মোঃ রাহিমুল ইসলাম হৃদয়
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
একটি ড্রামট্রাকের বেপরোয়া গতির বলি হয়ে জীবন গেল বাহাজ উদ্দিন বানু মিয়ার—একজন অটোরিকশা চালক, একজন পিতা, একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। তার মৃত্যু যেন ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।
গতকাল রোববার (১৩ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের ঘুনটিঘর এলাকায় ঘটে যায় এই হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা। দ্রুতগতির একটি ড্রামট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অটোরিকশার যাত্রী, রতনপুরের আবু বকর সিদ্দিকের ১৮ বছর বয়সী অনার্স পড়ুয়া মেয়ে আনিকা।
আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রাণ হারান অটোচালক বাহাজ উদ্দিন বানু (৩৩)। তার মৃত্যুতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের মাওলানাপাড়া গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্থানীয় হাজারো মানুষ চোখের জল ফেলেছে তার জানাজায়।
বানু মিয়া ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার তিনটি কন্যা সন্তান এখন পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়। সংসারের চাকা থেমে গেছে, স্কুলের খরচ, চিকিৎসা, খাবার—সবই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সায়াদাত মো. বজলুর রহমান বলেন,
“এই পরিবার এখন নিঃস্ব। সরকারের উচিত দ্রুত তাদের পাশে দাঁড়ানো।”
সড়ক পরিবহন আইনের ৮৩ ধারা অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখে। এলাকাবাসী এই আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
তারা চান, প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যেন দ্রুত তদন্ত শেষে আনিকা ও বানু মিয়ার পরিবারকে অনুদান দেওয়া হয়।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি নিশ্চিত করেছেন,
“আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনুদানের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই সহায়তা আসবে কবে?
ততদিন কি বানুর তিন কন্যা সন্তান অভুক্ত থাকবে?
এই অনিশ্চয়তার মাঝেও তারা এখন একটাই আশায় বুক বাঁধছে—হয়তো কেউ পাশে দাঁড়াবে। হয়তো রাষ্ট্র তার নাগরিক দায়িত্ব বুঝবে।
মানবিকতার এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন সহানুভূতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ।
একটি দুর্ঘটনা যেন একেকটি পরিবারকে ধ্বংস না করে দেয়—এই চেতনায় এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।
এই প্রতিবেদনটি ভূরুঙ্গামারীর রাস্তায় থেমে যাওয়া একটি অটোরিকশার গল্প নয়, এটি একটি জীবনের, একটি পরিবারের, একটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার গল্প।