বাংলাদেশই বিএনপির প্রথম এবং শেষ ঠিকানা: তারেক রহমানের অঙ্গীকার
১২ জুলাই ২০২৫ | ঢাকা
"বাংলাদেশই বিএনপির প্রথম এবং শেষ ঠিকানা।"
এই একফাঁদা বাক্যে দেশের প্রতি বিএনপির চূড়ান্ত অঙ্গীকার তুলে ধরলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১২ জুলাই এক ভার্চুয়াল রাজনৈতিক সংলাপে যুক্ত হয়ে তিনি জাতির সামনে স্পষ্ট করে দিলেন, বিএনপি কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়—এটি এক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নাম, যার ভিত্তি গড়ে উঠেছে জনগণের আস্থা, ভালোবাসা এবং স্বাধীনতার চেতনায়।
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা
তারেক রহমান বলেন,
“যে জাতি আমাদের বারবার ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছে, তাদের সঙ্গে বেঈমানি করা আমাদের রাজনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী। দেশের জনগণই বিএনপির আসল শক্তি।”
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সবসময় জনগণের ওপর আস্থা রেখে চলেছে, এবং যে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সেই জনআস্থাকেই ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
আদর্শের ভিত্তি: দেশপ্রেম ও গণতন্ত্র
বক্তব্যে তারেক রহমান বারবার জোর দেন—বিএনপি কখনো ক্ষমতালিপ্সু শক্তির কাছে মাথানত করেনি, করবেও না। দলের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার।
> “আমরা বিদেশি চাপের রাজনীতি করি না। বিদেশি চক্রান্তের অংশীদার হই না। আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তে বিদেশ নয়, দেশের মানুষই একমাত্র নিয়ামক শক্তি,” — বলেন তিনি।
জনআন্দোলনের পথেই ভবিষ্যৎ
তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দেন, বর্তমান স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পন্থাতেই সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। কোনো সেনা সমর্থিত, বিচারবহির্ভূত বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী শক্তির সাথে আপস করবে না।
তিনি বলেন—
> “যে পথ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন, আমরা সেই পথেই আছি। একমাত্র জনগণই আমাদের রাজনীতির চালক এবং গন্তব্য।”
বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ:
দিক বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক চাপ তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট, বিএনপি বিদেশি হস্তক্ষেপ বা প্রভাবের বিরুদ্ধে।
সাংগঠনিক অবকাঠামো দেশে ও প্রবাসে ছড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের একত্রিত করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তিনি।
তরুণ নেতৃত্ব ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, “তরুণরাই আগামীর বিএনপি।”
সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সত্যভিত্তিক গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানে জনগণের স্বাধীনতা।”
ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সামরিক–বেসামরিক শক্তিকে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনার ডাক দিয়েছেন।
একটি জাতির স্বপ্নযাত্রা
এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং এক মহাসংকল্পের ঘোষণা। একটি দেশ যখন দুঃসময় পার করছে, তখন তারেক রহমানের কণ্ঠে উঠে আসছে সেই সাহসিকতার সুর, যা একমাত্র একজন দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক নেতার পক্ষেই সম্ভব।
“বাংলাদেশই আমাদের স্বপ্ন, আমাদের সংগ্রাম, আমাদের ভবিষ্যৎ। এই মাতৃভূমির জন্যই আমরা বাঁচি, এই দেশের জন্যই আমরা লড়ি।”