মুন্সিগঞ্জে তিন আসনে এমপি-মেয়র হতে চান যারা
মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে তুমুল আলোচনা
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ সুজন বেপারী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপিতে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও জোর প্রস্তুতি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তবে এখনো পর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। দল থেকেও কাউকে সবুজ সংকেত দেয়া হয়নি। ফলে তিনটি আসন ও দুটি পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
---
মুন্সিগঞ্জ-১ আসন
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দৌড়ে রয়েছেন তিন প্রভাবশালী নেতা— মীর সরফত আলী সপু, দলটির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক; শেখ মো. আব্দুল্লাহ, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য; এবং আলহাজ মমিন আলী, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
এ তিনজনই স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় এবং নিজ নিজ এলাকায় শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছেন। ফলে দলীয় মনোনয়ন কার হাতে যাবে তা নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা।
---
মুন্সিগঞ্জ-২ আসন
এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান; অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, দলের যুগ্ম মহাসচিব; এবং মিজানুর রহমান সিনহা, জেলা বিএনপির আহবায়ক, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য।
তিনজনই জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ এবং দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সৈনিক। তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে মাঠে তৃণমূল পর্যায়ে চলছে তৎপরতা।
---
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসন
এই আসনে মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপি আহবায়ক সদস্য সচিব; কামরুজ্জামান রতন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক; এবং মোঃ মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপি আহবায়ক সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি (সিআইপি)।
তিনজনের মধ্যেই রয়েছে সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা। তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মিশেলে এই আসনে মনোনয়ন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
---
মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা
পৌর মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন শহিদুল ইসলাম শহীদ, জেলা বিএনপি আহবায়ক সদস্য ও শহর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক; এবং একেএম ইরাদত মানু, পৌরসভার সাবেক মেয়র।
দু’জনই পৌর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এবং দলীয় ভিত্তিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখছেন।
---
মিরকাদিম পৌরসভা
এই পৌরসভায় মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন শামসু রহমান, মিরকাদিম পৌর বিএনপি নেতা; মিজানুর রহমান মিজান, মিরকাদিম পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি; মোঃ রেনু হোসাইন, মিরকাদিম পৌরসভার সাবেক মেয়র (স্বতন্ত্র); এবং বিপ্লব মাহমুদ, মিরকাদিম পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি।
এদের মধ্যে কে মনোনয়ন পাবেন বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন, তা নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা।
---
বিএনপির অবস্থান
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান,
“আমরা এমন রাজনৈতিক দল নই যে আগে থেকেই একজনের নাম ঠিক করে রাখব। আমাদের দলে একই আসনে একাধিক যোগ্য নেতা থাকতে পারেন। এলাকায় সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থীই মনোনয়ন পাবেন।”
তিনি আরও বলেন,
“এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তফসিল ঘোষণার পরই আমরা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করব। অন্য দলগুলোর মতো একক প্রার্থী নির্ধারণ করা আমাদের নীতি নয় — আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করি।”
---
সারসংক্ষেপ
মুন্সিগঞ্জের তিনটি আসন ও দুটি পৌরসভায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে এখন চলছে জোর প্রস্তুতি ও আলোচনার ঝড়। মাঠে ব্যস্ত নেতাকর্মীরা, তৃণমূলেও চলছে গ্রহণযোগ্যতা যাচাই। শেষ পর্যন্ত কে দলের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামবেন — তা এখন সময়ই বলে দেবে।