লাইসেন্স ও অনুমোদনের তথ্য কি যাচাই করা হয়েছে? গোদাগাড়ীতে নতুন রেস্তোরাঁ উদ্বোধন ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন |
গোদাগাড়ী (রাজশাহী): ১৭ আগস্ট জমকালো আয়োজনে উদ্বোধনের পর ১৫ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘ঢাকা পিৎজা হাউস অ্যান্ড রেস্তোরাঁ’। তবে আড়ম্বরপূর্ণ এই উদ্বোধনের পরপরই প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্য নিরাপত্তা নিবন্ধন ও অগ্নিনিরাপত্তা অনুমোদন নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে জোর প্রশ্ন উঠেছে।
উদ্বোধনী প্রচারণা ও সংশয়
গত ১৭ আগস্ট বিকেল ৫টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বন্ধু ফার্মেসির দ্বিতীয় তলায় ফিতা কেটে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্বত্বাধিকারী রিয়েল জানান, পিৎজা ও বার্গারসহ নানা ধরনের ফাস্টফুড এবং বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের খাবার সরবরাহের সুবিধা নিয়ে এটি পরিচালিত হবে। উদ্বোধনী অফার হিসেবে ১৫ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়ায় উৎসুক গ্রাহকদের উপস্থিতি দেখা গেলেও, বাণিজ্য পরিচালনার মূল আইনি শর্তাদি পূরণ করা হয়েছে কি না—সে তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অনুমোদন ও নিরাপত্তা সনদের ঘাটতি?
একজন ব্যবসা পরিচালনাকারীর জন্য স্থানীয় পৌরসভা বা ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্স, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন এবং ফায়ার সার্ভিস থেকে পাওয়া অগ্নিনির্বাপক অনুমতি আবশ্যক। গোদাগাড়ীর স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি চালুর পূর্বে বা উদ্বোধনের দিনে এ ধরনের সরকারি নথি জনসম্মুখে প্রদর্শন করেনি। প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে রেস্তোরাঁ চালু হলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও অগ্নিনিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
খাবারের মান ও ‘ঢাকার অভিজ্ঞ শেফ’ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই
প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় ‘ঢাকার অভিজ্ঞ শেফ’ দ্বারা রান্না প্রস্তুত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রচারণার চমকপ্রদ দাবির পাশাপাশি শেফদের স্বাস্থ্য সনদ, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং কাঁচামাল সংরক্ষণের সঠিক ব্যবস্থা রয়েছে কি না—তা পরীক্ষা করা হয়নি। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৪১ ধারা মতে, সত্যতা না থাকলে এ ধরনের প্রচারণা আইনি অপরাধের আওতায় আসে।
প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জরুরি
একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে আইনের বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা সমীচীন নয়। বিষয়টি স্পষ্ট করতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকদের নিকট থেকে নিচের বিষয়গুলো জানা জরুরি হয়ে পড়েছে:
রেস্তোরাঁটির বৈধ ট্রেড লাইসেন্স আছে কি না?
জেলা নিরাপদ খাদ্য কার্যালয়ের নিবন্ধন নিশ্চিত করা হয়েছে কি?
ভবনটিতে যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম ও ফায়ার লাইসেন্স বিদ্যমান রয়েছে কি না?
উদ্বোধনের পূর্বে বা পরে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো দল পরিদর্শন করেছে কি না?
জনস্বার্থে তদন্ত ও সরেজমিন নজরদারির দাবি
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স ও সরকারি সনদ গ্রহণ করে থাকে, তবে সেসব নথি জনসম্মুখে প্রকাশের মাধ্যমে সংশয়ের নিরসন সম্ভব। অন্যথায়, অনুমতিহীন কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পরিবেশনের আলামত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব। ভোক্তাদের নিরাপত্তা ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিতকরণে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যকর তদারকি প্রত্যাশা করছেন গোদাগাড়ীবাসী।
রাজশাহী গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: