মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিজ্ঞতা: জেলে মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির বিরুদ্ধে ন্যায়ের আহ্বান
ঢাকা, ১২ নভেম্বর ২০২৫ – দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষের জীবন বিধ্বস্ত হয়েছে মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির কারণে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিজ্ঞতা এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ফখরুল বলেন, “গত পনেরো বছরে বাংলাদেশের জেলে লাখ লাখ কর্মী এবং সাধারণ মানুষ মিথ্যা মামলায় বন্দী হয়েছেন। আমার নিজের জেলার হাজার ছেলের পুরো জীবন শেষ হয়ে গেছে। আমি নিজেও আড়াই বছরের বেশি সময় জেলে ছিলাম, আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের করা ১১০-এর বেশি মামলা দায়ের হয়েছিল—যা ময়লার গাড়ি পোড়ানো থেকে শুরু করে হত্যা মামলা পর্যন্ত বিস্তৃত।”
তিনি আরও বলেন, “জেলে আমাদের যুবকরা কেমন অত্যাচারের শিকার হয়েছে তা কেউ সহজে বুঝতে পারবে না। তাদের পুরো জীবন, ভবিষ্যৎ, পড়াশোনা, সংসার—সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। এদের পরিবার সর্বস্বান্ত। যারা মাঠের রাজনীতিতে নেই, তারা এই সংগ্রামের প্রকৃত অবস্থা জানবে না।”
ফখরুল বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি এবং তার পরিবারের ওপর প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রাজনীতিতে দমে যাননি। “আমরা প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। সাতবার জামিন রিজেক্টেড হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু আমরা প্রতিশোধ চাই না। আমরা চাই ন্যায় প্রতিষ্ঠা হোক।”
তিনি সরকারের প্রতি স্পষ্টভাবে আহ্বান জানান, “প্রতিটি রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের করা প্রতিটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। হাসিনার এবং তার মাফিয়া বাহিনীর প্রতিটি অপরাধের বিচার করতে হবে। আমাদের রাজনীতি ইনসাফভিত্তিক—নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।”
ফখরুলের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শুধুমাত্র নেতাদের নয়, সাধারণ মানুষের জীবনকেও প্রভাবিত করছে। তিনি দাবি করেন, দেশের আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে সামাজিক ন্যায়ের পথে দৃঢ়তা ও সরকারের স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থার প্রতিফলন থাকা জরুরি।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলার শিকারদের স্বর তুলে ধরার জন্য ফখরুল নিয়মিত তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে অভিজ্ঞতা ও তথ্য শেয়ার করছেন। এই অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের সামনে একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।