বাংলা মোটর ‘পুলিশ মার্ডার নাটক’ ছিল স্বৈরাচারী সরকারের পরিকল্পিত গুজব-যন্ত্র: রবিউল ইসলাম নয়নের বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্টে এনটিভির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা
তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক রিপোর্ট :
বাংলা মোটর ‘পুলিশ মার্ডার নাটক’ ছিল স্বৈরাচারী সরকারের পরিকল্পিত গুজব-যন্ত্র: রবিউল ইসলাম নয়নের বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্টে এনটিভির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা
২০১৪ সালে শেখ হাসিনার একতরফা শাসনের সময় সংঘটিত কথিত বাংলা মোটর পুলিশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে আবারও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার সেই সময়ের প্রত্যক্ষ নির্যাতিত রবিউল ইসলাম নয়ন মুখ খুলেছেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে নয়ন এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের খোলাসা করেছেন। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন এনটিভি সহ সরকারনিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের সময় ‘বাংলা মোটর মার্ডার’ নাটক সাজিয়ে গুজব ছড়ায়, এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে তাকে ও তার সহযোদ্ধাদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
নয়ন লিখেছেন:

“তারা আমাদেরকে ২০১৪ সালে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে বাংলা মোটরে পুলিশ মা*র্ডার মামলায় শহীদ জিয়াউর রহমান সাহেবের পরিবারের নামে ১৬৪ ধারায় মিথ্যা জবানবন্দী দিতে বাধ্য করতে চেয়েছিল। তারা আমাদেরকে মে/রে ফেলতে চেয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে শত নির্যাতন সহ্য করে আমরা ১৬৪ ধারায় জিয়া পরিবারের নামে জবানবন্দী করি নাই এবং আল্লাহর রহমতে এখনো বেঁচে আছি।”
যুবদল সভাপতি মুন্না বললেন: “নয়নকে দেখলেই বোঝা যায় রাষ্ট্রীয় নির্যাতন কী জিনিস”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মুনায়েম মুন্না নয়নের পোস্টটি তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার করে বলেন:
> “রবিউল ইসলাম নয়নের উপর কত অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে—এটা সহজেই বুঝতে পারবেন, যদি মনোযোগ দিয়ে তার মুখের অবয়বটি দেখেন। এই সাহসী নয়নরাই আওয়ামী লীগের কুখ্যাত শাসনকালের ১৫ বছর ৭ মাস জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়েছেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নয়নের মতো সাহসীরা ইতিহাসের অন্ধকার সময়ের জীবন্ত সাক্ষ্য হয়ে আছেন।
এনটিভি ও 'বাতাবি লেবু': শেখ হাসিনার শাসনামলের মিডিয়া ষড়যন্ত্র
নয়ন আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এনটিভি “বাতাবি লেবু” নামের একটি অনুষ্ঠানে পুরনো সেই সাজানো মামলার মিথ্যা তথ্য ফের প্রচার করে। এই অনুষ্ঠান ছিল একেবারে পরিকল্পিতভাবে “জিয়া পরিবার ও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের প্রোপাগান্ডা”।
তিনি বলেন:
> “বাতাবি লেবু এনটিভিতে প্রকাশ হয় সমস্ত মিথ্যা তথ্যের জন্য এনটিভির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু করতে চাই।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৪ সালে এনটিভি এবং সরকারপন্থী কয়েকটি মিডিয়া হয়ে ওঠে শেখ হাসিনা সরকারের ‘গুজব-যন্ত্র’। ফেক ভিডিও, সাজানো তথ্য, বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করে তারা বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেয়।
২০১৪ সালের প্রেক্ষাপট: তিন দিক দিয়ে পরিকল্পিত দমননীতি
সেদিনের বাংলা মোটর ঘটনার নাটক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল:
১. আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়া — একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভকে “জঙ্গি তৎপরতা” বলে চালিয়ে দেওয়া।
২. বিএনপিকে ভেঙে ফেলা — শহীদ জিয়ার পরিবারকে অভিযুক্ত করে নেতাকর্মীদের মনোবল ধ্বংস করা।
৩. মিডিয়া প্রোপাগান্ডা চালানো — এনটিভি, এটিএন, চ্যানেল আই সহ শেখ হাসিনা-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলোতে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে গণমানুষকে বিভ্রান্ত করা।
নয়নের ঘোষণা: “মিথ্যার রাজত্ব আর চলবে না”
রবিউল ইসলাম নয়ন বলেছেন, তিনি খুব শিগগিরই এনটিভির বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠাবেন এবং মানহানির মামলা করবেন। পাশাপাশি তিনি দাবি জানিয়েছেন—মিথ্যাচার, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের দায়ে সংশ্লিষ্টদের ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।
উপসংহার: এক নয়নের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে লক্ষ নির্যাতিত মানুষের প্রতিবাদ
আজকের বাংলাদেশ, যেখানে মিডিয়ার বড় অংশ এখনো সেই পুরনো ‘নির্বাচনী নাটক’ ও রাষ্ট্রীয় গুজব প্রচারের দায়ে অব্যাহতি ভোগ করছে—সেখানে একজন রবিউল ইসলাম নয়নের প্রতিবাদ নতুন সম্ভাবনার বার্তা দেয়।
তিনি শুধু নিজেকে নয়, এক গোটা প্রজন্মের মৌলিক অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন।