বগুড়ায় তৃণমূলের গণদাবি: রাজপথের লড়াকু সৈনিক সরোয়ার হোসেন জুয়েলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও সসম্মানে পুনর্বহাল এখন সময়ের দাবি
[নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া] শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের উর্বর ভূমি এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়া জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক যুবদল নেতা সরোয়ার হোসেন জুয়েল-এর ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে এখন উত্তাল তৃণমূল। সাধারণ নেতাকর্মীদের মতে, ষড়যন্ত্রের জালে আটকে পড়া এই বীর সেনানীকে সপদে সসম্মানে ফিরিয়ে আনা কেবল সময়ের দাবিই নয়, বরং সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য।

ছাত্র রাজনীতি থেকে যুবদল: এক ত্যাগী ও সাহসী পথচলা
সরোয়ার হোসেন জুয়েল কোনো নামসর্বস্ব নেতা নন; তিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক লড়াকু সৈনিক। বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সহ-সংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি লড়াইয়ে তার কণ্ঠ ছিল সোচ্চার। পরবর্তীতে যুবদলের রাজনীতিতেও তিনি নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছেন। জেল-জুলুম, হুলিয়া আর অসংখ্য মিথ্যা মামলাও তাকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
ষড়যন্ত্রের শিকার ও অন্যায্য বহিষ্কার
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি সুবিধাবাদী ও ঈর্ষান্বিত চক্র সরোয়ার হোসেন জুয়েলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং সাধারণ কর্মীদের ওপর তার প্রভাব দেখে ভীত হয়ে পড়েছিল। সেই চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে তাকে বহিষ্কারের পথে ঠেলে দেয়। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এই নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যা দলের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।
কেন জুয়েলকে সপদে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন?
বগুড়া জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের দাবি, জুয়েলকে ছাড়া রাজপথের আন্দোলন পূর্ণতা পায় না। তার সসম্মানে পুনর্বহালের সপক্ষে প্রধান কারণগুলো হলো:
সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ: জুয়েলের মতো অভিজ্ঞ সংগঠক দূরে থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। তাকে ফিরিয়ে আনলে ঝিমিয়ে পড়া কর্মীরা নতুন প্রাণ পাবে।
আদর্শিক দৃঢ়তা: বহিষ্কারের দীর্ঘ সময় পার হলেও জুয়েল অন্য কোনো দলে যোগ দেননি বা আদর্শ বিচ্যুত হননি। তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি জিয়া পরিবারের একজন নিঃস্বার্থ ও আজীবন সৈনিক।
তৃণমূলের আস্থা: সাধারণ কর্মীদের বিপদে-আপদে তিনি সবসময় ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার মতো জনপ্রিয় নেতাকে বহিষ্কার রাখা মানে তৃণমূলের আবেগকে অবমূল্যায়ন করা।
ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজয়: তাকে সপদে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে, দলে ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো স্থান নেই এবং ত্যাগী নেতারাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন।
বগুড়া বিএনপির দুর্গ রক্ষায় আল্টিমেটাম
বগুড়ার বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ একাত্ম হয়ে জানিয়েছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন দেশ কলঙ্কমুক্ত হওয়ার পথে, তখন দলের ভেতরের আগাছা পরিষ্কার করে জুয়েলের মতো খাঁটি সোনাদের কাজে লাগানো উচিত। তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃত্বের কাছে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন—অবিলম্বে সরোয়ার হোসেন জুয়েলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে তার প্রাপ্য সম্মান ও পদে আসীন করা হোক।

সরোয়ার হোসেন জুয়েল কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি বগুড়ার হাজারো ছাত্র ও যুবকর্মীর অনুপ্রেরণা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান ঘটিয়ে তাকে সসম্মানে ফিরিয়ে দেওয়া হলে তা হবে দলের জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। রাজপথের কর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় নেতার বীরত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য।