুয়াশা বা মেঘলা আকাশ থাকলে 'অ্যানথ্রাকনোজ' বা হপার পোকার আক্রমণ হতে পারে।
কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রধান পরামর্শগুলো হলো:
মুকুল ফুলে পরিণত হওয়ার আগে যথাযথ কীটনাশক প্রয়োগ করা।
গাছের গোড়ায় আর্দ্রতা বজায় রাখা।
বৃষ্টিপাত হলে বা ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও স্থানীয় বাজার
বেনাপোল পৌরসভা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। এখানকার আম স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে সরবরাহ করা হয়। চাষিদের আশা, যদি বড় কোনো কালবৈশাখী ঝড় বা অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে, তবে এ বছর আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বেনাপোল বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দারা বলছেন, ফলন ভালো হলে আমের দাম জনসাধারণের নাগালে থাকবে এবং প্রান্তিক চাষিরা লাভবান হবেন। আমের এই সমৃদ্ধি বেনাপোলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে বসন্তের এই সময়ে আমের মুকুলে ছেয়ে থাকা বেনাপোল পৌরসভার বাগানগুলো এখন উৎসবমুখর। মুকুলের সৌরভ আর মৌমাছির গুঞ্জনে প্রকৃতি পেয়েছে এক নতুন রূপ। বাগান মালিকদের নিবিড় পরিচর্যা আর প্রকৃতির অনুকূল দান যদি শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে এ বছর আমের বাম্পার ফলন বেনাপোলবাসীর মুখে প্রশান্তির হাসি ফোটাবে।