তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সময়: ০৩:৪৫ PM
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মানবতার মুক্তিদাতা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও জীবনাদর্শের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) মানবতার মুক্তি, সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার যে মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি শিখিয়েছেন, ন্যায়বিচার কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সমগ্র মানবজাতির মৌলিক অধিকার।’
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘এ দিন বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়সহ শান্তিকামী সকল মানুষের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণীয়। তিনি ছিলেন মহানুভবতা, সহনশীলতা, সততা, নিষ্ঠা ও নানা মানবিক গুণে গুণান্বিত একজন মহামানব, মানবজাতির পথ প্রদর্শক।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘মহানবী (সা.) ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, সাহসিকতা এবং নৈতিক দৃঢ়তার সর্বোচ্চ উদাহরণ স্থাপন করেছেন। বিচারকার্য পরিচালনায় কোনো ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, সম্পদ বা ক্ষমতার প্রভাব বিবেচ্য হবে না; বরং সবার জন্য একই আইন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনাঙ্গনের সকল সদস্যের জন্য এটি কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং একটি নৈতিক অঙ্গীকার।’
প্রধান বিচারপতি সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের গুরুত্বেও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) মদিনার সনদের মাধ্যমে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। আমাদের জাতীয় জীবনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’
তিনি ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর এই পবিত্র দিনে সকলের প্রতি আহ্বান জানান, মহানবী (সা.)-এর মানবতামূলক শিক্ষা ও ন্যায়বিচারের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে বৈষম্য, অন্যায় ও বিদ্বেষ পরিহার করে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে।