কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
সামান্য পরিসংখ্যানবিদের পদে চাকরি শুরু করে অল্প সময়েই বিপুল সম্পদ ও কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত মোঃ এরশাদুল হক (ওরফে কালা তিতাস)-এর বিরুদ্ধে। শুধু অবৈধ সম্পত্তি অর্জনই নয়, ওষুধ চুরির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকা, মাদক সেবন এবং একাধিক নারী কেলেঙ্কারির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কেলেঙ্কারি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এরশাদুল হক নিজের ভাবির সাথে পরকীয়া কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ঘটনাটি গড়ায় মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত। চিলমারী হাসপাতালের সেই বিতর্কিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে বর্তমান কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে। অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে প্রায়ই ইয়াবা ও হিরোইন সেবন করে এসে নার্স ও নারী কর্মীদের সাথে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা, শ্লীলতাহানি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কটু ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। এছাড়া হাসপাতালের জরুরি ওষুধ চুরি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারির সাথেও তার প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে।
রাজনৈতিক রূপবদল ও ক্ষমতার প্রভাব
অনুসন্ধানে জানা যায়, এরশাদুল হক ৫ই আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পূর্বে ছিলেন তৎকালীন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ দোসর। কিন্তু পটপরিবর্তনের পরপরই রাতারাতি পরিচয় বদলে বিএনপির নিবেদিত কর্মী দাবি করে হাসপাতালের ক্ষমতার চাবিকাঠি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। শ্বশুরের রাজনৈতিক প্রভাব ও নিজস্ব পেশিশক্তির দাপটে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
সরকারি আইন ও চাকুরীর শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী আনীত এসব গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে মোঃ এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত আইনি ব্যবস্থা ও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে:
বিভাগীয় সাময়িক বরখাস্ত ও পদচ্যুতি:** *সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮* অনুযায়ী চরম অসদাচরণ, পদমর্যাদার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে তাকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) এবং বিভাগীয় তদন্ত শেষে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত (Dismissal from Service) করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
* **দণ্ডবিধিতে মেয়াদি কারাদণ্ড:** নার্স ও স্টাফদের শ্লীলতাহানি, কুরুচিপূর্ণ আচরণ এবং কর্মস্থলে গালিগালাজ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে *বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code)*-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা সাপেক্ষ সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত মেয়াদি কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
* **মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজা:** ইয়াবা ও হিরোইন সেবন এবং বহনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে *মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮* অনুযায়ী ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কঠোর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
দুদক কর্তৃক সম্পদ ক্রোক ও বিচার:জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধানে *দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪*-এর অধীনে মামলা দায়ের, অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (Confiscation) এবং দীর্ঘমেয়াদি জেল খাটার আইনি পথ উন্মুক্ত রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ভুক্তভোগী চিকিৎসাপ্রার্থীরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত কর্মকর্তার যাবতীয় অপকর্মের সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।