কদলপুরে আওয়ামী লীগের ‘জুলুমবাজ’ সিন্ডিকেট এখন বিএনপির ত্রাস!
বইঙ্গে জামাল ও বদুরু: ১৭ বছরের পাহাড়খেকো ও চালচোর থেকে রাতারাতি ‘হাইব্রিড’ নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাউজান |
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নে গত ১৭ বছরের বিভীষিকা হিসেবে পরিচিত দুই নাম ‘বইঙ্গে জামাল’ এবং তার দোসর ‘বদুরু’। আওয়ামী শাসনামলে পাহাড় কাটা, বালু দস্যুতা এবং সাধারণ মানুষের ত্রাণ আত্মসাতের মাধ্যমে অপরাধের পাহাড় গড়া এই দুই ব্যক্তি এখন রাতারাতি ভোল বদলে বিএনপির পদবি ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। তাদের এই ধূর্তামিতে ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিএনপি এবং দিশেহারা কদলপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের (সমশের পাড়া) সাধারণ মানুষ।
ফজলে করিম ও তছলিম চেয়ারম্যানের ‘কালেক্টর’ বাহিনী
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগে বইঙ্গে জামাল ও বদুরু ছিল রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী এবং কদলপুরের পলাতক চেয়ারম্যান তছলিম উদ্দীনের ছায়াসঙ্গী। এলাকায় যে কোনো উন্নয়ন কাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জমি দখল—সবই নিয়ন্ত্রিত হতো এই ‘জামাল-বদুরু’ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
তাদের প্রধান অপরাধসমূহ একনজরে: ১. পাহাড় ও বালু দস্যুতা: ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সমশের পাড়া এলাকায় বিঘার পর বিঘা সরকারি পাহাড় কেটে মাটির ব্যবসা করেছেন তারা। কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই অবৈধ বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই দুই সুযোগ সন্ধানী। ২. গরিবের ত্রাণ আত্মসাৎ: টিআইবি কার্ডের চাল, তেল ও ডাল সাধারণ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ না করে তারা গুদাম থেকে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে শত শত গ্রামবাসীর অভিযোগ রয়েছে। ৩. নির্বাচনী সন্ত্রাস: বিগত তিনটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে তারা সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান এবং বিরোধী মতের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানোর প্রধান হোতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

সন্ত্রাসী ও ডাকাত চক্রের সাথে গোপন আঁতাত
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বইঙ্গে জামালের সাথে বর্তমানে বিদেশে (কাতারে) পলাতক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুর্ধর্ষ ডাকাত লোকমানের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ৫ আগস্টের পর পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে এলাকার ভেতরের খবরাখবর এবং কারা সংস্কারপন্থী তাদের তথ্য পাচার করছে এই জামাল। লোকমানের সন্ত্রাসী বাহিনীকে এলাকায় সক্রিয় রাখতে জামাল ও বদুরু অর্থ জোগান দিচ্ছে বলেও গোপন সূত্রে জানা গেছে।
৫ আগস্টের পর ‘ভোল বদল’: বিএনপির ভাবমূর্তি সংকটে
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন এলাকার আওয়ামী ক্যাডাররা আত্মগোপনে, তখন বইঙ্গে জামাল ও বদুরু শুরু করেছেন নতুন খেলা। নিজেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ‘সভাপতি’ এবং প্রভাবশালী নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে তারা এখন এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
তৃণমূলের ক্ষোভ: কদলপুর ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক ত্যাগী নেতা বলেন, "যারা ১৭ বছর আমাদের রক্ত চুষেছে, জেলে পাঠিয়েছে, আজ তারা কোন মুখে বিএনপির নেতা হয়? এই হাইব্রিড জামাল ও বদুরু মূলত নিজেদের চামড়া বাঁচাতে এবং অবৈধ সম্পদ রক্ষা করতে দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।"
এলাকাবাসীর আল্টিমেটাম
কদলপুরের সমশের পাড়ার সাধারণ মানুষ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অবিলম্বে এই দুই ‘কুখ্যাত’ ব্যক্তির হাত থেকে এলাকাকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এই ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দিলে বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগ ধুলোয় মিশে যাবে।
দাবিগুলো হলো:
অবিলম্বে বইঙ্গে জামাল ও বদুরু-র বিরুদ্ধে দলীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
তাদের ১৭ বছরের অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্ত।
পাহাড় কাটা ও ত্রাণ আত্মসাতের দায়ে আইনি বিচার নিশ্চিত করা।