বিশেষ প্রতিবেদন: আতিকুজ্জামান (শার্শা), যশোর দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী রাজীব আহসান। বুধবার দুপুরে পূর্বঘোষণা ছাড়াই বেনাপোল স্থলবন্দরে এসে তিনি কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল, ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড, পণ্য স্ক্যানিং কার্যক্রম ও বিভিন্ন পণ্যাগার ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বন্দরের অবকাঠামো, আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ওঠানামা, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন।
বাণিজ্য সম্প্রসারণে বেনাপোলের গুরুত্ব:
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজীব আহসান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে বেনাপোল স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে বন্দরের বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বেনাপোল স্থলবন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
নতুন ঠিকাদার নিয়োগে কার্যক্রমে গতি আনার প্রত্যাশা
বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান নৌপরিবহন মন্ত্রী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরের পণ্য ওঠানামা ও খালাস কার্যক্রমে আরও শৃঙ্খলা ও গতি আসবে। এর ফলে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কাজের আশ্বাস
বেনাপোল স্থলবন্দরের অন্যতম আলোচিত সমস্যা জলাবদ্ধতা নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বন্দরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। বৃষ্টির পানি জমে পণ্য পরিবহন ও বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর অবস্থানের কথা
বন্দরের কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, বন্দরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
সেবা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেবার মান বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধায় গুরুত্ব
মন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং অন্যান্য বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
দ্রুত পণ্য খালাস, পণ্য ওঠানামায় শৃঙ্খলা, আধুনিক অবকাঠামো এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমীন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন এবং ৯২৫ নম্বর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদ আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা মন্ত্রীকে বেনাপোল স্থলবন্দরের চলমান কার্যক্রম, অবকাঠামোগত পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজ সম্পর্কে অবহিত করেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রীর পূর্বঘোষণা ছাড়াই বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বন্দরের জলাবদ্ধতা নিরসন, পণ্য খালাসে গতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল স্থলবন্দরকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব বন্দরে পরিণত করতে পরিদর্শনকালে চিহ্নিত বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে,এমন প্রত্যাশা বন্দর ব্যবহারকারীদের।