যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু
আওয়ামী লীগ অনিশ্চিত, বিএনপি ও জামায়াতের মাঠে তৎপরতা বাড়ছে
প্রতিবেদন: হাফিজুর রহমান | কেশবপুর প্রতিনিধি
বিশ্লেষণ ও সম্পাদনা: মোঃ নাজমুল হাসান | রাজনৈতিক বিশ্লেষক
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে নামা শুরু হয়ে গেছে। শাসকদল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায়—এলাকাটিতে রাজনৈতিক মাঠ অনেকটাই খোলা। এই শূন্যতায় বিএনপি ও জামায়াত ঘরানার প্রার্থীরা জোরেশোরে তৎপর হয়ে উঠেছেন।
---
বিএনপির পক্ষে এগিয়ে আছেন কারা?
আলহাজ্জ আবুল হোসেন আজাদ
সভাপতি, কেশবপুর উপজেলা বিএনপি
সদস্য, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি
১৯৯৮ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে কেশবপুরের রাজনীতিতে এক নিঃশব্দ বিপ্লব শুরু করেন এই মানুষটি। মসজিদ, মাদ্রাসা, কলেজ, দোকানিদের জায়গা, কর্মীদের মামলা-মোকদ্দমা—সব কিছুর পেছনে থেকেছেন তিনি, সামনে থেকে প্রচারের বদলে।
২০০০ সালেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নয়টি মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেন। অথচ এই অবদান কখনো প্রচার না করে তিনি চুপচাপ নিজের কাজ করে গেছেন।
> "যিনি দান করে প্রচার করেন না, তিনিই প্রকৃত জনসেবক"—এটি আজাদ সাহেবের জীবনের সারাংশ হয়ে উঠেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে কেশবপুরে মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় জমি দান, পৌরসভার পার্টি অফিস প্রাঙ্গণে ২৫ বছর ধরে দোকানিদের বিনা ভাড়ায় জায়গা ব্যবহারের সুযোগ, এবং অসংখ্য নেতাকর্মীর জামিন ও চিকিৎসায় সহায়তা—সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কেবল দলের নয়, জনমানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা, আহত ছাত্রদল নেতা খাইরুল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পলাশের চিকিৎসা নিজের খরচে করানো—তার কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের বাস্তব প্রমাণ।
তিনি আজ কেবল মনোনয়নপ্রত্যাশী নন—তিনি কর্মীদের আত্মবিশ্বাসের নাম।
নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় তাকে এখন কেশবপুরে বিএনপির সবচেয়ে আস্থা-যোগ্য ও সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
---
অমলেন্দু দাস অপু
সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি
বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হলেও কেশবপুরে তার সরাসরি তৎপরতা শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের আগস্টের পর থেকে। নিয়মিত ইউনিয়ন পর্যায়ে গণসংযোগ চালালেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ার প্রক্রিয়ায় এখনও সময় প্রয়োজন। সাংগঠনিকভাবে আরও সংহতি দরকার তার রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে গতি আনতে।
---
কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ
সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল
সদস্য, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি
আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হয়েও বিএনপির আদর্শে অবিচল থাকা এই তরুণ নেতা নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছেন আত্মত্যাগ ও আত্মপ্রত্যয়ের মিশেলে। পরিবারের ত্যাজ্যপুত্র হওয়া, দলীয় আদর্শে অবিচল থাকা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নিজের জায়গা করে নেওয়ার পরেও তিনি এখনো মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগে সরাসরি নামেননি।
তবে তার ত্যাগের প্রতীকী মর্যাদা এবং দলের প্রতি নিষ্ঠা তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে জায়গা করে দিচ্ছে জনমনে।
জামায়াতের পক্ষে: অধ্যাপক মোক্তার আলী
আমীর, কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামি
দীর্ঘ সময় ধরে জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত থেকে সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গণসংযোগ চালাচ্ছেন। যদিও দলীয় কাঠামো দুর্বল, তবে ব্যক্তি পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা তাকে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখছে না।
আওয়ামী লীগ: নেতৃত্বের শূন্যতা, সাংগঠনিক স্থবিরতা
এই আসনে এখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি এবং মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের কোনো শক্তিশালী তৎপরতা চোখে পড়ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জন করে, তাহলে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী ভোটব্যাংক যেই বিরোধী প্রার্থীর দিকে যাবে, তাকেই এগিয়ে দেবে।
রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনমত: কে কতদূর এগিয়ে?
প্রার্থী অবস্থান মূল্যায়ন
আবুল হোসেন আজাদ জনআস্থার প্রতীক, সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে মজবুত
রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ত্যাগের প্রতীক, কেন্দ্রীয়ভাবে সক্রিয়
অমলেন্দু দাস অপু মাঠে নিয়মিত থাকলেও সংযোগ গড়ার সময় প্রয়োজন
মোক্তার আলী সীমিত কাঠামো হলেও ব্যক্তি পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য
---
শেষ কথা: সম্ভাবনার লড়াই জমে উঠছে
কেশবপুর এখনো সিদ্ধান্তহীন রাজনৈতিক আবহে রয়েছে। তবে মাঠের অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা ও দীর্ঘদিনের নিরব ত্যাগের নিরিখে আলহাজ্জ আবুল হোসেন আজাদই সবচেয়ে সংগঠিত ও জয়ের সম্ভাব্য মুখ।
যদি মাঠে বিএনপি সঠিক সমন্বয় ও জনসম্পৃক্ত প্রচারণা ধরে রাখতে পারে, তাহলে এই আসনে আজাদের জয় শুধু সম্ভাবনা নয়—সম্ভাব্য বাস্তবতাও হতে পারে।
---
বিশেষ পর্যবেক্ষণ:
এই আসনের নির্ধারক ফ্যাক্টর হতে পারে মাঠের সংগঠিত জনসম্পৃক্ততা, এবং সেই জায়গায় আজাদই আছেন জনতার পাশে, ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে নয়—ভবিষ্যতের জন্য হাঁটছেন।
> "আলহাজ্জ আজাদ ভাই যেন এমপি হন—এটাই এখন মাঠকর্মীদের প্রাণের প্রার্থনা।"