শার্শায় পল্লী চিকিৎসক আলামিন হত্যাকাণ্ডে যুবদলের ৩ কর্মী গ্রেফতার: নেপথ্যে চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিগত বিরোধ
(স্টাফ রিপোর্টার, রাহাত হোসেন) | শার্শা
যশোরের শার্শা উপজেলায় পল্লী চিকিৎসক আলামিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন সন্দেহভাজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও মামলা
গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন পল্লী চিকিৎসক আলামিন। পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এই নৃশংস ঘটনার পর ২০শে ফেব্রুয়ারি শার্শা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-১৩)। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রাম থেকে তিনজনকে আটক করে।
আটককৃতদের পরিচয় ও রাজনৈতিক পরিচয়
আটককৃত আসামিরা হলেন:
আলাউদ্দিন আলা: দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবদলের একজন সক্রিয় সদস্য।
সেলিম মিয়া: আব্দুল কাদেরের ছেলে। তিনি নাভারণ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ‘আয়নাল-জয়নাল’ চক্রের ভাই।
লালন হোসেন: জামির হোসেনের ছেলে। তিনিও যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।
নেপথ্যের কারণ: পরকীয়া না কি চাঁদাবাজি?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত আলামিনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন রয়েছে। আলামিন ইতিপূর্বে একজন পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীকে কুলপালা গ্রামে রেখে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে নাভারণ এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, এই বিয়ের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মাস তিনেক আগে আটককৃত আলাউদ্দিন ও সেলিম আলামিনকে মারধর করে এবং তার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে। স্থানীয়দের মতে, আলামিনের ওপর আগে থেকেই এই চক্রের ক্ষোভ ছিল। মাদক ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটটি দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল।
নেতার তদবির ও পুলিশের দৃঢ় অবস্থান
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, আটককৃতরা শার্শা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ‘আশীর্বাদপুষ্ট’। ওই নেতা তার অনুসারীদের বাঁচাতে স্বয়ং থানায় গিয়ে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে তিনি আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হন। তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হলেও পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য
শার্শা থানার ওসি (তদন্ত) শাহ আলম গণমাধ্যমকে জানান:
“পল্লী চিকিৎসক আলামিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক আলাউদ্দিন, সেলিম ও লালনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ ও নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নাভারণ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এই চিহ্নিত অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।