তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় নেতাকর্মীদের নজিরবিহীন ভালবাসা
ভালোবাসার হিমালয়: কনকনে শীতেও ৩০০ ফিটে ‘তারেক বরণে’ লাখো প্রাণের স্পন্দন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
পৌষের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারপাশ। যখন সাধারণ মানুষ উষ্ণতার খোঁজে গৃহবন্দী, তখন রাজধানী ঢাকার কুড়িল থেকে পূর্বাচলগামী ৩০০ ফিট রাস্তাটি পরিণত হয়েছে এক বিশাল মানবিক মহাসমুদ্রে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আজ প্রিয় নেতা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার মাহেন্দ্রক্ষণ। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে একদিন আগেই সেখানে জড়ো হয়েছেন কয়েক লাখ নেতাকর্মী।
১. রাজপথই যখন বিছানা
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে শুরু করে পূর্বাচল পর্যন্ত মাইলের পর মাইল এলাকা এখন জনসমুদ্রে টইটম্বুর। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল—টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সবখান থেকেই নেতাকর্মীরা ছুটে এসেছেন। বাস, ট্রাক, ট্রলার এমনকি পায়ে হেঁটেও অনেকে পৌঁছেছেন গন্তব্যে। রাতে তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রিতে নামলেও নেতাকর্মীদের উত্তাল স্লোগানে রাজপথ ছিল তপ্ত। খোলা আকাশের নিচে কেবল প্লাস্টিকের বস্তা বা চাদর বিছিয়েই রাত কাটাচ্ছেন তারা। তাদের ভাষ্য— "যে নেতা ১৭ বছর দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার জন্য এক রাত রাস্তায় কাটানো আমাদের কাছে পরম সৌভাগ্যের।"
২. নজিরবিহীন শৃঙ্খলা ও ভালোবাসা
সাধারণত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলেও, ৩০০ ফিটের এই বিশাল জমায়েতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যেই খাবার ও পানি ভাগ করে নিচ্ছেন। রাস্তার পাশে ছোট ছোট জটলা করে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। স্বেচ্ছাসেবী টিমগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে যেন আগত সাধারণ মানুষের কোনো কষ্ট না হয়। নেতার প্রতি এই নিখাদ ভালোবাসা আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
৩. তারেক রহমান: কোটি মানুষের আস্থার শেষ ঠিকানা
সমাবেশে আসা সাধারণ কর্মীদের সাথে কথা বলে বোঝা যায়, কেন তারেক রহমান আজ এত জনপ্রিয়। তাদের মতে:
তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নন, বরং তৃণমূলের কর্মীদের সুখ-দুঃখের সাথী।
প্রবাসে থেকেও যেভাবে তিনি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দল পরিচালনা করেছেন এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা নেতাকর্মীদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন মনোবল তৈরি করেছে।
তার ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা’ এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
৪. প্রতীক্ষার প্রহর শেষ
আজ সকাল থেকেই ৩০০ ফিটের সংবর্ধনা মঞ্চ এলাকায় মানুষের চাপ আরও বাড়ছে। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে সারি সারি মানুষ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য। নেতাকর্মীদের স্লোগান আর গানে পুরো এলাকা এখন উৎসবের নগরী। সবার চোখেমুখে একটাই তৃপ্তি—অপেক্ষার অবসান ঘটছে, প্রিয় ‘দেশনায়ক’ ফিরছেন আপন ঠিকানায়।
রিপোর্টারের মন্তব্য: > রাজনীতির মাঠে অনেক সমাবেশ হয়, কিন্তু ৩০০ ফিটের এই দৃশ্য কোনো সাধারণ সমাবেশ নয়। এটি হলো নেতার প্রতি কর্মীদের এক নজিরবিহীন ভালোবাসার ইশতেহার। এই শীত, এই কষ্ট যেন আজ তাদের কাছে তুচ্ছ; তাদের সব প্রাপ্তি কেবল তারেক রহমানের এক চিলতে হাসি আর হাত নাড়ানোর অপেক্ষায়।