“বাংলা কি তোর বাপ দাদার?”— বিএনপি নেতা ইসরাক হোসেনের প্রতিবাদে তোলপাড়, এনসিপিকে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে আনলেন
ঢাকা | ১৯ জুলাই ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট :
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইসরাক হোসেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক জ্বালাময়ী বক্তব্যে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নব্য রাজাকারদের পাশাপাশি এনসিপি নামের একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করে বলেন—
> “বাংলা নয় তোর বাপ দাদার।”
“লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা তোমাদের বাপেরও না।”
ইসরাকের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট:
ইসরাক হোসেন তার পোস্টে উল্লেখ করেন,
> “খুনি হাসিনার অবৈধ ক্ষমতার জন্য যারা হুমকি হয়েছে, তাদেরকেই দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী— আমাদের জন্যে বাংলাদেশ আসলেই আমাদের বাপ-দাদার। আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর এই মাটিতে। তারা এখানে জন্মেছেন। এই মাটি আমাদের আত্মপরিচয়ের মূলভিত্তি।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
> “যারা আবারও পরাধীনতার বিনিময়ে কিছু পেতে চায়—তাদেরকে বাংলা ছাড়তে হবে।”
“সদ্য রাজনীতিতে আসা অনভিজ্ঞ বাচ্চারা যদি স্বৈরাচার কায়দায় ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়—তাদেরও ক্ষমতা ছাড়তে হবে।”
এনসিপিকে ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদী’ বলে ইঙ্গিত:
সম্প্রতি বিএনপি গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রতিবাদ জানালেও, এনসিপি চুপ করে ছিল। এরপর হঠাৎ করেই এনসিপি নেতৃবৃন্দ বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য ছড়াতে শুরু করেন। এই পটভূমিকায় ইসরাকের স্ট্যাটাস একধরনের কৌশলগত জবাব হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বার্তা: “বাংলা কার?”
“বাংলা কি তোর বাপ দাদার?”—এই স্লোগান এখন শুধু আওয়াজ নয়, প্রতিরোধের প্রতীক।
বিশেষ করে যেসব গোষ্ঠী নিজেদের সুযোগ-সুবিধার জন্য দেশ বিক্রির রাজনীতি করে,
চাঁদাবাজি-ভূমিদখল আর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে জনগণের শক্তিকে দুর্বল করে—
তাদের জন্যই এই বার্তা:
> বাংলাদেশ কারো একার না। শহীদদের রক্তে কেনা দেশটা জনতার।
সারজিস কাদের ও এনসিপির ভূমিকায় প্রশ্ন
নামমাত্র জাতীয়তাবাদ নিয়ে রাজনৈতিক আঙিনায় ঢুকে পড়া এনসিপি, যাদের অতীতে কোনো আন্দোলন বা আত্মত্যাগের ইতিহাস নেই, তারাই আজ বিএনপির মতো একটি ঐতিহাসিক ও আন্দোলনকেন্দ্রিক দলকে আক্রমণ করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন,
> “এনসিপি গণতন্ত্র রক্ষার চেয়ে বেশি আগ্রহী আওয়ামী ন্যারেটিভকে রক্ষা করতে।”
বাংলাদেশের ক্ষমতা, এর রাষ্ট্রব্যবস্থা কিংবা রাজনীতি—
সবকিছুর মূলে থাকা উচিত জনগণের অধিকার ও শহীদদের আত্মত্যাগ।
স্বৈরাচার হোক পুরনো বা নতুন, ফ্যাসিস্ট হোক আগাগোড়া—
এই দেশ তাদের একার না। এটা জনগণের।
> “শুনে রাখো পুরান বা নব্য রাজাকার বা স্বৈরাচার,
দেশটা আমার বাপ দাদার—
রক্ষাও আমারই করবো ইনশাআল্লাহ।”
— ইসরাক হোসেন