মালিকুজ্জামান কাকা
নিজস্ব প্রতিবেদন | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
যশোর শহরের রেলগেটসংলগ্ন রায়পাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, রায়পাড়া, সাড় অফিস এলাকা, আলতাফের মোড়, ইসমাইল কলোনি, রেলগেট পশ্চিমপাড়া, আলীগড় মসজিদ রোড, চোরমারা দীঘির পাড়, ডালমিল এলাকা ও কলাবাগান পাড়ায় মাদক কেনাবেচার তৎপরতা রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এলাকার তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের কয়েকজনের অভিযোগ, রেলগেট পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত লাইলী নামের এক নারীকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় মাদক কারবারের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। তাঁদের দাবি, এই নেটওয়ার্কে বিভিন্ন পর্যায়ে সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও কথিত এজেন্ট রয়েছেন; সদস্যসংখ্যা শতাধিক হতে পারে। তবে এই সংখ্যা, নেটওয়ার্কের প্রকৃত কাঠামো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সামাজিক প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যেও মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তাঁদের ভাষ্য, কিছু স্থানে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হলেও সাধারণ মানুষ ভয়ে বা নানা কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। ফলে প্রকৃত চিত্র নিরূপণ, সংশ্লিষ্টদের শনাক্তকরণ এবং মাদক সরবরাহের উৎস চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
মাদক বিস্তারে উদ্বেগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যশোর রেলগেট ও রায়পাড়ার আশপাশের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ নতুন নয়। তাঁদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তরুণদের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা, পারিবারিক অস্থিরতা, ছিনতাইসহ সম্ভাব্য অপরাধের ঝুঁকি এবং এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশের অবনতি।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ সরাসরি বিক্রি, কেউ সরবরাহ এবং কেউ মধ্যস্থতার কাজ করতে পারেন। তবে কে কোন ভূমিকা পালন করছেন, কোন ধরনের মাদক কোথা থেকে আসছে, কীভাবে তা বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাচ্ছে এবং কথিত নেটওয়ার্কের আর্থিক লেনদেন কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
মাদক কারবারের অভিযোগ তদন্তে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। সরবরাহের উৎস, মজুতের স্থান, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের মাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা আইনসম্মত উপায়ে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
লাইলী ও তাঁর পরিচিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগে লাইলী নামের ওই নারীর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও পরিচিত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তবে অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আত্মীয়তা, পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা একই এলাকায় বসবাস করাকে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, লাইলীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত আলমগীর নামের এক ব্যক্তি গত সেপ্টেম্বর মাসে ডিবি পুলিশের একটি অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক হন এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে আটকের তারিখ, মামলার নম্বর, উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ, আদালতের আদেশ এবং তাঁর সঙ্গে কথিত নেটওয়ার্কের সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট পুলিশ নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকসহ আটকের অভিযোগ থাকলেই তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্য অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়ে যায় না। একইভাবে, কারও সঙ্গে পরিচিতি বা আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকাও অপরাধে সম্পৃক্ততার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে পৃথক তথ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক।
সীমান্তপথে মাদক ও অস্ত্র আনার অভিযোগ
স্থানীয় অভিযোগে চৌগাছা উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন কুলিয়া এলাকার একটি পথ ব্যবহার করে মাদক ও অস্ত্র আনার কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সীমান্তকেন্দ্রিক যোগাযোগের মাধ্যমে কথিত নেটওয়ার্কের সরবরাহব্যবস্থা পরিচালিত হতে পারে।
তবে সীমান্তপথে মাদক কিংবা অস্ত্র আনার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এ বিষয়ে কোনো জব্দতালিকা, মামলা, গোয়েন্দা তথ্যের প্রকাশযোগ্য অংশ, আদালতের নথি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া ছাড়া অভিযোগটিকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করা সমীচীন নয়।
যদি এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে তা যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তে সরবরাহের উৎস ও অর্থের লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রশাসনকে অর্থ দেওয়ার দাবির সত্যতা যাচাই জরুরি
স্থানীয়দের অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, লাইলী নামের ওই নারী প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি সংস্থাকে নিয়মিত অর্থ দেওয়ার কথা বলে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি থানায় মাসে ৩২ হাজার টাকা এবং র্যাবকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন বলে কথিত বক্তব্য প্রচলিত রয়েছে।
তবে এই বক্তব্যের কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা অডিও, ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর নিশ্চিত বিবরণ, আর্থিক লেনদেনের নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অর্থ দেওয়ার দাবিকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। এমন দাবি সত্য হলে তা দুর্নীতি ও দায়িত্বের অপব্যবহারসংক্রান্ত গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে; আর মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনামের ক্ষতি হতে পারে।
এ বিষয়ে যশোরের সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা পুলিশ ও র্যাবের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে দায়ী করা ন্যায়সংগত নয়।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ, প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত
স্থানীয় অভিযোগে সাগর ও রমজান নামের দুই ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে লাইলীর কথিত বিরোধের সম্পর্ক থাকার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের একাংশের ভাষ্য, মাদক কারবারের আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে ওই দুই ভাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকতে পারেন এবং এ ঘটনায় লাইলীর সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততার অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ বিষয়ে কোনো মামলা, এজাহার, তদন্ত প্রতিবেদন, চার্জশিট, আদালতের পর্যবেক্ষণ কিংবা নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই কাউকে হত্যার নির্দেশদাতা বা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি এই মুহূর্তে নেই।
ঘটনা দুটি কোন তারিখে ঘটেছে, কোন থানায় মামলা হয়েছে, তদন্তের বর্তমান অবস্থা কী এবং পুলিশ এ বিষয়ে কী বলছে—এসব তথ্য সংগ্রহ করে আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মাদক কারবারের কোনো যোগসূত্র থাকলে তদন্তকারী সংস্থার উচিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা নিরূপণ করা।
পারিবারিক সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন, তবে প্রমাণই মুখ্য
স্থানীয় সূত্রের বর্ণনায় লাইলীর পরিবারের সদস্যদের সাম্প্রতিক হজযাত্রা, একটি বড় গরু কোরবানি দেওয়া এবং শহরতলির বেড়বাড়ি এলাকায় একটি বাড়ি থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় তুলে ধরে অভিযোগকারীদের কেউ কেউ তাঁর আর্থিক সামর্থ্য ও কথিত মাদক কারবারের মধ্যে সম্পর্ক থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তবে হজ পালন, গরু কোরবানি দেওয়া কিংবা বাড়ির মালিকানা—কোনোটিই নিজে থেকে অপরাধের প্রমাণ নয়। কোনো সম্পদের সঙ্গে অবৈধ আয়ের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে মালিকানা, আয়ের উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথি যাচাই করতে হবে। কেবল জীবনযাত্রার ধরন দেখে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না।
রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও যাচাইয়ের দাবি রাখে
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা লাইলীকে মদদ দিতে পারেন। তবে তাঁদের নাম, নির্দিষ্ট ভূমিকা, প্রত্যক্ষ সহযোগিতার প্রমাণ কিংবা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, মাদক কারবারে কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে তাঁকে অপরাধে জড়িত বলে প্রচার করা উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা: মাদকমুক্ত পরিবেশ ও নিরপেক্ষ অভিযান
রেলগেট, রায়পাড়া ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, মাদক কারবারের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাঁরা চান, মাদকের সরবরাহব্যবস্থা চিহ্নিত করা, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হোক।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং আইনসম্মতভাবে তথ্য দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
আইনের দৃষ্টিতে মাদক কারবারের পরিণতি
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, সরবরাহ ও বিক্রিসংক্রান্ত অপরাধের বিচার প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী হয়ে থাকে। মাদকদ্রব্যের ধরন, পরিমাণ, অপরাধের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকার ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারিত হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ডসহ আইননির্ধারিত শাস্তি হতে পারে।
অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র রাখা বা বহন এবং সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধের উপাদান ও প্রমাণ অনুযায়ী পৃথক আইন প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে আগাম কাউকে দোষী ঘোষণা করা যায় না। তদন্ত, বিচার এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই অপরাধের দায় নির্ধারিত হবে।
বক্তব্য ও নথি যাচাইয়ের অপেক্ষা
এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে লাইলী, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই মুহূর্তে প্রতিবেদকের হাতে নেই। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও প্রামাণ্য তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর সম্পাদকীয় নীতি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়ার পর তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। নতুন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রতিবেদন সংশোধন বা হালনাগাদ করা হবে।
যশোরের নগরবাসীর নিরাপত্তা, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতি থেকে রক্ষা এবং অপরাধের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা—এই তিনটি বিষয়ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ সত্য হলে প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য হলে সেটিও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।