৯ আগস্ট ২০২৫
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
ভারতের সাথে তালপট্টি নিয়ে নৌযুদ্ধ: মহানায়ক জেনারেল জিয়া ও অ্যাডমিরাল মাহবুবের গৌরবময় গল্প
১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর সাতক্ষীরার হাঁড়িভাঙ্গা নদীর মোহনায় বাংলাদেশে নতুন এক দ্বীপের উদ্ভব হয়—দক্ষিণ তালপট্টি। প্রাকৃতিক উপদ্রবের মাঝেও জন্ম নেয় এই দ্বীপ, যার আয়তন ক্রমশ বেড়ে প্রায় ১০ হাজার বর্গমিটার ছুঁয়ে যায়। এই দ্বীপে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের মজুদ পাওয়া যায়, যা ভারতের আগ্রাসী নজর কেড়ে নেয়।
১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের প্রয়াসে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনাও হয়, কিন্তু ফলাফল শূন্য। দুর্বার সাহসী প্রেসিডেন্ট জিয়া নিজেই ভারতের মাটিতে গিয়েও দাবি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হন। তারপরে ভারত দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা দাবি করে ১৯৮০ সালের ২০ ডিসেম্বর। উত্তেজনা সীমা ছুঁয়ে যায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামসুল হক ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তালপট্টি দ্বীপ বাংলাদেশের অংশ।
তবে ১৯৮১ সালের ১১ মে ভারত আইএসএন সন্ধায়ক যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে দ্বীপ দখল করে। এই অবিচার পেরিয়ে আসেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান, যিনি বিএনএস উমর ফারুক জাহাজ নিয়ে দুর্দান্ত নৌসৈন্য বাহিনীসহ যুদ্ধের মাঠে নেমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দ্বীপটি ভারতীয় দখল থেকে মুক্ত করেন। এই জয় ছিল দেশের সামরিক গৌরবের এক মাইলফলক।
তবে সুখ খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই সপ্তাহ পরই দেশের সর্বজনপ্রিয় নেতা রাষ্ট্রপতি জিয়া রহস্যজনকভাবে নিহত হন। তিন বছর পর রহস্যজনক মৃত্যু হয় অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের। তদন্ত কমিটি গঠন হলেও কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
সেই সময়ের ধারাবাহিকতায়, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা ভারতের কাছে যায়। এ ঘটনায় দায়ী ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের কিছু ‘ভারতের দালাল’। সেই একই সময়ে বাংলাদেশ বার্মার সাথেও বিশাল সমুদ্রসীমা হারিয়েছে, কিন্তু তা জাতীয় জনসাধারণের কাছে গোপন রাখা হয়।
আজকের দিনে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের স্বার্থবিরোধী একটি বিশেষ দলের ভারত প্রেম আর দাসত্বের প্রলাপ, যা জাতির অস্তিত্বের জন্য বিপদজনক। ইতিহাসের এই দুঃসহ অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিতে হবে—দেশপ্রেম ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া পথ নেই।
দুই মহান মুক্তিযোদ্ধা জিয়া ও মাহবুবের আত্মত্যাগ যেন আমাদের চেতনায় চিরন্তন প্রেরণা জাগায়, আর কখনো যেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি না হয়।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com