রাউজানের রাজনীতিতে ‘দালাল’ তকমা: গণধোলাইয়ের শিকার ইলিয়াজ নুরী!
নিজস্ব প্রতিবেদক | রাউজান
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাউজানের রাজনীতির পর্দার আড়ালের ‘খেলোয়াড়’ হিসেবে পরিচিত ইলিয়াজ নুরীর ওপর এবার জনরোষ আছড়ে পড়েছে। গত দুই দিন আগে কাগতিয়া বাজারে নির্বাচনী প্রচারণার সময় মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, বিগত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন করে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এই ‘মোমবাতি’ মার্কার প্রার্থী।

ফজলে করিমের ‘গৃহপালিত’ দালালের উত্থান ও পতন
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, ইলিয়াজ নুরী কোনো আদর্শিক নেতা নন, বরং তিনি ছিলেন ফজলে করিমের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এক অনুচর। অভিযোগ আছে:
ভোট বাণিজ্য: তিনবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র নিলেও প্রতিবারই নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ফজলে করিমের সাথে গোপন আঁতাত করে তিনি সরে দাঁড়ান। এর বিনিময়ে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা।
বিনা ভোটের কারিগর: তার এই পরিকল্পিত ‘সরে দাঁড়ানো’র কারণেই মূলত ফজলে করিম তিনবার রাউজান থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বা নামমাত্র নির্বাচনে এমপি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
১৭ বছরের দাসত্ব: গত ১৭ বছর ধরে তিনি নিজের দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করলেও ব্যক্তিগতভাবে ফজলে করিমের আজ্ঞাবহ হয়েই কাজ করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির ওপর নারকীয় তাণ্ডব
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি উঠেছে ২০১৮ সালকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, ফজলে করিমের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এবং ইলিয়াজ নুরীর নেতৃত্বে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির শাখাগুলোতে নারকীয় হামলা চালানো হয়।
"সেদিন শুধু লুটপাট আর ভাঙচুর নয়, বরং পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ইলিয়াজ নুরী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তবলীগ কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে বাড়িছাড়া করেছেন।" — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভুক্তভোগী।
কাগতিয়া বাজারে গণরোষের মুখে নুরী
এত বছর ধরে রাউজানের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালালেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইলিয়াজ নুরীর পালানোর পথ সরু হয়ে আসছে। গত দুদিন আগে তিনি যখন পুনরায় ‘মোমবাতি’ মার্কা নিয়ে নির্বাচনী নাটকে নামেন, তখন কাগতিয়া বাজারে মুনিরীয়া যুব তবলীগের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে তার ওপর হামলা চালানো হয়। সাধারণ মানুষ বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি ১৭ বছরের দালালি ও অত্যাচারের ফসল।
বর্তমানে এই ‘আওয়ামী দালাল’ হিসেবে পরিচিত নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাউজানের মাটিতে তাকে আর কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ স্থানীয় জনতা ও নির্যাতিত ধর্মপ্রাণ কর্মীরা।