সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মানবিকতার শক্তিতে রূপান্তর, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা এবং দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে সহমর্মিতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলছেন প্রিসিলা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানুষের পরিচয় কেবল তাঁর অবস্থান, সম্পদ কিংবা সামাজিক মর্যাদায় নির্ধারিত হয় না; মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা এবং অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাই তাঁকে আলাদা করে চেনায়। পৃথিবীর এক প্রান্তে বসবাস করেও যাঁর হৃদয়ের টান নিজের দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেবল ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার মাধ্যম হিসেবে না দেখে মানুষের কথা বলার একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার চেষ্টা করেছেন, তিনি ফাতেমা নাজনীন প্রিসিলা। সবার কাছে পরিচিত প্রিসিলা নামে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করলেও বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, অসহায় শিশু, অসচ্ছল পরিবার এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে মানবিক উদ্যোগ, সামাজিক সচেতনতা, মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা।
প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা, আধুনিক নগরজীবনের নানা সুযোগ-সুবিধা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনযাপনের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরার যে প্রয়াস তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
জনপ্রিয়তার চেয়ে মানুষের গল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রচেষ্টা
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন অনেকের কাছে বড় লক্ষ্য। ছবি, ভিডিও, বিনোদন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন অসংখ্য কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সেই একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যদি কোনো মানুষ সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা তুলে ধরেন, তাঁদের সমস্যাকে আলোচনায় আনেন এবং অন্যদের সহযোগিতায় উৎসাহিত করেন, তাহলে সেই উদ্যোগের সামাজিক গুরুত্ব অনেক বেশি।
প্রিসিলার পরিচিতির অন্যতম জায়গা এখানেই।
ফেসবুক ও ইউটিউবে তাঁর বিভিন্ন ভিডিও ও সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন, সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং বাস্তবতার গল্প। সমাজের যেসব মানুষের কথা অনেক সময় মূলধারার আলোচনায় স্থান পায় না, তাঁদের জীবনকথা সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে তিনি দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
একজন অসহায় মানুষের জীবনসংগ্রাম যখন হাজারো মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়, তখন সেটি শুধু একটি ভিডিও থাকে না; সেটি অন্য মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করার একটি সুযোগও হয়ে ওঠে। এই জায়গায় প্রিসিলার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক উদ্যোগ
প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় প্রিসিলা বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। খাবার, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহযোগিতা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন প্রদানের মতো কর্মকাণ্ড তাঁর মানবিক কার্যক্রমের আলোচিত অংশ।
বিশেষ করে একজন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া কেবল একটি যন্ত্র উপহার দেওয়ার বিষয় নয়; এটি তাঁর নিজের উপার্জনের পথ তৈরিতে সহায়তা করার একটি উদ্যোগ। একইভাবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা একটি পরিবার কিংবা এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
মানবিক সহায়তার প্রকৃত সৌন্দর্য এখানেই, যে সহায়তা একজন মানুষের সাময়িক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করে।
মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার সাহসী উদ্যোগ
প্রিসিলার কর্মকাণ্ডের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সাধারণ মানুষের কথা শোনার চেষ্টা। সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁদের জীবনে রয়েছে অসংখ্য অভিজ্ঞতা, দুঃখ-কষ্ট, সাফল্য ও ব্যর্থতার গল্প। কিন্তু তাঁদের কথা শোনার মতো মানুষ কিংবা তাঁদের গল্প তুলে ধরার মতো প্ল্যাটফর্ম সব সময় তৈরি হয় না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন মানুষের জীবনকাহিনি তুলে ধরার মাধ্যমে প্রিসিলা সেই জায়গায় একটি ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন।
একজন শ্রমজীবী মানুষ, একজন সংগ্রামী নারী, একজন অসহায় শিশু কিংবা জীবনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়া কোনো ব্যক্তির গল্প সমাজের অন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। কখনো একটি গল্প অন্য কারও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
শৈশব থেকে প্রবাসজীবন, তারপর মানবিক কর্মকাণ্ডে পরিচিতি
প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাতেমা নাজনীন প্রিসিলা ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিও তাঁর আগ্রহ ছিল। অভিনয়, মডেলিং, নাচ ও গানের মতো বিষয়ে আগ্রহের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিচিতি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০১৭ সাল থেকে মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে।
একজন প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা এবং দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে আগ্রহী থাকা তাঁর পরিচিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
‘পথ চলার গল্প’, নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার প্রয়াস
২০২২ সালে প্রকাশিত প্রিসিলার আত্মজীবনীমূলক বই ‘পথ চলার গল্প’ তাঁর ব্যক্তিগত পথচলা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পাঠকদের পরিচিত হওয়ার একটি মাধ্যম।
একজন মানুষের জীবনের পথচলা কখনোই সম্পূর্ণ মসৃণ হয় না। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিজ্ঞতা, পরিবর্তন, চ্যালেঞ্জ এবং নতুন উপলব্ধি তৈরি হয়। নিজের অভিজ্ঞতা বইয়ের মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উপাদান হতে পারে।
বিশেষ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, মানুষের জীবন এবং সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি, কাজের স্বীকৃতি মানুষের অনুপ্রেরণা
প্রিসিলার সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্মাননা অর্জনের বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
২০২২ সালে নিউইয়র্কে সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের টাউন অব হেম্পস্টেড থেকে বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
কোনো সম্মাননা একজন মানুষের কাজের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়; বরং ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। সম্মাননার প্রকৃত মর্যাদা তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন সেই স্বীকৃতি মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করার প্রেরণা হয়ে ওঠে।
একজন মানুষের উদ্যোগ, হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণা
বাংলাদেশে এখনো অনেক পরিবার রয়েছে, যাদের কাছে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সহজলভ্য নয়। অনেক শিশু আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ে। অনেক নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পান না। আবার অনেক অসহায় পরিবার রয়েছে, যাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোই কঠিন।
এসব সমস্যার সমাধান শুধু একজন ব্যক্তি কিংবা একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, সামাজিক সংগঠনের দায়িত্বশীল ভূমিকা, বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
এখানে প্রিসিলার মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বের সামাজিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ তাঁদের একটি বক্তব্য, একটি ভিডিও কিংবা একটি মানবিক উদ্যোগ অনেক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
নারী নেতৃত্ব ও মানবিক দায়িত্ববোধের ইতিবাচক উদাহরণ
একজন নারী নিজের উদ্যোগ, চিন্তাভাবনা এবং কর্মের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশীদার হতে পারেন। প্রিসিলার কর্মকাণ্ড সেই সম্ভাবনার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
নারীদের সামাজিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব, আত্মনির্ভরশীলতা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা একটি উন্নত সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
বিশেষ করে তরুণীদের জন্য শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, অন্যের জীবনে ইতিবাচক অবদান রাখার মধ্যেও জীবনের বড় সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও একটি বার্তা
প্রিসিলার কর্মকাণ্ড প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। দেশ থেকে দূরে থাকলেও দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা যায়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, বিশুদ্ধ পানি, নারী উন্নয়ন ও শিশুদের কল্যাণে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রবাসে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। কেউ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেন, কেউ অসহায় পরিবারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, কেউ আবার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেন।
এই উদ্যোগগুলো একত্রিত হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রশংসার পাশাপাশি প্রত্যাশাও অনেক
মানুষের ভালো কাজের প্রশংসা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই কাজের ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করাও জরুরি। কারণ মানবিক কর্মকাণ্ড কোনো একদিনের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ববোধের পরিচয়।
প্রিসিলার কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তিনি ভবিষ্যতে আরও বেশি অসহায় শিশুর শিক্ষা, দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন।
একই সঙ্গে তাঁর সামাজিক প্ল্যাটফর্মে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রকৃত সমস্যা, সম্ভাবনাময় তরুণ, সংগ্রামী নারী, মেধাবী শিক্ষার্থী এবং অবহেলিত মানুষের গল্প আরও বেশি জায়গা পাক।
তাঁর জনপ্রিয়তা যেন মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজে লাগে, এটাই হতে পারে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদের মূল্যায়ন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে যাঁরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করেন, তাঁদের ভালো উদ্যোগগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ সমাজে শুধু সমস্যা, অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ নয়; মানবিকতা, সহমর্মিতা, সাফল্য এবং অনুকরণীয় উদ্যোগের সংবাদও মানুষের সামনে আসা উচিত।
ফাতেমা নাজনীন প্রিসিলার কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক দিক হলো, তিনি প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের মানুষের জীবনসংগ্রামকে আলোচনায় আনার চেষ্টা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মানুষের গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
তাঁর এই প্রচেষ্টা আরও বিস্তৃত হোক। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন তাঁর মতো মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় নিজেদের কথা তুলে ধরার সুযোগ পান।
একটি সমাজ তখনই সুন্দর হয়ে ওঠে, যখন সামর্থ্যবান মানুষ অসহায় মানুষের কথা ভাবেন, যখন জনপ্রিয় মানুষ নিজের পরিচিতিকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগান এবং যখন একজন মানুষের ভালো কাজ অন্য দশজনকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে।
প্রিসিলা ফাতেমার প্রতি রইল আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন। তাঁর মানবিক পথচলা অব্যাহত থাকুক, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রচেষ্টা আরও বিস্তৃত হোক। প্রবাসের মাটিতে থেকেও বাংলাদেশের মানুষের জন্য তাঁর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ নতুন নতুন মানবিক উদ্যোগের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক।
মানুষের জন্য কাজ করাই হোক পরিচয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর