৫ আগস্ট ২০২৫ | সময়: ১২:৩০ PM
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
www.bangladeshprothomsangbad.com
“পকেটের পুলিশ নয়, পেশার প্রতি নিষ্ঠাবান হতে হবে” — ডিআইজি রেজাউল হক, পিপিএম
খুলনা – ৫ আগস্টের প্রেক্ষিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্টানে খুলনা রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, পিপিএম, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব, জনমানসের প্রতিক্রিয়া এবং সমাজে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত অবস্থান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী বক্তব্য প্রদান করেছেন।
ডিআইজি রেজাউল হক তার বক্তব্যে বলেন:
আমাদের সবার আগে সাহস থাকতে হবে—সাদা কে সাদা, আর কালো কে কালো বলার। এই সততার সাহস আমাদের ভেতরে জাগাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন:
“প্রতিদিন আমরা পুলিশকে ভালো কাজের পরামর্শ দেই—কীভাবে কাজ করবে, কী করলে ভালো হয়। কিন্তু দিন শেষে আমরা নিজেরাই পুলিশের প্রতি নানা অভিযোগ করি, দুর্নাম ছড়াই। তাই সমাজকে পরিবর্তনের আগে আমাদের নিজেদের মনোভাব পাল্টাতে হবে।”
এই বক্তব্য উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। অনেকেই বলেন, বর্তমানে যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট ও আত্মসমালোচনামূলক বক্তব্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি বনাম পুলিশি বিবেক
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ডিআইজি রেজাউল হকের বক্তব্য একটি ব্যতিক্রমী অবস্থান উপস্থাপন করে, যেখানে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও বিবেকের স্থানটি পুনরায় সামনে আসে।
সমাজের ভূমিকা: সমালোচক না সহযাত্রী?
ডিআইজি রেজাউল হকের বক্তব্য একটি মৌলিক প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত করে—
আমরা কি শুধু পুলিশের সমালোচনাকারী?
নাকি আমরা তাদের পেশাদার মান উন্নয়নে সহযাত্রী হতে প্রস্তুত?
বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগ বহু সীমাবদ্ধতার মাঝেও প্রতিনিয়ত পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং জনসেবার মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রয়াসের মূল্যায়ন করা, যথাযথ সমালোচনা ও প্রাপ্য প্রশংসা দেওয়াই একটি সচেতন সমাজের দায়িত্ব।
পকেটের পুলিশ নয়, পেশার প্রতি দায়বদ্ধ পুলিশই ভবিষ্যতের চিত্র নির্মাণ করবে।