তারিখ ও সময়: ১০ আগস্ট ২০২৫, ২২:৪৫
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ — জনতার কণ্ঠস্বর
www.bangladeshprothomsangbad.com
রাজশাহীতে অবৈধ ভিসা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ: অনুমোদনহীন ভিসা বাণিজ্য নিয়ে তোলপাড়
রাজশাহীতে সক্রিয় একটি অবৈধ ভিসা প্রতারণা চক্র স্থানীয় জনমনে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আশিক মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি “বাঘা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস” ব্যানারে ভারতীয় ভিসা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে প্রতিটি আবেদনকারীর কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা করে আদায় করছেন— যা সরকারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে, বেআইনি পথে পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কেবলমাত্র বৈধ ও জরুরি আবেদনপত্রের ভিত্তিতে ভিসা প্রদান করে থাকে। কিন্তু অভিযুক্ত চক্রটি ‘গ্যারান্টিযুক্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ এবং সম্পূর্ণ ভিসা প্রসেসিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বহুগুণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রত্যক্ষ কথোপকথনে আশিক মাহমুদ নাকি স্বীকার করেছেন, নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধের বিনিময়ে ভিসা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি “Indian Visa Help Group Rajshahi” নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ পরিচালনা করছেন, যেখানে সদস্য সংখ্যা ১১ হাজারেরও বেশি। সেখানে তিনি দাবি করছেন তার মাধ্যমে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার অত্যন্ত কম, বিশেষ করে মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন ও রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ধরনের প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে, কারণ ব্যক্তিগতভাবে ভিসা প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের বিষয়ে কঠোর নীতিমালা বিদ্যমান।
ভারতীয় জাতীয় পতাকার অপব্যবহার
অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ফেসবুক গ্রুপের ব্যানারে ভারতীয় ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের Emblems and Names (Prevention of Improper Use) Act, 1950 এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন উভয়েরই লঙ্ঘন। অনুমোদন ছাড়া জাতীয় প্রতীক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা বাংলাদেশেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের কাজ দ্বিপাক্ষিক আস্থার ক্ষতি করতে পারে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
জনসচেতনতার আহ্বান
ভারতের হাইকমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করেছে, যেন অনুমোদনহীন এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ভিসা আবেদন না করা হয়। দ্রুত ভিসা দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা প্রতারণামূলক চক্রের ফাঁদে না পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আবেদনকারীরা অর্থ হারানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভিসা প্রাপ্তির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ
প্রাপ্ত তথ্যমতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা করা শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com