‘র’ ও আওয়ামী লীগের গোপন মিশন বাস্তবায়নের অভিযোগ
প্রেসক্লাবকে ঘিরে অমিত রায়–শান্ত–শরীফ নেটওয়ার্ক, ভারত যাতায়াত ও অর্থ প্রবাহে রহস্য
বিশেষ অনুসন্ধান রিপোর্ট
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন পরিবর্তনের হাওয়া, তখন নেপথ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী গোপন নেটওয়ার্ক—যাদের বিরুদ্ধে বিদেশি সংযোগ, রাজনৈতিক উসকানি, বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সরকারপন্থী মিশন বাস্তবায়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অমিত রায়।
প্রেসক্লাবকেন্দ্রিক গোপন বৈঠকের অভিযোগ
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি অমিত রায় ভারত থেকে একটি নির্দিষ্ট ‘মিশন’ নিয়ে দেশে ফিরে প্রেসক্লাব সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে শান্ত ও শরীফ নামের দু’জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠকে শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়—আর্থিক লেনদেন, আন্দোলন উসকে দেওয়া, সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, প্রেসক্লাবকে কার্যত একটি “নিরাপদ আশ্রয়স্থল” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—যেখানে সাংবাদিকতার আড়ালে রাজনৈতিক দালালি ও গোপন তৎপরতা চালানো সহজ।
ভারত সংযোগ ও ‘র’-এর মিশন বাস্তবায়নের অভিযোগ
অভিযোগে বলা হচ্ছে, অমিত রায় নিয়মিত ভারত যাতায়াত করেন এবং সেখানে অবস্থানকালে কিছু প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব যোগাযোগের উদ্দেশ্য বাংলাদেশে ‘র’ (ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে পরিচিত) ও আওয়ামী লীগের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মিশন বাস্তবায়ন।
যদিও এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়, তবে একাধিক সূত্র একই ধরনের তথ্য দেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
৫ আগস্টের পর হিন্দু সম্প্রদায়কে উসকানির অভিযোগ
সূত্রমতে, ৫ আগস্টের পর অমিত রায় পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে উসকানি দিয়ে মাঠে নামানোর চেষ্টা করেন, যাতে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে সহানুভূতি ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা যায়।
একইসঙ্গে তিনি বিএনপির কিছু নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেকে “বন্ধু” পরিচয়ে উপস্থাপন করেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভিন্ন রাজনৈতিক মিশন বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অর্থের উৎস ও অস্বাভাবিক সম্পদের উত্থান
সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে অমিত রায়ের সম্পদের উৎস নিয়ে।
সূত্রগুলো দাবি করছে— একসময় যিনি প্রাইভেট পড়িয়ে এবং সাধারণ জীবনযাপন করে চলতেন, তিনি এখন—
ডাবল ফ্ল্যাটের মালিক
কোটি কোটি টাকার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী
দামী গাড়িতে চলাফেরা করা ব্যক্তি
এই সম্পদের সঙ্গে তার ঘোষিত আয়ের কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
আন্দোলন উসকানি ও অর্থ প্রবাহের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে আনা অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে উসকানি দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সক্রিয় করার পেছনে এই অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শান্ত ও শেফালী বেগমের ঘনিষ্ঠতা
সূত্রমতে, অমিত রায় শান্ত ও তার মা শেফালী বেগমের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। এই সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে তিনি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকতার আড়ালে দালালি?
প্রেসক্লাব সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে গোপন বৈঠক, রাজনৈতিক বার্তা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার কাজ করা হচ্ছে। ফলে পেশাদার সাংবাদিকতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে বিস্ফোরক তথ্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হলে—
আওয়ামী লীগ সরকারের ভেতরের বহু অজানা তথ্য
বিদেশি গোয়েন্দা সংযোগ
অর্থ পাচার ও রাজনৈতিক অর্থায়নের রহস্য
উন্মোচিত হতে পারে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযুক্ত অমিত রায়, শান্ত, শরীফ কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করবে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ।