১৯ জুলাই ২০২৫
বিশেষ প্রতিবেদন : নাজমুল হাসান সিনিয়র এডিটর
বিএনপির প্রতিশ্রুতি ও প্রতিপালন: শহীদ পরিবারের পাশে, শহীদ মো. আবদুল্লাহ: তরুণ রক্তে রচিত একটি রাষ্ট্রের প্রশ্নচিহ্ন ও প্রতিরোধের ইতিহাস
বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতীক হয়ে ওঠে। শহীদ মো. আবদুল্লাহ সেই বিরল নামগুলোর একটি—যার জীবন ও মৃত্যু একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলে রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে, এবং জবাব হয়ে দাঁড়ায় তরুণদের প্রতিরোধে।
তিনি কেবল একজন ছাত্র ছিলেন না—তিনি ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান চর্চার এক বাস্তব অনুশীলনকারী। তাঁর রক্ত কেবল রাজপথে ঝরেনি, তা লাল করে গেছে গণতন্ত্রের বিবেককে। তাঁর মৃত্যুর পরে রাষ্ট্র নীরব থাকলেও, বিএনপি তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছে—এই রক্ত বৃথা যাবে না।
যশোরের বেনাপোল উপজেলার বড়আঁচড়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন মো. আবদুল্লাহ। তাঁর পরিবার বিএনপির ঘরানার আদর্শে বিশ্বাসী। শৈশব থেকেই আবদুল্লাহ ছিলেন সৎ, নির্লোভ, ও জিজ্ঞাসু চেতনার অধিকারী। তাঁর মধ্যে মা-বাবা গেঁথে দিয়েছিলেন যে বোধ—দেশকে ভালোবাসা মানেই অন্যায়ের কাছে মাথা না নত করা।
---
ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার সময়েই রাজনৈতিক চেতনার পূর্ণ বিকাশ ঘটে তাঁর। যেখানে অন্যান্যরা কেবল ডিগ্রির দিকে ছুটেছে, সেখানে আবদুল্লাহ রাষ্ট্রকে বুঝেছেন মানুষের কান্না, হাহাকার ও আশা দিয়ে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে, যখন গোটা দেশ ছায়ার নিচে হাঁটছিল—আবদুল্লাহ বেছে নিয়েছিলেন রাস্তাকে, প্রতিরোধকে।
তিনি রাজপথে ছিলেন, কিন্তু কোনো দলের ব্যানারে নয়—ছিলেন দেশের জন্য। কিন্তু হ্যাঁ, তাঁর রক্তে ছিল বিএনপির প্রতি এক গভীর আস্থা, এক ঐতিহাসিক সমর্থন—যা দলের প্রতি নয়, আদর্শের প্রতি।
---
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা। গণতান্ত্রিক মিছিল চলছিল ঢাকার বংশাল থানার সামনে তাঁতীবাজার মোড়ে। হঠাৎই পুলিশ ও শাসকগোষ্ঠীর সশস্ত্র বাহিনী মিছিলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাবার বুলেট, টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ—সবকিছু মুহূর্তেই নেমে আসে। সেই ভয়াল মুহূর্তে একজন আহত বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে আবদুল্লাহ নিজেই পড়ে যান পুলিশের বুলেটের সামনে। মাথা ও পিঠে গুরুতর আঘাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে ঢাকা সিএমএইচ-এ ভর্তি করা হয়।
---
শুরু হয় এক তরুণের রক্তাক্ত প্রতীক্ষা—১৪ নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ ১০০ দিন। আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, ইনজেকশন, স্যালাইন আর নিঃশব্দ কান্না। পাশে ছিলেন মা, সহপাঠী, কিছু রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। কিন্তু যাঁরা থাকার কথা ছিল—রাষ্ট্র, প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ—তাঁরা কেউ আসেননি।
এ যেন এক রাষ্ট্রনির্মিত হত্যাকাণ্ড, যার প্রত্যক্ষ খুনি অস্ত্রধারী বাহিনী, আর পরোক্ষ দায়ভার রাষ্ট্রের চুপ থাকায়।
---
শহীদের বিদায়: এক জনগণের সন্তানকে ফিরিয়ে আনা
১৫ নভেম্বর সকাল ১১টায় আবদুল্লাহর মরদেহ যখন তার জন্মভূমি বড়আঁচড়ায় পৌঁছায়, তখন কেবল একটি কফিন ফেরেনি—ফিরেছে একটি অবিচারের রক্তাক্ত দলিল। হাজারো মানুষ, ছাত্র, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা তাঁকে বিদায় জানায় অশ্রুভেজা কণ্ঠে। “তোমার রক্ত বৃথা যাবে না”—এটাই ছিল মানুষের শপথ।
---
শহীদ আবদুল্লাহ ছিলেন বিএনপি পরিবারের সন্তান। এবং আজও তাঁকে কেন্দ্র করেই বিএনপি নিজেদের নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
আলহাজ্ব নূরুজ্জামান লিটন, শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আবদুল্লাহর পরিবারের পাশে আছেন প্রথম দিন থেকে। তাঁর দুই ভাইকে তিনি বেনাপোল ৮৯১ হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নে সম্মানজনক দায়িত্বে যুক্ত করেছেন—শুধু কর্মসংস্থান নয়, সম্মানের প্রতীক হিসেবেও।
১/ জাহাঙ্গীর আলম বাবু
২/ নুর আলম হোসেন মিঠু
খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী সরাসরি তারেক রহমানের নির্দেশনায়, শহীদ পরিবারের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত।
তারেক রহমান, যিনি এখন শুধু দলের ভবিষ্যৎ নন, গণতন্ত্রের ন্যায়ভিত্তিক উত্তরসূরি—তিনি নিজে খোঁজ রাখছেন শহীদ পরিবারটির, এটিই প্রমাণ করে বিএনপি গণমানুষের দল, শুধু মিছিলের নয়—মানবিকতারও।
---
শহীদ আবদুল্লাহর উত্তরাধিকার: গণতন্ত্রের হৃদস্পন্দন
তাঁর মৃত্যু আমাদের সামনে রেখে গেছে তিনটি প্রশ্ন:
1. আমরা কি একজন তরুণের রক্তের দাম দিতে প্রস্তুত?
2. এ রাষ্ট্র কার? বন্দুকের, নাকি জনগণের?
3. যদি শহীদ আবদুল্লাহর মতো সাহসী একজন তরুণকে রক্ষা করতে না পারি—তবে আমরা কাদের রক্ষা করবো?
আবদুল্লাহ কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন না, কিন্তু তাঁর রক্ত গণতন্ত্রের চেয়ে বেশি দামি। তাঁর জীবন থেকে তৈরি হওয়া বার্তা—“একটি সত্যিকার গণতন্ত্র তরুণের রক্ত ছাড়া সম্ভব নয়।”
বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম মো. আবদুল্লাহ
জন্মস্থান বড়আঁচড়া, বেনাপোল, যশোর
বয়স (মৃত্যুকালে) ২৩ বছর
শিক্ষা শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ)
আহত হওয়ার তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৪
আঘাতস্থল তাঁতীবাজার মোড়, বংশাল থানা, ঢাকা
চিকিৎসা অবস্থানকাল ৫ আগস্ট – ১৪ নভেম্বর ২০২৪
মৃত্যু ১৪ নভেম্বর ২০২৪, সকাল, ঢাকা সিএমএইচ
দাফন ১৫ নভেম্বর ২০২৪, পারিবারিক কবরস্থান, বড়আঁচড়া
তাঁর রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে, আমাদের কণ্ঠস্বরকে আগুন বানাতে হবে।
তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ছিল বিএনপির মানবিক দায়—এখন সেটিই হয়ে উঠছে একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য।
“যেখানে গণতন্ত্র ব্যর্থ, সেখানে শহীদের রক্তেই জন্ম নেয় নতুন শাসনব্যবস্থা।”
আবদুল্লাহর জীবন শুধু প্রতিবাদের নয়—এটি বাংলাদেশের আগামী ইতিহাস রচনার সূচনা। তাঁর নামে ভবিষ্যতের তরুণরা শপথ নেবে, তাঁর রক্তে লেখা ইশতেহার থেকেই উত্থান হবে নতুন নেতৃত্বের, নতুন রাষ্ট্রের।
শহীদ আবদুল্লাহ—আপনি রক্ত দিলেন, আমরা দায়িত্ব নিলাম।
শহীদ মো. আবদুল্লাহর আত্মদান শুধু একটি পরিবারকে নয়, গোটা জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই বীর তরুণের রক্তের ঋণ শোধ করতে এবং তার পরিবারের প্রতি রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে সরে না আসার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং শার্শা আসনের জনপ্রিয় নেতা আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন।
এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন:
"আব্দুল্লাহর পরিবারের পাশে বিএনপি থাকবে—এটা কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটা শহীদের প্রতি জাতির ঋণ শোধের এক ক্ষুদ্র প্রয়াস।"
তিনি আরও জানান, "এই তরুণ শহীদের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্রের জন্য জীবন দেওয়া মানুষদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, এটি রাজনৈতিক শুদ্ধতারও প্রমাণ। ভবিষ্যতে আবদুল্লাহর পরিবার যাতে একা না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে।"
আলহাজ্ব লিটনের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক মূল্যবোধের বার্তা দেয়—যেখানে শহীদের রক্তকে কেবল স্মরণ নয়, বরং কাজের মাধ্যমে মর্যাদা দেওয়াই মুখ্য।