নিখোঁজ ছেলেকে উদ্ধারে থানায় বাবার লিখিত অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলায় জীবন হোসেন (৩২) নামে এক যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, নিখোঁজের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন নিখোঁজ যুবকের বাবা কামাল হোসেন (৫০)।
ছেলেকে দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেনের ছেলে জীবন হোসেন নাভারণ-সাতক্ষীরা সড়কের একটি মোড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
কামাল হোসেনের অভিযোগ, তার ছেলে শাফিন সাহেবের বাসায় মেস আবাসিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার পর খাবারের জন্য বাইরে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তীতে জীবন হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের অবস্থান বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার আশপাশে শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এর কিছু সময় পর ওই নম্বর ব্যবহার করেই কামাল হোসেনের মোবাইলে ফোন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি জীবন হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। একই সঙ্গে দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করলে তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কামাল হোসেন।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ যুবককে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধারের পাশাপাশি মুক্তিপণ দাবিকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, জীবন হোসেন নিখোঁজের ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজ জীবন হোসেনকে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যুবক নিখোঁজ এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে জীবন হোসেন কোথায় রয়েছেন, কারা তাকে নিয়ে গেছে কিংবা ফোন করে মুক্তিপণ দাবির সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
পুলিশের তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজ যুবকের অবস্থান এবং মুক্তিপণ দাবির প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করছেন স্বজনরা।