
“বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলেই যৌক্তিকভাবে নির্বাচন চায়”—মির্জা ফখরুল
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
২৬ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো সময় ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়নি—বরং গণতন্ত্রে আস্থাশীল বলেই দলটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলন করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
> “আমরা নির্বাচন চাই—কিন্তু সেটা অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। কারণ বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই জনগণের রায় প্রতিফলিত করে না। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল, সেজন্যই আমরা সংলাপ, সমঝোতা এবং যৌক্তিক ভিত্তির ওপর গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে।”
তিনি আরও বলেন,
> “আমরা ক্ষমতা দখলের জন্য রাজপথে নামিনি। আমরা মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে মাঠে নেমেছি। আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট—একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন।”
“ভোট ছিনতাই নয়, ভোটাধিকার চাই”
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিগত এক যুগে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম হয়েছে, যেখানে নির্বাচন একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
> “২০১৪ এবং ২০১৮ সালে কী হয়েছে, তা জাতি দেখেছে। ভোটের আগেই ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়েছিল, বিরোধী প্রার্থীদের আটকে রাখা হয়েছিল। আমরা এই নাটকের পুনরাবৃত্তি হতে দিতে পারি না।”
তিনি বলেন,
> “যদি আওয়ামী লীগ মনে করে তারা জনসচেতনতায় জিতে যাবে, তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন?”
“আলোচনার দ্বার খোলা, তবে শর্তহীন নয়”
বিএনপি মহাসচিব জানিয়েছেন, দলটি সংলাপ ও আলোচনার পক্ষপাতী, তবে তা হতে হবে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং পূর্বশর্ত মেনে।
> “আমরা কোনো প্রকার ভণ্ডামি মেনে নেব না। নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সমঝোতা ছাড়া কোনো সংলাপ ফলপ্রসূ হবে না।”
“সরকারের অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে”
সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে আবারও একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। তিনি বলেন,
> “বাংলাদেশের জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা আর একতরফা নির্বাচন মেনে নেবে না। গণআন্দোলন গড়ে উঠছে, ইনশাআল্লাহ এই সরকারকে বিদায় জানাতেই হবে।”
মির্জা ফখরুলের বক্তব্য একদিকে রাজনৈতিক দৃঢ়তা প্রকাশ করছে, অন্যদিকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—বিএনপি সহিংসতা নয়, বরং যুক্তি, সংলাপ ও ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়। এই অবস্থান তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি ও চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।