প্রবাসীর ঘামে গড়া স্বপ্ন, সেলিম রানার নেতৃত্বে মানবিকতার নতুন প্রত্যয়
দুঃসময়ে প্রবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ’
বিশেষ প্রতিবেদন
প্রবাস মানেই শুধু বিদেশের মাটিতে কর্মসংস্থান নয়। প্রবাস মানে দীর্ঘ বিচ্ছেদ, অজানা পরিবেশে সংগ্রাম, প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রম এবং বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা অসংখ্য স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে থাকে পরিবার, সন্তান, বাবা-মা এবং প্রিয় মাতৃভূমি।
ভোরের আজান তখনো শেষ হয়নি। শহরের আকাশে অন্ধকার, চারপাশে নীরবতা। অথচ প্রবাসী রফিকের ঘুম ভেঙে গেছে। ক্লান্ত শরীর নিয়ে হাতে তুলে নিলেন মোবাইল ফোন। পরিবারের কাছ থেকে একটি বার্তা এসেছে—‘বাবা, সংসারের খরচের টাকা পাঠাতে হবে। পারলে আজ কিছু টাকা পাঠিও।’
বার্তাটি পড়ার পর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন রফিক। বিদেশের মাটিতে কাটানো প্রতিটি দিনের বাস্তবতা যেন মুহূর্তেই চোখের সামনে ভেসে উঠল। এরপর নিজেকে শক্ত করে বললেন, ‘আমি তো এজন্যই হাজার হাজার মাইল দূরে।’
রফিক কোনো একক চরিত্র নন। তাঁর মতো অসংখ্য প্রবাসীর জীবন প্রতিদিন এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। নিজের পরিবারকে ভালো রাখতে তারা পরিবার থেকেই দূরে থাকেন। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের হাসি বিসর্জন দেন। বাবা-মায়ের চিকিৎসার জন্য নিজের প্রয়োজনকে পিছিয়ে দেন। একটি ঘর নির্মাণের স্বপ্নে বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে শ্রম দেন।
প্রবাসীদের এই ত্যাগের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, অসংখ্য পরিবারের জীবনযাত্রা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন।
কেউ সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বিদেশে যান। কেউ পরিবারের অভাব দূর করতে প্রবাসজীবন বেছে নেন। কেউ বাবা-মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। আবার কেউ নিজের জীবনের সঞ্চয় দিয়ে পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেন।
কিন্তু এই পথ কখনোই সহজ নয়।
প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, একাকিত্ব, কর্মক্ষেত্রের চাপ, চাকরির অনিশ্চয়তা, বেতন আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা, ভিসা ও কাগজপত্রের জটিলতা, প্রতারণা, অসুস্থতা কিংবা পারিবারিক সংকট—বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়।
সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত আসে তখন, যখন বিপদে পড়ে একজন প্রবাসী বুঝতে পারেন—তিনি আপনজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে।
এই জায়গাতেই প্রয়োজন হয় একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়ানোর।
প্রবাসীর দুঃখে প্রবাসীর পাশে দাঁড়ানো, সমস্যার কথা শোনা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো উদ্যোগ একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের কাছে হয়ে উঠতে পারে বড় আশ্বাস।
এই মানবিক ভাবনা থেকেই প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় সামনে নিয়ে এসেছে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ’।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রানা। প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের মানবিক সহায়তা দেওয়া, সচেতনতা সৃষ্টি এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
সেলিম রানা: প্রবাসীদের জন্য একটি মানবিক ভাবনা
একটি সংগঠন গড়ে তোলা যতটা সহজ মনে হয়, সেটিকে মানুষের কল্যাণে কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এগিয়ে নেওয়া ততটাই চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে প্রবাসীদের মতো বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানে থাকা একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগে প্রয়োজন হয় আন্তরিকতা, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা।
এই জায়গায় প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রানার উদ্যোগকে সামনে রাখা যায়।
প্রবাসীদের কষ্ট ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি মানবিক সংগঠন গড়ে তোলার চিন্তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। কারণ প্রবাসীরা শুধু অর্থ উপার্জন করে দেশে টাকা পাঠান না; তাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের আবেগ, ত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যাশা।
সেলিম রানার নেতৃত্বে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ’ সেই প্রবাসীদের জন্য একটি সহযোগিতামূলক ও মানবিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রত্যয় সামনে এনেছে।
তাঁর বক্তব্যের মূল দর্শনও স্পষ্ট—প্রবাসীদের কোনো সংকটকে একা একজন মানুষের সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। একজন প্রবাসীর সমস্যার সঙ্গে তার পরিবার, সন্তান, বাবা-মা এবং ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে।
সেলিম রানা বলেন, ‘প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না; তারা দেশের অর্থনীতি ও পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম প্রধান শক্তি। তাই বিপদের সময় কোনো প্রবাসীকে একা থাকতে দেওয়া যাবে না।’
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর উদ্যোগের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই সামনে আসে।
প্রবাসীর কষ্ট বোঝার জন্য প্রয়োজন মানবিক হৃদয়
প্রবাসীদের নিয়ে নানা আলোচনা হয়। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা হয়, দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু একজন প্রবাসী প্রতিদিন কীভাবে জীবনযাপন করেন, পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকে কীভাবে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করেন, সন্তানের অসুস্থতার খবর শুনে কীভাবে কর্মস্থলে দাঁড়িয়ে থাকেন কিংবা বাবা-মায়ের প্রয়োজনের সময় দূরত্বের কষ্ট কীভাবে সহ্য করেন—এই মানবিক গল্পগুলো অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ সেই মানবিক দিকটিকে সামনে আনতে চায়।
একজন প্রবাসীর বিপদের সময় তার পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা নয়। কখনো একটি সঠিক পরামর্শ, কখনো একটি ফোনকল, কখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা শুধু বিপদগ্রস্ত মানুষের কথা মন দিয়ে শোনাও হতে পারে বড় সহায়তা।
সেলিম রানার নেতৃত্বাধীন এই সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য সেই সহযোগিতার জায়গাটিকেই শক্তিশালী করা।
‘প্রবাসী একা নয়’—এই বার্তাই সংগঠনের মূল শক্তি
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা হলো—কোনো প্রবাসী যেন নিজেকে একা মনে না করেন।
বিদেশের মাটিতে বিপদে পড়লে একজন প্রবাসী যেন জানেন, তাঁর কথা শোনার মতো মানুষ আছেন। তাঁর সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার মতো একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম আছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জায়গায় বিষয়টি তুলে ধরার মতো একটি উদ্যোগ রয়েছে।
এই ভাবনা বাস্তবায়নে সংগঠনের সামনে রয়েছে দীর্ঘ পথ। আর সেই পথের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রানা।
প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করার জন্য শুধু সাংগঠনিক কাঠামো যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বিশ্বাস ও আস্থা। প্রবাসীদের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করা যে, তাদের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হবে—এটাই হতে পারে একটি মানবিক সংগঠনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে শ্রম দিয়ে অর্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে তারা পরিবারের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও অবদান রাখছেন।
একজন প্রবাসীর পাঠানো অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা হয়। কোনো পরিবারের সন্তানের পড়াশোনা চালু থাকে। কারও চিকিৎসা হয়। কারও ঘর নির্মাণ হয়। কারও ব্যবসা শুরু হয়।
অর্থাৎ একজন প্রবাসীর উপার্জনের সঙ্গে শুধু একটি ব্যাংক লেনদেনের সম্পর্ক নেই; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের জীবন ও স্বপ্ন।
এই কারণেই ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ শব্দটির মধ্যে রয়েছে গভীর সম্মান।
তারা দেশের বাইরে থাকেন, কিন্তু দেশের অর্থনীতি ও পরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট থাকে। তাদের শ্রমের মূল্য শুধু টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা যায় না।
একজন প্রবাসীর পেছনে থাকে একটি পরিবার
প্রবাসী যখন বিমানবন্দরে বিদায় নেন, তখন শুধু একজন মানুষ বিদেশে যান না। তাঁর সঙ্গে পরিবারের প্রত্যাশাও বিদেশে পাড়ি জমায়।
বাবা অপেক্ষা করেন সন্তানের জন্য। মা অপেক্ষা করেন ছেলের ফোনের জন্য। স্ত্রী অপেক্ষা করেন স্বামীর ফেরার দিনের জন্য। সন্তান অপেক্ষা করে বাবার পাঠানো উপহার কিংবা ভিডিও কলে দেখা মুখটির জন্য।
এই অপেক্ষার মধ্যেই চলে প্রবাসীর জীবন।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করার পরও অনেক প্রবাসী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের কষ্টের কথা না বলে পরিবারের সবাইকে ভালো থাকার কথা বলেন। নিজের অসুস্থতা লুকিয়ে সন্তানের পড়াশোনার খবর নেন।
এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ তাই নিছক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নয়; এটি মানবিক দায়িত্বের একটি প্রকাশ।
সেলিম রানার নেতৃত্বে ঐক্যের আহ্বান
প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তাদের ঐক্য। একজনের অভিজ্ঞতা অন্যজনকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। একজনের সহযোগিতা অন্য একজনের কঠিন সময় সহজ করে দিতে পারে।
এই ঐক্যের জায়গাটিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ কাজ করতে চায়।
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রানার উদ্যোগে সংগঠনটির মূল বার্তা হলো—প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং মানবিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা।
তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করার মতো একটি দিক হলো, প্রবাসীদের কেবল অর্থ পাঠানোর মানুষ হিসেবে না দেখে তাদের মানুষ হিসেবে, পরিবার হিসেবে এবং অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে দেখার চেষ্টা।
প্রবাসীদের জন্য একটি মানবিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার এই চিন্তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।
মানবিক সংগঠন হিসেবে সামনে দীর্ঘ সম্ভাবনা
যেকোনো সংগঠনের কার্যক্রমকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বাস্তবমুখী কর্মকাণ্ড। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রবাসীদের সমস্যা চিহ্নিত করা, সচেতনতা তৈরি করা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া, বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য মানবিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা—এসব কার্যক্রম সংগঠনটির মানবিক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে পারে।
আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রানার নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সেলিম রানাকে ঘিরে প্রত্যাশা
প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা কোনো সহজ দায়িত্ব নয়। কারণ এই জনগোষ্ঠী বিভিন্ন দেশ, ভাষা, পেশা ও বাস্তবতায় ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও ঐক্য তৈরি করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
সেলিম রানা সেই কঠিন কাজের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ কতটা বিস্তৃত ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।
তবে প্রবাসীদের জন্য মানবিক একটি সংগঠন গড়ে তোলার চিন্তা এবং ‘প্রবাসী একা নয়’—এই বার্তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করে।
প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ যদি আরও সুসংগঠিত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য এটি একটি আস্থার জায়গায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
প্রবাসীর ঘামে বাংলাদেশের স্বপ্ন
প্রবাসীর ঘাম শুধু বিদেশের মাটিতে পড়ে না। সেই ঘামের প্রতিটি ফোঁটার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বাংলাদেশের একটি পরিবারের গল্প।
কোনো মায়ের মুখের হাসি, কোনো বাবার চিকিৎসা, কোনো সন্তানের বই-খাতা, কোনো পরিবারের নতুন ঘর—সবকিছুর পেছনে থাকতে পারে একজন প্রবাসীর নিরলস শ্রম।
তাই প্রবাসীদের সম্মান করা মানে শুধু তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রশংসা করা নয়। তাদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার চেষ্টা করাও সেই সম্মানের অংশ।
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ সেই মানবিক দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।
আর এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান মুখ প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রানা।
প্রবাসীদের জন্য একটি সংগঠন গড়ে তোলার তাঁর উদ্যোগ, মানবিক সহযোগিতার প্রত্যয় এবং প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান প্রশংসার দাবি রাখে।
কারণ প্রবাসীরা দেশের বাইরে থাকলেও তাদের হৃদয়ে বাংলাদেশ থাকে।
তারা দূরে থাকেন, কিন্তু দেশের অর্থনীতি, পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং স্বজনদের স্বপ্নের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কখনো দূরে যায় না।
সেই মানুষগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকারই হতে পারে সবচেয়ে বড় মানবিকতা।
‘প্রবাসী একা নয়—প্রবাসীর পাশে আমরা’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সেলিম রানার নেতৃত্বে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ আরও বিস্তৃত মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের।
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ সেলিম রানা
স্লোগান:
‘প্রবাসীর পাশে, মানবতার আশ্বাস—ঐক্যবদ্ধ প্রবাসী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।’