১৮ জুলাই ২০২৫
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট :
পিআর: বাংলাদেশের জন্য একটি জঘন্য রাজনৈতিক মডেল কেন অগ্রহণযোগ্য
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা বহু সংগ্রাম আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাজাকারের অতীত এবং মৌলবাদী শক্তির পুনরুত্থান ঠেকানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন অবস্থায় ‘পি-আর’ নামে প্রস্তাবিত আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা দেশের গণতন্ত্রের জন্য জঘন্য ফাঁদ।
---
১. সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটাধিকার নস্যাৎ করে গোষ্ঠীর বলবৎকরণ
পি-আরের মূল সমস্যা হলো—এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সরাসরি ভোটাধিকার সীমিত হয়। জনগণের ভোটের ক্ষমতা ভাগ হয়ে ছোট ছোট গোষ্ঠী বা দলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের মত রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা থাকায়, এ ধরণের ভোটবিভাজন একাধিক মৌলবাদী বা সেক্টরীয় গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসার সুযোগ করে দেয়।
---
২. রাজাকারের রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ
চরমোনাইসহ একাত্তরের রাজাকারদের উত্তরসূরি মৌলবাদী দলগুলো এ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃত্রিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা সৃষ্টি করে সংসদে প্রবেশের চেষ্টা করে। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও দেশের ঐতিহ্য বিপন্ন হয়। গণতন্ত্রের নামে ধর্মের কুৎসিত রাজনৈতিক শাসন কায়েমের পথ প্রশস্ত হয়।
---
৩. সংবিধান ও গণতন্ত্রের মূল কাঠামোর ব্যত্যয়
বাংলাদেশের সংবিধান সরাসরি নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে। পি-আর ব্যবস্থায় সংবিধানের মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উপেক্ষিত হয়, যা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে। গোষ্ঠীগত কোটা রাজনীতির কারণে আইনপ্রণেতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়।
---
৪. দেশীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে অসঙ্গতি
বাংলাদেশে ভোট ও রাজনীতির ঐতিহ্য ‘জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ’। পি-আর ব্যবস্থায় ভোটার ও প্রার্থী মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। এতে ভোটারদের রাজনৈতিক ক্ষমতাও হ্রাস পায়।
---
৫. সুযোগ সুবিধা দিয়ে দুর্নীতির পথ প্রশস্ত
গোষ্ঠীভিত্তিক কোটা ব্যবস্থা রাজনৈতিক দুর্নীতি ও সমঝোতার জন্ম দেয়, যেখানে কামরার অন্ধকার দলালী রাজনীতি জোরদার হয়। এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও দুর্বল ও প্রভাবশালী হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
---
পি-আর সিস্টেম বাংলাদেশে শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার, যার মাধ্যমে রাজাকার ও মৌলবাদী অপশক্তি পুনরায় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পাবে। তাই গণতন্ত্রের শুদ্ধতা রক্ষায়, জনগণের ভোটাধিকার ও দেশের ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই পি-আর ব্যবস্থা অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতে হবে।