বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বেনাপোল, যশোর: দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানি পণ্যের ঘোষণার আড়ালে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য খালাসের চেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি চালানে মাত্র ৫০০ কেজি বাটার ফ্লেভার আমদানির ঘোষণা দেওয়া হলেও কাস্টমসের অভিযানে ৬৭টি প্যাকেজে বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে বিপুলসংখ্যক ডিসপোভান সিরিঞ্জ, শাড়ি, পোশাক, ইমিটেশন পণ্য এবং পাউডারজাতীয় সামগ্রী। কাস্টমসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চালানটিতে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
রোববার রাতে (প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী) বেনাপোল স্থলবন্দরের ১৪ নম্বর শেডের সামনে একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোয়েন্দা সংস্থা আইআরএম। কাস্টমসের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ঘোষিত পণ্যের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য উদ্ধার করা হয়। তবে চালানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা, পণ্যগুলো কীভাবে বন্দরের ভেতরে স্থানান্তরিত হলো এবং কোন পর্যায়ে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে, তা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
ঘোষণায় ফ্লেভার, গাড়িতে মিলল বিভিন্ন ধরনের পণ্য
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেড গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল ভারত থেকে ২৫টি প্যাকেজে মোট ৫০০ কেজি বাটার ফ্লেভার আমদানি করে। চালানটির শুল্কায়ন ও খালাস কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজ।
প্রাথমিক কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষণ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চালানটির শুল্কায়ন সম্পন্ন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঘোষিত ফ্লেভারের সঙ্গে অতিরিক্ত পণ্য খালাসের চেষ্টা চলছে—এমন গোপন তথ্য পেয়ে কাস্টমসের গোয়েন্দা দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৬৫৪১ নম্বরের একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করা হয়। পরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধি, গাড়িচালক ও বন্দরের শ্রমিকদের উপস্থিতিতে গাড়ির তালা খুলে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে মোট ৬৭টি প্যাকেজে বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়া যায় বলে কাস্টমস সূত্রের দাবি।
এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—একটি ঘোষিত আমদানি চালানের সঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ ভিন্নধর্মী পণ্য কীভাবে একই কাভার্ড ভ্যানে উঠল? বন্দরের ভেতরে পণ্য ওঠানো, পরিবহন, তদারকি এবং খালাসের বিভিন্ন ধাপে কী ধরনের যাচাই করা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
জব্দ পণ্যের তালিকায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ডিসপোভান সিরিঞ্জ
কাস্টমস সূত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক কাভার্ড ভ্যান থেকে উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে—
১. বাটার ফ্লেভার: ২৫টি প্লাস্টিক জারে মোট ৫০০ কেজি।
২. ডিসপোভান সিরিঞ্জ: ২৫ কার্টনে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার পিস।
৩. ইমিটেশন পণ্য: দুই কার্টনে মোট ১১০ দশমিক ৭৭ কেজি।
৪. শাড়ি: পাঁচ কার্টনে মোট ৩০৩টি।
৫. ওড়না: ১৪টি।
৬. কামিজ: ১০টি।
৭. সালোয়ার: ৯টি।
৮. থ্রিপিস: ৩৮টি।
৯. টি-শার্ট: ১৭৯টি।
১০. প্যান্ট: ১২২টি।
১১. পাউডারজাতীয় পণ্য: আটটি ড্রামে মোট ২০০ কেজি।
এত বৈচিত্র্যময় পণ্য একটি ফ্লেভারের চালানের সঙ্গে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি আমদানি ঘোষণা, পণ্য শনাক্তকরণ, শুল্কায়ন এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশেষ করে ১ লাখ ৯৪ হাজার পিস ডিসপোভান সিরিঞ্জের মতো বিপুলসংখ্যক পণ্য চালানটিতে থাকার বিষয়টি আলাদা গুরুত্বের দাবি রাখে। এসব সিরিঞ্জের সুনির্দিষ্ট পণ্যের বিবরণ, আমদানি অনুমোদন, প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক শর্ত এবং শুল্ক-কর নির্ধারণসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন। তবে শুধু সংখ্যার ভিত্তিতে পণ্যগুলোর মান, নিরাপত্তা বা বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
একইভাবে পোশাক, ইমিটেশন সামগ্রী ও পাউডারজাতীয় পণ্যের আমদানি ঘোষণা, শ্রেণিবিন্যাস, মূল্যায়ন এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর পরিশোধের তথ্যও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
১২ নম্বর শেড থেকে পণ্য ওঠানোর তথ্য, আটক ১৪ নম্বর শেডের সামনে
কাস্টমস সূত্রের দাবি, ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যগুলো এর আগে বন্দরের ১২ নম্বর শেড থেকে কাভার্ড ভ্যানে তোলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৪ নম্বর শেডের সামনে গাড়িটি আটক করা হয়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের অভ্যন্তরীণ পণ্য চলাচলের রেকর্ড, গেটপাস, শেডভিত্তিক পণ্য ওঠানো-নামানোর নথি, সংশ্লিষ্ট চালানের কাগজপত্র এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি।
পণ্যগুলো কখন গাড়িতে তোলা হয়েছিল, কোন নথির ভিত্তিতে তোলা হয়েছিল, পণ্য ওঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না এবং গাড়িটি বন্দর থেকে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বন্দর এলাকায় পণ্য ওঠানো-নামানো ও পরিবহনের প্রতিটি ধাপে যথাযথ নথি সংরক্ষণ এবং কার্যকর তদারকি থাকলে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের অমিল দ্রুত শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়। এ ঘটনায় সেই ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য: হিসাবের ভিত্তি প্রকাশ জরুরি
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চালানটিতে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি সত্য হলে তা সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
তবে রাজস্ব ফাঁকির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের জন্য ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যের প্রকৃত আমদানি মূল্য, পণ্যের এইচএস কোড বা শুল্ক শ্রেণিবিন্যাস, প্রযোজ্য শুল্ক-কর, শুল্কায়নযোগ্য মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী হিসাবের ভিত্তি যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রতিবেদন, পণ্যভিত্তিক শুল্ক হিসাব এবং চূড়ান্ত নির্ধারিত রাজস্বের তথ্য প্রকাশ করা হলে ঘটনার আর্থিক গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হবে।
এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা কাস্টমসের প্রাথমিক হিসাব হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও চূড়ান্ত শুল্কায়নের আগে এটিকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ বা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
আহাদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স বাতিলের দাবি কাস্টমসের
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে কাগজপত্র প্রস্তুত, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া এবং পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট চালান, নথিপত্র এবং প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
তবে লাইসেন্স বাতিলের আদেশের তারিখ, আদেশ নম্বর, প্রযোজ্য বিধান, তদন্তের ফলাফল এবং আপিল বা পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ রয়েছে কি না—এসব তথ্য আনুষ্ঠানিক নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেড গ্রীন ইন্টারন্যাশনালের ভূমিকা, পণ্যের ঘোষণাপত্র প্রস্তুতকারী, সংশ্লিষ্ট পরিবহনব্যবস্থা এবং বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য ওঠানোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। তবে তদন্তে প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের বক্তব্য
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘোষিত ফ্লেভারের সঙ্গে থাকা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যসহ কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ চালানে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
কাস্টমসের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে রাজস্ব সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে অভিযানের পরবর্তী তদন্ত, জব্দ পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, চূড়ান্ত শুল্কায়ন এবং দায় নির্ধারণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।
কী কী বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন?
এ ঘটনায় শুধু একটি কাভার্ড ভ্যান আটক বা পণ্য জব্দের মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো চালানের নথিপত্র ও পণ্য চলাচলের ধারাবাহিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রথমত, ঘোষিত ৫০০ কেজি বাটার ফ্লেভারের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য কীভাবে যুক্ত হলো, তা নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ১২ নম্বর শেড থেকে পণ্য গাড়িতে তোলার সময় কোন নথি ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব কী ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যগুলোর আমদানি-সংক্রান্ত নথি, প্রকৃত মূল্য ও প্রযোজ্য শুল্ক-কর পরীক্ষা করা দরকার।
চতুর্থত, চালানটির প্রাথমিক কায়িক পরীক্ষা ও শুল্কায়নের সময় পণ্যের সঙ্গে ঘোষণার মিল পাওয়া গিয়েছিল বলে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ভিন্ন পণ্য পাওয়ার ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তবে এ তথ্য থেকে প্রাথমিক পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বিষয়টি নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।
পঞ্চমত, এ ধরনের চালানে জাল বা অসংগত নথি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, কোনো পণ্য অন্য চালানের সঙ্গে অদলবদল করা হয়েছিল কি না এবং বন্দর থেকে বের হওয়ার আগে নির্ধারিত যাচাইব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তাও পরীক্ষা করা যেতে পারে।
আইনের আওতায় দায় নির্ধারণের প্রশ্ন
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও শুল্ক ব্যবস্থায় পণ্যের প্রকৃত বিবরণ, মূল্য, শ্রেণিবিন্যাস এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক ফাঁকি বা অনুমোদনহীন পণ্য খালাসের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে কোন আইনের কোন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে তদন্তে পাওয়া তথ্য, পণ্যের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট নথি এবং প্রত্যেকের ভূমিকার ওপর। তাই এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট আইনগত ধারা, সম্ভাব্য জরিমানা বা শাস্তির বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে কাস্টমসের মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রযোজ্য বিধান যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থলবন্দরের রাজস্ব সুরক্ষায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি
বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই বন্দরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে বন্দরের পণ্য ব্যবস্থাপনা, শুল্কায়ন এবং খালাস প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতি এবং সরকারি রাজস্বের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি চালানে ঘোষণার বাইরে বিপুল পণ্য পাওয়ার দাবি সামনে আসার পর বন্দরের সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর ছিল, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করে প্রকৃত অনিয়ম শনাক্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি অনুসরণ করতে হবে।
এ ধরনের ঘটনায় কেবল পণ্য জব্দ করাই যথেষ্ট নয়; কীভাবে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলো, কোন পর্যায়ে তা শনাক্ত করা সম্ভব ছিল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদের পর্যবেক্ষণ
বেনাপোল স্থলবন্দরে ঘোষিত ফ্লেভারের চালানের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য পাওয়ার বিষয়ে কাস্টমসের দেওয়া তথ্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধানযোগ্য। বিশেষ করে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রাথমিক হিসাব, ১ লাখ ৯৪ হাজার পিস ডিসপোভান সিরিঞ্জ এবং বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও অন্যান্য পণ্য উদ্ধারের দাবি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি রাখে।
তবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে স্পষ্ট করা প্রয়োজন, কাস্টমসের অভিযোগ, প্রাথমিক হিসাব এবং তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত তথ্য এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁদের বক্তব্য গ্রহণ, প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা জরুরি।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, বৈধ আমদানিকারকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক; আর যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে না, তাঁদের অধিকারও যথাযথভাবে সুরক্ষিত থাকুক।
প্রতিবেদনের তথ্যসূত্র: বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সূত্রে পাওয়া তথ্য ও কমিশনার ফাইজুর রহমানের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, লাইসেন্স বাতিলের আদেশ, পূর্ণাঙ্গ জব্দ তালিকা এবং চূড়ান্ত রাজস্ব নির্ধারণের নথি পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করা হবে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ — জনতার কণ্ঠস্বর।
স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ — দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ