‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নারীদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনায় তারেক রহমান: “এই নারীরাই ছিলেন ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম কণ্ঠ”
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক রিপোর্ট
তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৫
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা, যার শিরোনাম ছিল ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নারীদের অবদান’।
আলোচনা সভার প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন:
> “এই দেশের নারীরা কখনোই নীরব দর্শক ছিল না। ২০২৪ সালের বর্বর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রথম সাহসী উচ্চারণ এসেছিল ঘর থেকে বেরিয়ে আসা একেকজন মা, বোন ও শিক্ষিত নারীর কণ্ঠে। এই নারীরাই ছিলেন ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম কণ্ঠ, প্রথম প্রতিরোধ।”
তিনি আরও বলেন:
> “জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তাতে মহিলা দলের ভূমিকা শুধু সহায়ক নয়, নেতৃত্বমূলক ছিল। আর সেই আত্মত্যাগ ভুলে গেলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেন:
> “নারীরা ঘরে-বাইরে একযোগে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। পুলিশি হামলায় আহত হয়েছিলেন অনেকে, গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শতাধিক নারী নেত্রী। কিন্তু ভয় পাননি, থামেননি।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, এবং মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।
> “ফ্যাসিবাদী দমননীতি নারী-পুরুষ কাউকেই রেহাই দেয়নি, তবে নারীদের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও অপমান ছিল পরিকল্পিত এবং নৈতিকভাবে নিন্দনীয়। তবু নারীরা ছিলেন দৃঢ়, অবিচল এবং সাহসী।”
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মহিলা দল নেত্রীরা। তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন— কীভাবে তাঁরা মাঠে থেকে গণজাগরণে অংশ নিয়েছিলেন, কীভাবে পেশাগত ও পারিবারিক চাপের মুখেও আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং আগামী দিনে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীদের আরো কার্যকর অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।